অর্থ কেলেঙ্কারি শাস্তি মাসে ৪৮০ টাকা কর্তন
jugantor
কুষ্টিয়া সুগার মিল
অর্থ কেলেঙ্কারি শাস্তি মাসে ৪৮০ টাকা কর্তন

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

১৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়া সুগার মিলের দুই সিবিএ নেতার আড়াই কোটি টাকার কেলেঙ্কারির শাস্তি হিসাবে তাদের বেতন থেকে মাসে মাসে সামান্য টাকা করে কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। মাত্র ১২ মাস একজনের বেতন থেকে ৬২০ টাকা করে এবং অপরজনের বেতন থেকে ৪৮০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। একজনের পদাবনতিও করা হয়েছে। তবে নানা অপকর্মের হোতা দুই সিবিএ নেতার গুরু অপরাধে লঘু শাস্তির ঘটনায় মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) যোগসাজশে মিলের ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) আড়াই কোটি টাকা কেলেঙ্কারি প্রমাণিত হয়েছে। এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ কেলেঙ্কারির শাস্তি হিসাবে ফারুক হোসেনের বেতন থেকে মাসে ৬২০ টাকা ও আনিসের বেতন থেকে মাসে ৪৮০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। ১২ মাসে ফারুকের বেতন থেকে ৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং আনিসুর রহমানের বেতন থেকে ৫ হাজার ৭৬০ টাকা কেটে রাখা হবে। ইতোমধ্যে ফারুকের বেতন কর্তনের অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এমডির পক্ষে সংস্থাপন শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক হায়দার আলী এ আদেশ জারি করেন। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিলের বর্তমান এমডি রাকিবুর রহমান খান। এর আগে মিলের সাবেক এমডি গোলাম সারওয়ার মুর্শেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল মিল কর্তৃপক্ষ। তাকে তৃতীয় গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক ও কর্মচারীরা জানান, ফারুক ও আনিসের অপরাধের শাস্তি হাস্যকর।

চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের চিফ অব পার্সোনাল রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। করপোরেশনের চিঠি পাওয়ার পর বুধবার দুই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাইচুটি এবং মালামাল সরবরাহকারীর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মিল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

জানা গেছে, ইক্ষু বিভাগের সিনিয়র এলসিসি ফারুকের মূল বেতন ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আর যান্ত্রিক বিভাগের বয়লার অ্যাটেন্ডেন্ট আনিসের মূল বেতন ১৬ হাজার ৪৪০ টাকা। আনিসের পদ অবনত করে ফায়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে।

মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান বলেন, তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের অন্যায়ভাবে দোষী করা হয়েছে। পিএফের কোনো টাকা আমার পকেটে যায়নি।

কুষ্টিয়া সুগার মিল

অর্থ কেলেঙ্কারি শাস্তি মাসে ৪৮০ টাকা কর্তন

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
১৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়া সুগার মিলের দুই সিবিএ নেতার আড়াই কোটি টাকার কেলেঙ্কারির শাস্তি হিসাবে তাদের বেতন থেকে মাসে মাসে সামান্য টাকা করে কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। মাত্র ১২ মাস একজনের বেতন থেকে ৬২০ টাকা করে এবং অপরজনের বেতন থেকে ৪৮০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। একজনের পদাবনতিও করা হয়েছে। তবে নানা অপকর্মের হোতা দুই সিবিএ নেতার গুরু অপরাধে লঘু শাস্তির ঘটনায় মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) যোগসাজশে মিলের ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) আড়াই কোটি টাকা কেলেঙ্কারি প্রমাণিত হয়েছে। এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ কেলেঙ্কারির শাস্তি হিসাবে ফারুক হোসেনের বেতন থেকে মাসে ৬২০ টাকা ও আনিসের বেতন থেকে মাসে ৪৮০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। ১২ মাসে ফারুকের বেতন থেকে ৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং আনিসুর রহমানের বেতন থেকে ৫ হাজার ৭৬০ টাকা কেটে রাখা হবে। ইতোমধ্যে ফারুকের বেতন কর্তনের অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এমডির পক্ষে সংস্থাপন শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক হায়দার আলী এ আদেশ জারি করেন। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিলের বর্তমান এমডি রাকিবুর রহমান খান। এর আগে মিলের সাবেক এমডি গোলাম সারওয়ার মুর্শেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল মিল কর্তৃপক্ষ। তাকে তৃতীয় গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক ও কর্মচারীরা জানান, ফারুক ও আনিসের অপরাধের শাস্তি হাস্যকর।

চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের চিফ অব পার্সোনাল রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। করপোরেশনের চিঠি পাওয়ার পর বুধবার দুই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাইচুটি এবং মালামাল সরবরাহকারীর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মিল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

জানা গেছে, ইক্ষু বিভাগের সিনিয়র এলসিসি ফারুকের মূল বেতন ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আর যান্ত্রিক বিভাগের বয়লার অ্যাটেন্ডেন্ট আনিসের মূল বেতন ১৬ হাজার ৪৪০ টাকা। আনিসের পদ অবনত করে ফায়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে।

মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান বলেন, তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের অন্যায়ভাবে দোষী করা হয়েছে। পিএফের কোনো টাকা আমার পকেটে যায়নি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন