বেত্রাঘাতের পর গৃহবধূর আত্মহনন
jugantor
সাতক্ষীরায় ফতোয়া
বেত্রাঘাতের পর গৃহবধূর আত্মহনন

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

১৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মহনন

‘তুই একটা নষ্টা মেয়ে, তোকে শাস্তি পেতেই হবে’- এমন ফতোয়া দিয়ে সাতক্ষীরায় এক গৃহবধূকে ৫১ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে। তাকে তওবাও পড়ানো হয়। এ অপমানে ক্ষোভ ও দুঃখে ওই গৃহবধূ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। সদর উপজেলার বৈকারি ইউনিয়নের মৃগীডাঙা গ্রামে গৃহবধূ রোকেয়া খাতুনের (২৫) শ্বশুরবাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফতোয়া ও বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার ঘরের আড়ায় ওড়নায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।

শনিবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রোকেয়ার হতভাগ্য বাবা মফিজুল ইসলাম জানান, ফতোয়া ও বেত্রাঘাত করে তার মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রোকেয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য তিনি এরশাদ, সাইফুল ইসলাম, এরশাদের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ও মওলানা আবুল খায়েরের বিচার দাবি করেন।

বৈকারি ইউনিয়নের কাথন্ডা গ্রামের মফিজুল আরও জানান, আট বছর আগে রোকেয়ার সঙ্গে মৃগীডাঙা গ্রামের আবু জাফরের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সামিয়া নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সাদ্দামের বোনজামাই ইস্রাফিলের কুনজর পড়ে রোকেয়ার ওপর। বিভিন্ন সময় ইস্রাফিল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। এরই মধ্যে ৬ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে রোকেয়া হঠাৎ নিখোঁজ হয়। গুজব ওঠে ইস্রাফিল তার বোনজামাই এরশাদের সহায়তায় রোকেয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। ৯ জুন রোকেয়াকে নিয়ে এরশাদ ফিরে আসে এবং শ্বশুরবাড়িতে তাকে রেখে যায়। এসব ঘটনা জেনেও সাদ্দাম, তার বাবা আবু জাফর ও শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যরা রোকেয়াকে গ্রহণ করে সাদ্দামের সংসার করার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মফিজুল ইসলাম জানান, একদিন পর এরশাদ তার শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ও এলাকার হাজি সাইফুল ইসলাম রোকেয়াদের বাড়িতে আসেন। সেখানে তারা রোকেয়াকে নষ্টা মেয়ে বলে আখ্যায়িত করেন। নানাভাবে বকাবকি ও হুমকি-ধমকি দেন। তারা বলেন, তিন দিন রোকেয়া ঘরের বাইরে ছিল। তাকে ঘরে তুলতে হলে ফতোয়া নিতে হবে। এক পর্যায়ে ওই তিনজন ফতোয়া দেন- রোকেয়াকে তওবা করতে হবে এবং ৫১টি বেত্রাঘাত গ্রহণ করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত তাকে এ বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না। এমনকি তাকে গ্রামছাড়া করা হবে। তাদের হুমকি ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি ফতোয়া মেনে নিতে বাধ্য হন।

মফিজুল ইসলাম জানান, রোকেয়াকে তওবা করান মৃগীডাঙা গ্রামের মসজিদের ইমাম মওলানা আবুল খায়ের। এর কিছুক্ষণ পর রোকেয়াকে হাজি সাইফুল বেত্রাঘাত করা শুরু করেন। এ সময় সাইফুলের হাত থেকে বেত কেড়ে নিয়ে এরশাদ নিজেই রোকেয়াকে বেত্রাঘাত করে। বেত্রাঘাতে রোকেয়া গুরুতর আহত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন সকালে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রোকেয়ার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ দাফন করা হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই স্বপন কুমার মণ্ডল জানান, ওই বাড়িতে গিয়ে ফতোয়ার বিষয়টি তিনি তদন্ত করেছেন। ফতোয়া ও বেত্রাঘাতের সঙ্গে রোকেয়ার আত্মহত্যার বিষয়টি জড়িত কিনা সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরায় ফতোয়া

বেত্রাঘাতের পর গৃহবধূর আত্মহনন

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
১৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আত্মহনন
প্রতীকী ছবি

‘তুই একটা নষ্টা মেয়ে, তোকে শাস্তি পেতেই হবে’- এমন ফতোয়া দিয়ে সাতক্ষীরায় এক গৃহবধূকে ৫১ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে। তাকে তওবাও পড়ানো হয়। এ অপমানে ক্ষোভ ও দুঃখে ওই গৃহবধূ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। সদর উপজেলার বৈকারি ইউনিয়নের মৃগীডাঙা গ্রামে গৃহবধূ রোকেয়া খাতুনের (২৫) শ্বশুরবাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফতোয়া ও বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার ঘরের আড়ায় ওড়নায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।

শনিবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রোকেয়ার হতভাগ্য বাবা মফিজুল ইসলাম জানান, ফতোয়া ও বেত্রাঘাত করে তার মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রোকেয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য তিনি এরশাদ, সাইফুল ইসলাম, এরশাদের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ও মওলানা আবুল খায়েরের বিচার দাবি করেন।

বৈকারি ইউনিয়নের কাথন্ডা গ্রামের মফিজুল আরও জানান, আট বছর আগে রোকেয়ার সঙ্গে মৃগীডাঙা গ্রামের আবু জাফরের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সামিয়া নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সাদ্দামের বোনজামাই ইস্রাফিলের কুনজর পড়ে রোকেয়ার ওপর। বিভিন্ন সময় ইস্রাফিল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। এরই মধ্যে ৬ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে রোকেয়া হঠাৎ নিখোঁজ হয়। গুজব ওঠে ইস্রাফিল তার বোনজামাই এরশাদের সহায়তায় রোকেয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। ৯ জুন রোকেয়াকে নিয়ে এরশাদ ফিরে আসে এবং শ্বশুরবাড়িতে তাকে রেখে যায়। এসব ঘটনা জেনেও সাদ্দাম, তার বাবা আবু জাফর ও শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যরা রোকেয়াকে গ্রহণ করে সাদ্দামের সংসার করার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মফিজুল ইসলাম জানান, একদিন পর এরশাদ তার শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ও এলাকার হাজি সাইফুল ইসলাম রোকেয়াদের বাড়িতে আসেন। সেখানে তারা রোকেয়াকে নষ্টা মেয়ে বলে আখ্যায়িত করেন। নানাভাবে বকাবকি ও হুমকি-ধমকি দেন। তারা বলেন, তিন দিন রোকেয়া ঘরের বাইরে ছিল। তাকে ঘরে তুলতে হলে ফতোয়া নিতে হবে। এক পর্যায়ে ওই তিনজন ফতোয়া দেন- রোকেয়াকে তওবা করতে হবে এবং ৫১টি বেত্রাঘাত গ্রহণ করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত তাকে এ বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না। এমনকি তাকে গ্রামছাড়া করা হবে। তাদের হুমকি ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি ফতোয়া মেনে নিতে বাধ্য হন।

মফিজুল ইসলাম জানান, রোকেয়াকে তওবা করান মৃগীডাঙা গ্রামের মসজিদের ইমাম মওলানা আবুল খায়ের। এর কিছুক্ষণ পর রোকেয়াকে হাজি সাইফুল বেত্রাঘাত করা শুরু করেন। এ সময় সাইফুলের হাত থেকে বেত কেড়ে নিয়ে এরশাদ নিজেই রোকেয়াকে বেত্রাঘাত করে। বেত্রাঘাতে রোকেয়া গুরুতর আহত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন সকালে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রোকেয়ার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ দাফন করা হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই স্বপন কুমার মণ্ডল জানান, ওই বাড়িতে গিয়ে ফতোয়ার বিষয়টি তিনি তদন্ত করেছেন। ফতোয়া ও বেত্রাঘাতের সঙ্গে রোকেয়ার আত্মহত্যার বিষয়টি জড়িত কিনা সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন