আশুলিয়ায় বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়া নারী শ্রমিক নিহত
jugantor
বকেয়া বেতনের দাবি
আশুলিয়ায় বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়া নারী শ্রমিক নিহত

  যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার ও আশুলিয়া প্রতিনিধি  

১৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তার নাম জেসমিন বেগম। তিনি ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের সুয়িং অপারেটর ছিলেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড)-এর দুটি বন্ধ কারখানার ৬ শতাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

ডিইপিজেডের ব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুস সোবহান বলেন, জানুয়ারিতে দুটি কারখানা-লেনী ফ্যাশন ও লেনী অ্যাপারেলস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। দুটিতে প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তখন শ্রমিকদের ১১০ কোটি টাকা বকেয়া বেতন ছিল। তিন দফায় শ্রমিকদের ৪৫ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৬৫ কোটি টাকা কারখানা দুটি বিক্রি করে পরিশোধ করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সকালে ডিইপিজেড’র সামনে জড়ো হন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে দফায় দফায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আংশিক বকেয়া পরিশোধ করেন। এখনো আমাদের বেশির ভাগ বকেয়া বেতন অপরিশোধিত রয়েছে। বেতন পরিশোধ করতে অনুরোধ করলে তারা কালক্ষেপণ শুরু করেন। তাই শ্রমিকরা রোববার সকালে ডিইপিজেডের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। হঠাৎ সেখানে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিকরা দৌড়ে পালাতে থাকে। তখন জেসমিন বেগম নামে এক নারী শ্রমিক বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই সময় আরও অন্তত পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

নিহত জেসমিন খুলনার ডুমুরিয়া থানার খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ও তার স্বামী মাহবুব আশুলিয়ার বলিভত্র মধুপুর এলাকায় থাকতেন। জেসমিন ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টসের সুয়িং অপারেটর ছিলেন। এর আগে তিনি লেনী ফ্যাশনে কাজ করতেন।

ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ব্যস্ততম মহাসড়কটি প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা শান্ত না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।

আশুলিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, নারী শ্রমিকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বকেয়া বেতনের দাবি

আশুলিয়ায় বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়া নারী শ্রমিক নিহত

 যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার ও আশুলিয়া প্রতিনিধি 
১৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তার নাম জেসমিন বেগম। তিনি ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের সুয়িং অপারেটর ছিলেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড)-এর দুটি বন্ধ কারখানার ৬ শতাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

ডিইপিজেডের ব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুস সোবহান বলেন, জানুয়ারিতে দুটি কারখানা-লেনী ফ্যাশন ও লেনী অ্যাপারেলস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। দুটিতে প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তখন শ্রমিকদের ১১০ কোটি টাকা বকেয়া বেতন ছিল। তিন দফায় শ্রমিকদের ৪৫ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৬৫ কোটি টাকা কারখানা দুটি বিক্রি করে পরিশোধ করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সকালে ডিইপিজেড’র সামনে জড়ো হন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে দফায় দফায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আংশিক বকেয়া পরিশোধ করেন। এখনো আমাদের বেশির ভাগ বকেয়া বেতন অপরিশোধিত রয়েছে। বেতন পরিশোধ করতে অনুরোধ করলে তারা কালক্ষেপণ শুরু করেন। তাই শ্রমিকরা রোববার সকালে ডিইপিজেডের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। হঠাৎ সেখানে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিকরা দৌড়ে পালাতে থাকে। তখন জেসমিন বেগম নামে এক নারী শ্রমিক বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই সময় আরও অন্তত পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

নিহত জেসমিন খুলনার ডুমুরিয়া থানার খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ও তার স্বামী মাহবুব আশুলিয়ার বলিভত্র মধুপুর এলাকায় থাকতেন। জেসমিন ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টসের সুয়িং অপারেটর ছিলেন। এর আগে তিনি লেনী ফ্যাশনে কাজ করতেন।

ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ব্যস্ততম মহাসড়কটি প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা শান্ত না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।

আশুলিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, নারী শ্রমিকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন