খালেদা জিয়ার হার্টের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার হার্টের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হার্ট ও কিডনিতে সমস্যা রয়েছে। এ দুটি সমস্যা নিয়ে তার চিকিৎসকরা বেশ উদ্বিগ্ন। দেশের হাসপাতালগুলোয় তার এ সমস্যাগুলোর চিকিৎসা সম্ভব নয়। তার দেশের বাইরে আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। দেশে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের মধ্যে এরাই বেশ বড় মাপের বিশেষজ্ঞ। তাদের সর্বশেষ যে বক্তব্য, সেটা হচ্ছে-বিএনপির চেয়ারপারসনের কোভিড-পরবর্তী যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেগুলো এখন মোটামুটি ভালো। তার মূল যে সমস্যাগুলো, তা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন, তার চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে যে হাসপাতাল, সেন্টারগুলো আছে, এগুলো যথেষ্ট নয়। খালেদা জিয়ার যে বয়স, অসুখ, সেই বিবেচনায় উন্নত সেন্টারে যাওয়া দরকার এবং জরুরি।

মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, আজ ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ওপরে কী চলছে? বলেন, কোন আইনে ম্যাডামকে আটকে রেখেছেন। আপনারা বলেন সাজাপ্রাপ্ত, ধরে নিলাম সাজাপ্রাপ্ত। ১৭ বছরের সাজা হয়েছে, সেও তো জামিনে আছে। তো ম্যাডামের ব্যাপারে এই অবিচার কেন? একটাই কারণ, আপনাদের যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে হবে। গণতন্ত্র মুখের কথা, বইয়ের কথা। আমাদের কাছে অস্ত্র, আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র আছে, আমরা ক্ষমতায় থাকব, তোমরা কী করতে পার, কর। খালেদা জিয়া ১১ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। ৪ জুন থেকে তিনি হাসপাতালের কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং রিমান্ডে হয়রানির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার ব্যাপারে হঠাৎ করে একটা অডিও ক্লিপ ছাড়ল। তাতে কী দেখাচ্ছে? সেখানে সে (নিপুণ) নির্দেশ দিচ্ছে তার কেরানীগঞ্জের কর্মীকে যে তুমি জ্বালিয়ে দাও। আপনারা খুব ভালো করে জানেন, আজকাল টেকনোলজি এমন একটা জায়গায় গেছে, যে কোনো জিনিস তৈরি করা খুব কঠিন কাজ নয়।

তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হলো। ৫ দিন, ৭ দিন, ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হলা, রিমান্ড আর শেষ হয় না। আবার তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার অপরাধ দুইটা। এক, তুমি মহিলা। তুমি এত অ্যাকটিভ কেন? দুই হচ্ছে তুমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়ে। তুমি এত কথা বল কেন আমাদের বিরুদ্ধে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আসলাম চৌধুরীর কী অপরাধ? যেটা দেখতে পাই ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেনি। তাই বলে তাকে ৫ বছর জেলে থাকতে হবে? আর ওই যে আপনাদের যে অ্যাডভাইজার যিনি করোনা নিয়েও আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করলেন, যার হাজার হাজার কোটি টাকা লোন হয়ে আছে, একটা দিনের জন্যও গ্রেফতার করলেন না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রের কবর রচনা হয়ে গেছে। ভেরি রিসেন্টলি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে গিয়ে সরকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দাওয়াত করেছিলেন। তার আসাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, আপনারা বেশির ভাগই যেটা বলেছেন হেফাজতের তাণ্ডব। আমি এই শব্দটার সঙ্গে একেবারেই একমত নই। তাণ্ডব তো করেছে সরকার। অত্যন্ত ঠান্ডামাথায়, পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তারা এ তাণ্ডব করেছে এবং নাম দিয়েছে হেফাজতের তাণ্ডব। তিনি বলেন, সরকার ও সরকারের সন্ত্রাসীরা গুলি করে কমপক্ষে ২০ জনকে হত্যা করেছে। আমরা তার প্রতিবাদ করেছিলাম। সরকার সব আলেম-ওলামাকে গ্রেফতার শুরু করল। ২৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ২০০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনোদিন শুনিনি পৃথিবীতে যে নির্বাচন করার জন্য পুলিশকে পদক দেওয়া হয়। একটাই কারণ, তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে। সেজন্য এসপি সাহেবরা বলেন দেশটা আমরা চালাই। কনস্টেবলরা বলেন মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ অবস্থার জন্য সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিকভাবে যদি জীবিত থাকতে চান, তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকে রুদ্ধ করবেন না। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চাটা করতে দেবেন। জনগণকে কথা বলতে দেবেন, বাকস্বাধীনতা রাখবেন। কারণ এটা আমাদের একার সমস্যা নয়। জেলখানায় শুধু আমরা একা যাইনি, আপনারাও বহুবার গেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় কে কতবার কান ধরে ওঠবস করেছেন, তা সবাই জানে। এগুলো ভুলে যাবেন না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বর্তমান সরকারকে ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ সরকার বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্র চলছে যে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তাতে আমার মনে হয়, মোর দেন ৬০% উপরের কর্তৃত্ব হলো বাইরের। আর লেস দেন ৪০% হলো আমাদের কর্তৃত্ব। পুত্রবধূ নিপুণ রায়কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গয়েশ্বর চন্দ্র। তিনি বলেন, আমি তাকে আমার কর্মীর মতো মনে করি। আই ফিল প্রাউড, তার মতো কর্মীই দরকার। আর সে যদি দেশের জন্য জীবন দেয়, মুশতাকের (কারাগারে মারা যাওয়া কার্টুনিস্ট মুশতাক আহমেদ) মতো ভাগ্যবরণ করে, তাহলে আমি চোখের জল ফেলব না। দেশ মুক্ত হলে খালেদা জিয়া ও নিপুণও মুক্তি পাবে।

নিপুণ রায় চৌধুরীর বাবা দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমার মেয়ে জেলখানায় অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে। তার জন্ডিস হয়েছে, সেটাও আমাদের জানানো হয়নি। তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয় না, কথা বলতে পারি না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নিপুণ রায় চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়ার হার্টের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হার্ট ও কিডনিতে সমস্যা রয়েছে। এ দুটি সমস্যা নিয়ে তার চিকিৎসকরা বেশ উদ্বিগ্ন। দেশের হাসপাতালগুলোয় তার এ সমস্যাগুলোর চিকিৎসা সম্ভব নয়। তার দেশের বাইরে আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। দেশে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের মধ্যে এরাই বেশ বড় মাপের বিশেষজ্ঞ। তাদের সর্বশেষ যে বক্তব্য, সেটা হচ্ছে-বিএনপির চেয়ারপারসনের কোভিড-পরবর্তী যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেগুলো এখন মোটামুটি ভালো। তার মূল যে সমস্যাগুলো, তা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন, তার চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে যে হাসপাতাল, সেন্টারগুলো আছে, এগুলো যথেষ্ট নয়। খালেদা জিয়ার যে বয়স, অসুখ, সেই বিবেচনায় উন্নত সেন্টারে যাওয়া দরকার এবং জরুরি।

মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, আজ ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ওপরে কী চলছে? বলেন, কোন আইনে ম্যাডামকে আটকে রেখেছেন। আপনারা বলেন সাজাপ্রাপ্ত, ধরে নিলাম সাজাপ্রাপ্ত। ১৭ বছরের সাজা হয়েছে, সেও তো জামিনে আছে। তো ম্যাডামের ব্যাপারে এই অবিচার কেন? একটাই কারণ, আপনাদের যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে হবে। গণতন্ত্র মুখের কথা, বইয়ের কথা। আমাদের কাছে অস্ত্র, আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র আছে, আমরা ক্ষমতায় থাকব, তোমরা কী করতে পার, কর। খালেদা জিয়া ১১ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। ৪ জুন থেকে তিনি হাসপাতালের কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং রিমান্ডে হয়রানির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার ব্যাপারে হঠাৎ করে একটা অডিও ক্লিপ ছাড়ল। তাতে কী দেখাচ্ছে? সেখানে সে (নিপুণ) নির্দেশ দিচ্ছে তার কেরানীগঞ্জের কর্মীকে যে তুমি জ্বালিয়ে দাও। আপনারা খুব ভালো করে জানেন, আজকাল টেকনোলজি এমন একটা জায়গায় গেছে, যে কোনো জিনিস তৈরি করা খুব কঠিন কাজ নয়।

তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হলো। ৫ দিন, ৭ দিন, ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হলা, রিমান্ড আর শেষ হয় না। আবার তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার অপরাধ দুইটা। এক, তুমি মহিলা। তুমি এত অ্যাকটিভ কেন? দুই হচ্ছে তুমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়ে। তুমি এত কথা বল কেন আমাদের বিরুদ্ধে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আসলাম চৌধুরীর কী অপরাধ? যেটা দেখতে পাই ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেনি। তাই বলে তাকে ৫ বছর জেলে থাকতে হবে? আর ওই যে আপনাদের যে অ্যাডভাইজার যিনি করোনা নিয়েও আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করলেন, যার হাজার হাজার কোটি টাকা লোন হয়ে আছে, একটা দিনের জন্যও গ্রেফতার করলেন না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রের কবর রচনা হয়ে গেছে। ভেরি রিসেন্টলি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে গিয়ে সরকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দাওয়াত করেছিলেন। তার আসাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, আপনারা বেশির ভাগই যেটা বলেছেন হেফাজতের তাণ্ডব। আমি এই শব্দটার সঙ্গে একেবারেই একমত নই। তাণ্ডব তো করেছে সরকার। অত্যন্ত ঠান্ডামাথায়, পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তারা এ তাণ্ডব করেছে এবং নাম দিয়েছে হেফাজতের তাণ্ডব। তিনি বলেন, সরকার ও সরকারের সন্ত্রাসীরা গুলি করে কমপক্ষে ২০ জনকে হত্যা করেছে। আমরা তার প্রতিবাদ করেছিলাম। সরকার সব আলেম-ওলামাকে গ্রেফতার শুরু করল। ২৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ২০০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনোদিন শুনিনি পৃথিবীতে যে নির্বাচন করার জন্য পুলিশকে পদক দেওয়া হয়। একটাই কারণ, তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে। সেজন্য এসপি সাহেবরা বলেন দেশটা আমরা চালাই। কনস্টেবলরা বলেন মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ অবস্থার জন্য সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিকভাবে যদি জীবিত থাকতে চান, তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকে রুদ্ধ করবেন না। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চাটা করতে দেবেন। জনগণকে কথা বলতে দেবেন, বাকস্বাধীনতা রাখবেন। কারণ এটা আমাদের একার সমস্যা নয়। জেলখানায় শুধু আমরা একা যাইনি, আপনারাও বহুবার গেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় কে কতবার কান ধরে ওঠবস করেছেন, তা সবাই জানে। এগুলো ভুলে যাবেন না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বর্তমান সরকারকে ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ সরকার বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্র চলছে যে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তাতে আমার মনে হয়, মোর দেন ৬০% উপরের কর্তৃত্ব হলো বাইরের। আর লেস দেন ৪০% হলো আমাদের কর্তৃত্ব। পুত্রবধূ নিপুণ রায়কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গয়েশ্বর চন্দ্র। তিনি বলেন, আমি তাকে আমার কর্মীর মতো মনে করি। আই ফিল প্রাউড, তার মতো কর্মীই দরকার। আর সে যদি দেশের জন্য জীবন দেয়, মুশতাকের (কারাগারে মারা যাওয়া কার্টুনিস্ট মুশতাক আহমেদ) মতো ভাগ্যবরণ করে, তাহলে আমি চোখের জল ফেলব না। দেশ মুক্ত হলে খালেদা জিয়া ও নিপুণও মুক্তি পাবে।

নিপুণ রায় চৌধুরীর বাবা দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমার মেয়ে জেলখানায় অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে। তার জন্ডিস হয়েছে, সেটাও আমাদের জানানো হয়নি। তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয় না, কথা বলতে পারি না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নিপুণ রায় চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন