মিলারদের কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম
jugantor
করোনায় নাজেহাল ভোক্তা
মিলারদের কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কিছুতেই চালের বাজারে নৈরাজ্য কমানো যাচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে নানা অজুহাতে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। কখনো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া আবার কখনো সরবরাহে ঘাটতি বলে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়েছে।

চলতি বছর সর্বশেষ ধানের দাম বাড়তির অজুহাতে এক মাসের ব্যবধানে মিলাররা প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে। ফলে পাইকাররা মিল পর্যায় থেকেই বাড়তি দরে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্রিও করছেন বাড়তি দরে।

এতে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দরের চাপ ভোক্তার ওপর এসে পড়েছে। এতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাড়তি দরে চাল কিনতে নাজেহাল হচ্ছেন ভোক্তা।

শুক্রবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্য মূল্যতালিকায় চালের দাম বাড়ার চিত্র লক্ষ করা গেছে। তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে-মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সরু চালের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মাঝারি আকারের চালের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং কেজিপ্রতি মোটা চালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এছাড়া গত বছর একই সময়ের তুলনায়ও প্রতি কেজি চাল সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারসাজি করে মিলারদের চালের দাম বাড়ানোর কথা খোদ খাদ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনেও বলেছেন। এছাড়া চালের দাম কমাতে খাদ্যমন্ত্রী দফায় দফায় মিলারদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে চালের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও কিছুদিন পরই নানা অজুহাতে মিলাররা বাড়তি দরেই চাল বিক্রি করছেন।

সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ধান-চালের বাজারে কাউকে সিন্ডিকেট করতে দেওয়া হবে না। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বাজার দর ও মজুতের ওপর দৃষ্টি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ধান সংগ্রহ করবে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৫ মার্চ সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মোট মজুত ছিল ১৭ লাখ ৫১ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৪ হাজার ২৯ লাখ টন এবং গম ৩ লাখ ২২ হাজার টন। জুলাইয়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৫ লাখ ১৪ হাজার টন। আগস্টে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার টন। সেপ্টেম্বরে আরও কমে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টন। অক্টোবরে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১০ লাখ ৮১ হাজার টন। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের ৮ জুন পর্যন্ত সরকারি গুদামে ১০ লাখ ৮৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। এর মধ্যে চাল ৭ লাখ ৮৫ টন ও গম ৩ লাখ ৪ হাজার টন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মিলাররা যে অজুহাতই দেখাক, আসল বিষয় হচ্ছে সরকারের গুদামে চালের মজুত কম। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ত্রাণ সহায়তায় সরকারি গুদাম থেকে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এতে সরকারের গুদামে চালের মজুত কমার কারণে মিলাররা সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়িয়েছে। সেদিকেও সরকারের অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। মজুত বাড়ানো, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমাতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে।

শুক্রবার মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০০ টাকা। বিআর-২৮ প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২১৫০ টাকা, যা এক মাস আগে ২০৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চালের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২১০০ টাকা, যা এক মাস আগে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে, মিল পর্যায়ে বস্তাপ্রতি চালে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বেড়েছে।

এদিন রাজধানীর পাইকারি আড়ত ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ২৮০০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৬০০ টাকায়। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ২২০০ টাকা, যা এক মাস আগেও ২১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ২২০০ টাকা, যা ২০ দিন আগেও ২১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিলারদের কারসাজি কেউ থামাতে পারছে না। তারাই চালের বাজার অস্থির করে রেখেছে। কিন্তু বাজারে চালের কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। হাতে গোনা কয়েকটি বড় মিল মালিক কিছুদিন পর পর নানা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েই যাচ্ছে।

সর্বশেষ ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে মিল পর্যায় থেকে নতুন বাড়তি দর বেঁধে দিয়েছে। সেই বাড়তি দরেই চাল কিনে আনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দরে। প্রভাব খুচরা পর্যায়ে ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে।

চালের দাম বাড়ার কারণ হিসাবে নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে ধানের দাম বৃদ্ধি। কৃষকরা ধান ঘরে মজুত করে। হাটবাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বেশি আয়ের আশায়। সে কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ধান কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে চালের দাম বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৪ টাকা, যা এক মাস আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিআর ২৮ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৪ টাকা, যা এক মাস আগে ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৪৫-৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, দাম কমাতে বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি চাল নিয়ে সরকারি মজুত বাড়াতে হবে। আমদানি করে চালের সরবরাহ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে অসাধুরা সুযোগ পাবে না। পাশাপাশি কঠোর তদারকির মাধ্যমে দাম ভোক্তা সহনীয় করতে হবে।

জানতে চাইলে বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পর্যায়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। মিল পর্যায়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম সামনে এলেই আইনের আওতায় আনা হবে।

করোনায় নাজেহাল ভোক্তা

মিলারদের কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কিছুতেই চালের বাজারে নৈরাজ্য কমানো যাচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে নানা অজুহাতে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। কখনো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া আবার কখনো সরবরাহে ঘাটতি বলে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়েছে।

চলতি বছর সর্বশেষ ধানের দাম বাড়তির অজুহাতে এক মাসের ব্যবধানে মিলাররা প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে। ফলে পাইকাররা মিল পর্যায় থেকেই বাড়তি দরে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্রিও করছেন বাড়তি দরে।

এতে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দরের চাপ ভোক্তার ওপর এসে পড়েছে। এতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাড়তি দরে চাল কিনতে নাজেহাল হচ্ছেন ভোক্তা।

শুক্রবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্য মূল্যতালিকায় চালের দাম বাড়ার চিত্র লক্ষ করা গেছে। তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে-মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সরু চালের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মাঝারি আকারের চালের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং কেজিপ্রতি মোটা চালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এছাড়া গত বছর একই সময়ের তুলনায়ও প্রতি কেজি চাল সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারসাজি করে মিলারদের চালের দাম বাড়ানোর কথা খোদ খাদ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনেও বলেছেন। এছাড়া চালের দাম কমাতে খাদ্যমন্ত্রী দফায় দফায় মিলারদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে চালের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও কিছুদিন পরই নানা অজুহাতে মিলাররা বাড়তি দরেই চাল বিক্রি করছেন।

সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ধান-চালের বাজারে কাউকে সিন্ডিকেট করতে দেওয়া হবে না। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বাজার দর ও মজুতের ওপর দৃষ্টি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ধান সংগ্রহ করবে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৫ মার্চ সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মোট মজুত ছিল ১৭ লাখ ৫১ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৪ হাজার ২৯ লাখ টন এবং গম ৩ লাখ ২২ হাজার টন। জুলাইয়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৫ লাখ ১৪ হাজার টন। আগস্টে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার টন। সেপ্টেম্বরে আরও কমে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টন। অক্টোবরে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১০ লাখ ৮১ হাজার টন। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের ৮ জুন পর্যন্ত সরকারি গুদামে ১০ লাখ ৮৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। এর মধ্যে চাল ৭ লাখ ৮৫ টন ও গম ৩ লাখ ৪ হাজার টন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মিলাররা যে অজুহাতই দেখাক, আসল বিষয় হচ্ছে সরকারের গুদামে চালের মজুত কম। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ত্রাণ সহায়তায় সরকারি গুদাম থেকে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এতে সরকারের গুদামে চালের মজুত কমার কারণে মিলাররা সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়িয়েছে। সেদিকেও সরকারের অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। মজুত বাড়ানো, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমাতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে।

শুক্রবার মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০০ টাকা। বিআর-২৮ প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২১৫০ টাকা, যা এক মাস আগে ২০৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চালের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২১০০ টাকা, যা এক মাস আগে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে, মিল পর্যায়ে বস্তাপ্রতি চালে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বেড়েছে।

এদিন রাজধানীর পাইকারি আড়ত ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ২৮০০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৬০০ টাকায়। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ২২০০ টাকা, যা এক মাস আগেও ২১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ২২০০ টাকা, যা ২০ দিন আগেও ২১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিলারদের কারসাজি কেউ থামাতে পারছে না। তারাই চালের বাজার অস্থির করে রেখেছে। কিন্তু বাজারে চালের কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। হাতে গোনা কয়েকটি বড় মিল মালিক কিছুদিন পর পর নানা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েই যাচ্ছে।

সর্বশেষ ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে মিল পর্যায় থেকে নতুন বাড়তি দর বেঁধে দিয়েছে। সেই বাড়তি দরেই চাল কিনে আনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দরে। প্রভাব খুচরা পর্যায়ে ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে।

চালের দাম বাড়ার কারণ হিসাবে নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে ধানের দাম বৃদ্ধি। কৃষকরা ধান ঘরে মজুত করে। হাটবাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বেশি আয়ের আশায়। সে কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ধান কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে চালের দাম বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৪ টাকা, যা এক মাস আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিআর ২৮ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৪ টাকা, যা এক মাস আগে ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৪৫-৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, দাম কমাতে বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি চাল নিয়ে সরকারি মজুত বাড়াতে হবে। আমদানি করে চালের সরবরাহ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে অসাধুরা সুযোগ পাবে না। পাশাপাশি কঠোর তদারকির মাধ্যমে দাম ভোক্তা সহনীয় করতে হবে।

জানতে চাইলে বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পর্যায়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। মিল পর্যায়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম সামনে এলেই আইনের আওতায় আনা হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন