সভাপতি ও সম্পাদক পদে ১ ডজন নেতার দৌড়ঝাঁপ
jugantor
চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ
সভাপতি ও সম্পাদক পদে ১ ডজন নেতার দৌড়ঝাঁপ

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম  

১৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় ২০ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠেয় ভার্চুয়াল সম্মেলন কেন্দ্র করে আগ্রহীদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে অন্তত এক ডজন নেতা লবিং ও দৌড়ঝাঁপ করছেন।

এ ছাড়া ১০১ সদস্যের কমিটিতে স্থান পেতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী কেন্দ্রে তাদের বায়োডাটা পাঠিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্মেলন ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও পুরোদমে কাজ করছে। খসড়া কমিটি তৈরির লক্ষ্যে বায়োডাটা যাচাই-বাছাই চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আগামী ১৯ জুন ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আমজাদ খান, জমির সিকদার ও যুগ্ম সম্পাদক নাফিউল হক নাফার চট্টগ্রাম থেকে সংযুক্ত হয়ে সম্মেলন পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

রোববার স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজনে আমরা প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি বলেন, নগর কমিটির সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, একটি কমিটি ২০ বছর ধরে থাকলে তা নেতৃত্ব বিকাশের পথে বড় অন্তঃরায় হয়ে দাঁড়ায়। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের হাতে নগর কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে আশা করছি। এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে বলেও আশা করছি। কারণ অপূর্ণাঙ্গ কমিটি সংগঠনের জন্য কখনোই সুফল বয়ে আনে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী প্রায় এক ডজন নেতা নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। ১০১ সদস্যের কমিটিতে স্থান পেতে অন্তত ৫০০ নেতা ও আগ্রহী তাদের বায়োডাটা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। এরই মধ্যে সেসব বায়োডাটা যাচাই-বাছাই চলছে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেতে নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, হেলাল উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন, সুজিত দাশ, আবদুর রশীদ লোকমান স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। অন্য দিকে, নওফেলের অনুসারী হিসাবে পরিচিত আবুল হাসনাত মো. বেলাল, আজিজুর রহমান আজিজ, অ্যাডভোকেট তছলিম উদ্দিন ও দেবাশীষ নাথ দেবু সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে গ্রুপিং-লবিং করছেন। এ ছাড়া কোনো গ্রুপে সক্রিয় নন-এমন নেতা হিসাবে পরিচিত জাবেদুল আলম মাসুম, মনোয়ার জাহান মনি, জসিম উদ্দিনের নাম আলোচনায় আছে। পদ পেতে তারাও নানাভাবে গ্রুপিং-লবিং ও নিজ নিজ যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন। কমিটির অন্যসব বিভাগীয় সম্পাদক পদ ও সদস্য পদ পেতেও আগ্রহীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

সর্বশেষ ২০০০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিনকে কমিটির আহ্বায়ক এবং কেবিএম শাহজাহান ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। ২১ সদস্যের কমিটির ৫-৬ জন ছাড়া সবাই নিষ্ক্রিয়। দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন। তিনিও চাইছেন নতুন কমিটি হোক। জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা তরুণ ও ত্যাগীদের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে চাই। সম্মেলনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দেওয়া হবে বলে সবার প্রত্যাশা।

সভাপতি পদ পেতে আগ্রহী নাছির উদ্দীনের অনুসারী হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক হয়ে সভাপতি পদে তিনি আসীন হন। মাঠে সবসময় সক্রিয় থাকা হেলালের বড় ভাই মহিউদ্দিন বাচ্চু বর্তমানে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক। তাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদ একই পরিবারের সদস্যকে দেওয়া হবে কি না সেটি নিয়ে অনেকে সন্দিহান। এ ক্ষেত্রে বাপ্পী বা সালাহউদ্দিনকে নিয়ে বিকল্প চিন্তা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। যদিও হেলাল বলছেন, যোগ্যতাই বড় কথা।

অন্যদিকে নওফেলের অনুসারী বেলাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের তিনি নির্বাচিত এজিএস ছিলেন। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকও ছিলেন তিনি। বেলাল জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদ পেতে তিনি আশাবাদী।

সূত্র জানায়, গ্রুপিং ও কোন্দল ঠেকাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাছির ও নওফেলের অনুসারী দুজনকে দেওয়া হতে পারে। একইভাবে কমিটির অন্য পদগুলোও ব্যালেন্স করা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ

সভাপতি ও সম্পাদক পদে ১ ডজন নেতার দৌড়ঝাঁপ

 শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম 
১৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় ২০ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠেয় ভার্চুয়াল সম্মেলন কেন্দ্র করে আগ্রহীদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে অন্তত এক ডজন নেতা লবিং ও দৌড়ঝাঁপ করছেন।

এ ছাড়া ১০১ সদস্যের কমিটিতে স্থান পেতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী কেন্দ্রে তাদের বায়োডাটা পাঠিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্মেলন ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও পুরোদমে কাজ করছে। খসড়া কমিটি তৈরির লক্ষ্যে বায়োডাটা যাচাই-বাছাই চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আগামী ১৯ জুন ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আমজাদ খান, জমির সিকদার ও যুগ্ম সম্পাদক নাফিউল হক নাফার চট্টগ্রাম থেকে সংযুক্ত হয়ে সম্মেলন পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

রোববার স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজনে আমরা প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি বলেন, নগর কমিটির সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, একটি কমিটি ২০ বছর ধরে থাকলে তা নেতৃত্ব বিকাশের পথে বড় অন্তঃরায় হয়ে দাঁড়ায়। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের হাতে নগর কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে আশা করছি। এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে বলেও আশা করছি। কারণ অপূর্ণাঙ্গ কমিটি সংগঠনের জন্য কখনোই সুফল বয়ে আনে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী প্রায় এক ডজন নেতা নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। ১০১ সদস্যের কমিটিতে স্থান পেতে অন্তত ৫০০ নেতা ও আগ্রহী তাদের বায়োডাটা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। এরই মধ্যে সেসব বায়োডাটা যাচাই-বাছাই চলছে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেতে নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, হেলাল উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন, সুজিত দাশ, আবদুর রশীদ লোকমান স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। অন্য দিকে, নওফেলের অনুসারী হিসাবে পরিচিত আবুল হাসনাত মো. বেলাল, আজিজুর রহমান আজিজ, অ্যাডভোকেট তছলিম উদ্দিন ও দেবাশীষ নাথ দেবু সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে গ্রুপিং-লবিং করছেন। এ ছাড়া কোনো গ্রুপে সক্রিয় নন-এমন নেতা হিসাবে পরিচিত জাবেদুল আলম মাসুম, মনোয়ার জাহান মনি, জসিম উদ্দিনের নাম আলোচনায় আছে। পদ পেতে তারাও নানাভাবে গ্রুপিং-লবিং ও নিজ নিজ যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন। কমিটির অন্যসব বিভাগীয় সম্পাদক পদ ও সদস্য পদ পেতেও আগ্রহীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

সর্বশেষ ২০০০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিনকে কমিটির আহ্বায়ক এবং কেবিএম শাহজাহান ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। ২১ সদস্যের কমিটির ৫-৬ জন ছাড়া সবাই নিষ্ক্রিয়। দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন। তিনিও চাইছেন নতুন কমিটি হোক। জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা তরুণ ও ত্যাগীদের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে চাই। সম্মেলনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দেওয়া হবে বলে সবার প্রত্যাশা।

সভাপতি পদ পেতে আগ্রহী নাছির উদ্দীনের অনুসারী হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক হয়ে সভাপতি পদে তিনি আসীন হন। মাঠে সবসময় সক্রিয় থাকা হেলালের বড় ভাই মহিউদ্দিন বাচ্চু বর্তমানে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক। তাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদ একই পরিবারের সদস্যকে দেওয়া হবে কি না সেটি নিয়ে অনেকে সন্দিহান। এ ক্ষেত্রে বাপ্পী বা সালাহউদ্দিনকে নিয়ে বিকল্প চিন্তা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। যদিও হেলাল বলছেন, যোগ্যতাই বড় কথা।

অন্যদিকে নওফেলের অনুসারী বেলাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের তিনি নির্বাচিত এজিএস ছিলেন। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকও ছিলেন তিনি। বেলাল জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদ পেতে তিনি আশাবাদী।

সূত্র জানায়, গ্রুপিং ও কোন্দল ঠেকাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাছির ও নওফেলের অনুসারী দুজনকে দেওয়া হতে পারে। একইভাবে কমিটির অন্য পদগুলোও ব্যালেন্স করা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন