৩৭ স্থাপনা নির্মাণে জমি মেলেনি
jugantor
মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর
৩৭ স্থাপনা নির্মাণে জমি মেলেনি
প্রকল্পের মেয়াদ আছে মাত্র ১ বছর * কাজ শুরু হয়নি ৫২টি স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের * জমি না পাওয়াই প্রধান বাধা -পিডি

  উবায়দুল্লাহ বাদল  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের ৪ বছর পার হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯৩টি উপজেলায় ৩৬০টি ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।

৪ বছরে ১০৪টি স্মৃতিসৌধ ও ১৪টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও কাজই শুরু হয়নি ৫২টি স্থাপনার। এমনকি এর মধ্যে ৩৭টি স্থাপনা নির্মাণের জন্য মেলেনি কাঙ্ক্ষিত জমি।

অথচ জুনেই (২০২২) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তবে প্রকল্পের জন্য কাঙ্ক্ষিত জমি না পাওয়াই বাস্তবায়নে প্রধান বাধা বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বলা হয়, এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ৬০.৭৫ ভাগ।

আর বাস্তব অগ্রগতিতে বলা হয়েছে, ১০৪টি স্মৃতিসৌধ ও ১৪টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ শেষ হয়েছে। ১৪৯টি স্মৃতিসৌধ ও ৪১টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাকিম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আগের চেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার অনেক ভালো। এ পর্যন্ত ১১৮টি স্থাপনার কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছি। ১৯০টির নির্মাণ কাজ চলছে। ৩৭টি স্থাপনার জন্য জমি কিছুতেই পাচ্ছি না। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাঙ্ক্ষিত জমি পাওয়াই প্রধান সমস্যা। জমি পাওয়ার বিষয়টি ঠিক করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আশা করি শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হবে।’

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ দেশব্যাপী সংঘটিত হলেও সঠিক পরিসংখ্যানসহ সব ঐতিহাসিক স্থান এখনও চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।

এমন প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে মন্ত্রণালয় একটি তালিকা সংগ্রহ করে। এ তালিকার মধ্য হতে গুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৩৬০টি স্থান সংরক্ষণের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

সূত্র জানায়, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বিবেচনায় ৪৭টি স্থানকে ‘টাইপ-এ’ এবং স্থানীয়/আঞ্চলিক পর্যায়ে গুরুত্ব বিবেচনায় ৩১৩টি স্থানকে ‘টাইপ-বি’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। টাইপ এ ক্যাটাগরির স্থাপনায় আটটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ভাস্কর্য/স্মৃতিস্তম্ভ/ম্যুরাল/টেরাকোটা নির্মাণসহ অন্যান্য পাবলিক সুবিধা থাকবে।

বাকি ৩৯টিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। এগুলোতে লাইব্রেরি, ছোট আকারের সম্মেলনকক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ থাকবে। অন্যদিকে টাইপ বি-এর অন্তর্ভুক্ত ৩১৩ স্থানে আয়তকার দুটি স্তম্ভ এবং বেদী স্থাপনসহ দর্শনার্থীদের বসার জায়গা, শিশুদের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা ও খাবারের দোকান থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে এসব স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি জাদুঘরে। বর্তমানে স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট জাতীয় ঘটনাগুলোতে বিভিন্ন অনির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশেই নির্ধারিত স্থান সংরক্ষিত হবে। তখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এসব স্থানেই হবে এ জাতীয় সব অনুষ্ঠান। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মহিমা সমুন্নত রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর

৩৭ স্থাপনা নির্মাণে জমি মেলেনি

প্রকল্পের মেয়াদ আছে মাত্র ১ বছর * কাজ শুরু হয়নি ৫২টি স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের * জমি না পাওয়াই প্রধান বাধা -পিডি
 উবায়দুল্লাহ বাদল 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের ৪ বছর পার হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯৩টি উপজেলায় ৩৬০টি ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।

৪ বছরে ১০৪টি স্মৃতিসৌধ ও ১৪টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও কাজই শুরু হয়নি ৫২টি স্থাপনার। এমনকি এর মধ্যে ৩৭টি স্থাপনা নির্মাণের জন্য মেলেনি কাঙ্ক্ষিত জমি।

অথচ জুনেই (২০২২) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তবে প্রকল্পের জন্য কাঙ্ক্ষিত জমি না পাওয়াই বাস্তবায়নে প্রধান বাধা বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বলা হয়, এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ৬০.৭৫ ভাগ।

আর বাস্তব অগ্রগতিতে বলা হয়েছে, ১০৪টি স্মৃতিসৌধ ও ১৪টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ শেষ হয়েছে। ১৪৯টি স্মৃতিসৌধ ও ৪১টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। 

প্রকল্প পরিচালক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাকিম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আগের চেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার অনেক ভালো। এ পর্যন্ত ১১৮টি স্থাপনার কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছি। ১৯০টির নির্মাণ কাজ চলছে। ৩৭টি স্থাপনার জন্য জমি কিছুতেই পাচ্ছি না। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাঙ্ক্ষিত জমি পাওয়াই প্রধান সমস্যা। জমি পাওয়ার বিষয়টি ঠিক করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আশা করি শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হবে।’ 

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ দেশব্যাপী সংঘটিত হলেও সঠিক পরিসংখ্যানসহ সব ঐতিহাসিক স্থান এখনও চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।

এমন প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে মন্ত্রণালয় একটি তালিকা সংগ্রহ করে। এ তালিকার মধ্য হতে গুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৩৬০টি স্থান সংরক্ষণের জন্য চিহ্নিত করা হয়। 

সূত্র জানায়, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বিবেচনায় ৪৭টি স্থানকে ‘টাইপ-এ’ এবং স্থানীয়/আঞ্চলিক পর্যায়ে গুরুত্ব বিবেচনায় ৩১৩টি স্থানকে ‘টাইপ-বি’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। টাইপ এ ক্যাটাগরির স্থাপনায় আটটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ভাস্কর্য/স্মৃতিস্তম্ভ/ম্যুরাল/টেরাকোটা নির্মাণসহ অন্যান্য পাবলিক সুবিধা থাকবে।

বাকি ৩৯টিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। এগুলোতে লাইব্রেরি, ছোট আকারের সম্মেলনকক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ থাকবে। অন্যদিকে টাইপ বি-এর অন্তর্ভুক্ত ৩১৩ স্থানে আয়তকার দুটি স্তম্ভ এবং বেদী স্থাপনসহ দর্শনার্থীদের বসার জায়গা, শিশুদের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা ও খাবারের দোকান থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে এসব স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি জাদুঘরে। বর্তমানে স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট জাতীয় ঘটনাগুলোতে বিভিন্ন অনির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশেই নির্ধারিত স্থান সংরক্ষিত হবে। তখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এসব স্থানেই হবে এ জাতীয় সব অনুষ্ঠান। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মহিমা সমুন্নত রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন