সমাজের তিন ব্যাধি প্রতিকারে ১৩ সুপারিশ
jugantor
সমাজের তিন ব্যাধি প্রতিকারে ১৩ সুপারিশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক, কিশোর গ্যাং ও টিকটক সংস্কৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা অপরাধ সাম্রাজ্যকে তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মাদক গ্রহণের ফলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ থেকে সৃষ্ট চরম হতাশা এবং টিকটককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গ্যাং কালচার প্রতিরোধ এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি এসব সমস্যা সমাধানে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হবে। জন্মের পর থেকেই একজন শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলোর দিকে খেয়াল রাখাসহ ১৩ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। শনিবার দৈনিক যুগান্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব সুপারিশ করেন।

সেমিনারে পুলিশ ও র‌্যাবের প্রতিনিধি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অপরাধবিজ্ঞানী, আইনজীবী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। তাদের দেয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গ্রুপ ও এদের অপরাধের ধরন শনাক্ত করা, প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া। ২. সন্তানের বেড়ে ওঠার সময় নিবিড় পরিচর্যা, নৈতিক শিক্ষা প্রদান ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা। ৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নত বিশ্বের ন্যায় বিশেষ প্রোগ্রাম চালু, যার মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের পরিবেশ তৈরি হবে। ৪. উন্মুক্ত বা আকাশ সংস্কৃতি, ইন্টারনেট, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন। ৫. চাকরি, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ এমন সব কাজে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা। ৬. প্রতিটি থানাকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও নারীদের সম্পৃক্তকরণ। ৭. মাদক গডফাদার, গ্যাং লিডার ও টিকটক সেলিব্রেটির আড়ালে অপকর্মে জড়িতদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ ও অপরাধীদের ছাড়াতে তদবিরের বিষয়ে কঠোর অবস্থান। ৮. মাদকাসক্তদের অপরাধী না ভেবে রোগী ভেবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। ৯. মাদকের ডিমান্ড রিডাকশন, সাপ্লাই রিডাকশন এবং হার্ম রিডাকশন অর্থাৎ চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বন্ধ করা। ১০. মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেমসহ মেইন স্ট্রিম কালচারকে আরও বেশি প্রসারিত করতে কর্মসূচি গ্রহণ। ১১. খেলার মাঠ, সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত ও কিশোরদের বিকাশে সুচিন্তিত ও কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ। ১২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডিজিটালাইজড করে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা। ১৩. তিন সমস্যা সমাধানে আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে মামলাজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ।

সমাজের তিন ব্যাধি প্রতিকারে ১৩ সুপারিশ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক, কিশোর গ্যাং ও টিকটক সংস্কৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা অপরাধ সাম্রাজ্যকে তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মাদক গ্রহণের ফলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ থেকে সৃষ্ট চরম হতাশা এবং টিকটককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গ্যাং কালচার প্রতিরোধ এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি এসব সমস্যা সমাধানে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হবে। জন্মের পর থেকেই একজন শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলোর দিকে খেয়াল রাখাসহ ১৩ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। শনিবার দৈনিক যুগান্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব সুপারিশ করেন।

সেমিনারে পুলিশ ও র‌্যাবের প্রতিনিধি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অপরাধবিজ্ঞানী, আইনজীবী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। তাদের দেয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গ্রুপ ও এদের অপরাধের ধরন শনাক্ত করা, প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া। ২. সন্তানের বেড়ে ওঠার সময় নিবিড় পরিচর্যা, নৈতিক শিক্ষা প্রদান ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা। ৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নত বিশ্বের ন্যায় বিশেষ প্রোগ্রাম চালু, যার মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের পরিবেশ তৈরি হবে। ৪. উন্মুক্ত বা আকাশ সংস্কৃতি, ইন্টারনেট, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন। ৫. চাকরি, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ এমন সব কাজে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা। ৬. প্রতিটি থানাকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও নারীদের সম্পৃক্তকরণ। ৭. মাদক গডফাদার, গ্যাং লিডার ও টিকটক সেলিব্রেটির আড়ালে অপকর্মে জড়িতদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ ও অপরাধীদের ছাড়াতে তদবিরের বিষয়ে কঠোর অবস্থান। ৮. মাদকাসক্তদের অপরাধী না ভেবে রোগী ভেবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। ৯. মাদকের ডিমান্ড রিডাকশন, সাপ্লাই রিডাকশন এবং হার্ম রিডাকশন অর্থাৎ চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বন্ধ করা। ১০. মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেমসহ মেইন স্ট্রিম কালচারকে আরও বেশি প্রসারিত করতে কর্মসূচি গ্রহণ। ১১. খেলার মাঠ, সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত ও কিশোরদের বিকাশে সুচিন্তিত ও কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ। ১২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডিজিটালাইজড করে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা। ১৩. তিন সমস্যা সমাধানে আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে মামলাজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন