মেহেরপুরসহ চার জেলায় আংশিক লকডাউন শুরু
jugantor
রামেকে একদিনে আরও ১২ জনের মৃত্যু
মেহেরপুরসহ চার জেলায় আংশিক লকডাউন শুরু

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুরসহ দেশের চার জেলায় আজ থেকে আংশিক লকডাউন শুরু হচ্ছে। অপর তিনটি জেলা হলো-কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা ও দিনাজপুর। এছাড়া করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে আগামী শনিবার থেকে টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলায় লকডাউন শুরু হবে। দেশে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে লকডাউন ও এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাটের মোংলায় দু’দিনে চীনা নারীসহ ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মেহেরপুর আজ থেকে জেলায় লকডাউন। মেহেরপুর থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে পুশব্যাক প্রতিরোধে এবং নো ম্যানস ল্যান্ডে ভারতীয় কৃষকদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর কৃষকদের মেলামেশা বন্ধে নজরদারি জোরদার করতে বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জরুরি বেঠক করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শংকা প্রকাশ করে জানান, জেলার সীমান্তবর্তী হিন্দা, তেঁতুলবাড়িয়া ও আনন্দবাস গ্রামের মানুষের নমুনা পরীক্ষার প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ করোনা আক্রান্ত। তাই ওই তিনটি গ্রামকে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা মেহেরপুর জেলায় লকডাউন থাকবে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : দামুড়হুদা উপজেলায় আজ থেকে ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দামুড়হুদা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এ ঘোষণা দেন। এর আগে ২ জুন উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাশডাঙ্গা ইউনিয়নে একদিনে ২৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলে ওই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৭টি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে আরও ৯টি গ্রাম লকডাউন করা হয়।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম পৌরসভা এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিয়াউল হাসানের ভার্চুয়ালি সভার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিশেষ বিধিনিষেধ আজ থেকে এক সপ্তাহের জন্য কার্যকর থাকবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর ও বিরামপুর : দিনাজপুর সদর উপজেলা ও হাকিমপুর উপজেলায় আজ থেকে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরোপ করেছে প্রশাসন। জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৫ জুন সকাল ৬টা থেকে ২১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত দিনাজপুর সদর উপজেলায় ১৩ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিধিনিষেধ চলাকালে কোনো প্রকার যানবাহন দিনাজপুর সদর উপজেলায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং বাইরেও যেতে পারবে না। পাশাপাশি উপজেলার ভেতরে সকল প্রকার পরিবহন ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোটরসইকেল বের করা যাবে না। শপিংমল, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। পর্যটনকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমাহল, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। গণজমায়েত হয় এমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এদিকে হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সব পরীক্ষা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

টাঙ্গাইল : করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী শনিবার থেকে জেলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তিন উপজেলা টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও মির্জাপুর উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩৯ জন, কালিহাতীতে ২১ জন, বাসাইলে ৫ জন, সখীপুরে ৪ জন, গোপালপুর ও ঘাটাইলে ৩ জন করে, মধুপুর ও দেলদুয়ারে একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা চার হাজার ৫৩২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৫ জন।

মোংলা (বাগেরহাট) : মোংলায় রোববার এক চীনা নারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় ইপিজেডের গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচার জিনলাইট বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্লোর পরিদর্শক। একই দিন মোংলায় ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৪ জনের। সোমবার বিকালে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ জনের মধ্যে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত ১২ জনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছয়জন, রাজশাহীর তিনজন, নাটোর দুইজন এবং মেহেরপুরের একজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ১০ জন রোগী করোনা পজিটিভ ছিলেন। করোনা পজিটিভে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। বাকি দুইজন উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে করোনার সংক্রমণ রোধে রাজশাহী মহানগরে চলছে লকডাউন। সাতদিনের এই লকডাউনের চতুর্থ দিন সোমবার রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল আগের তিন দিনের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়। তবে লকডাউন বাস্তবায়নে মহানগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল।

খুলনা : গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনা ও উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে যশোরে ২ জন, খুলনায় একজন, কুষ্টিয়ায় ২ জন, নড়াইলে একজন ও মেহেরপুরের একজন মারা গেছেন। একই সময় নতুন করে ৬১৪ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে, যা এ পর্যন্ত বিভাগের সর্বোচ্চ শনাক্ত। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে খুলনা জেলা ও মহানগরীতে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা নগর ও জেলায় আলাদা আলাদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

সাতক্ষীরা : দ্বিতীয় দফার লকডাউনের তৃতীয় দিন সোমবার সাতক্ষীরায় মানুষের চলাচল আগের দুদিনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পুলিশের বাধা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে এড়িয়ে সড়কে চলাফেরা করেন মানুষ। মাস্ক পরছেন হাতেগোনা কিছু লোক। সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এদিকে অবৈধপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় ছয়জনকে আটক করেছে বিজিবি।

নাটোর : জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ২ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) : ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

রামেকে একদিনে আরও ১২ জনের মৃত্যু

মেহেরপুরসহ চার জেলায় আংশিক লকডাউন শুরু

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুরসহ দেশের চার জেলায় আজ থেকে আংশিক লকডাউন শুরু হচ্ছে। অপর তিনটি জেলা হলো-কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা ও দিনাজপুর। এছাড়া করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে আগামী শনিবার থেকে টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলায় লকডাউন শুরু হবে। দেশে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে লকডাউন ও এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাটের মোংলায় দু’দিনে চীনা নারীসহ ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মেহেরপুর আজ থেকে জেলায় লকডাউন। মেহেরপুর থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে পুশব্যাক প্রতিরোধে এবং নো ম্যানস ল্যান্ডে ভারতীয় কৃষকদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর কৃষকদের মেলামেশা বন্ধে নজরদারি জোরদার করতে বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জরুরি বেঠক করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শংকা প্রকাশ করে জানান, জেলার সীমান্তবর্তী হিন্দা, তেঁতুলবাড়িয়া ও আনন্দবাস গ্রামের মানুষের নমুনা পরীক্ষার প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ করোনা আক্রান্ত। তাই ওই তিনটি গ্রামকে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা মেহেরপুর জেলায় লকডাউন থাকবে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : দামুড়হুদা উপজেলায় আজ থেকে ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দামুড়হুদা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এ ঘোষণা দেন। এর আগে ২ জুন উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাশডাঙ্গা ইউনিয়নে একদিনে ২৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলে ওই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৭টি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে আরও ৯টি গ্রাম লকডাউন করা হয়।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম পৌরসভা এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিয়াউল হাসানের ভার্চুয়ালি সভার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিশেষ বিধিনিষেধ আজ থেকে এক সপ্তাহের জন্য কার্যকর থাকবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর ও বিরামপুর : দিনাজপুর সদর উপজেলা ও হাকিমপুর উপজেলায় আজ থেকে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরোপ করেছে প্রশাসন। জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৫ জুন সকাল ৬টা থেকে ২১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত দিনাজপুর সদর উপজেলায় ১৩ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিধিনিষেধ চলাকালে কোনো প্রকার যানবাহন দিনাজপুর সদর উপজেলায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং বাইরেও যেতে পারবে না। পাশাপাশি উপজেলার ভেতরে সকল প্রকার পরিবহন ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোটরসইকেল বের করা যাবে না। শপিংমল, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। পর্যটনকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমাহল, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। গণজমায়েত হয় এমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এদিকে হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সব পরীক্ষা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

টাঙ্গাইল : করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী শনিবার থেকে জেলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তিন উপজেলা টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও মির্জাপুর উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩৯ জন, কালিহাতীতে ২১ জন, বাসাইলে ৫ জন, সখীপুরে ৪ জন, গোপালপুর ও ঘাটাইলে ৩ জন করে, মধুপুর ও দেলদুয়ারে একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা চার হাজার ৫৩২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৫ জন।

মোংলা (বাগেরহাট) : মোংলায় রোববার এক চীনা নারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় ইপিজেডের গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচার জিনলাইট বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্লোর পরিদর্শক। একই দিন মোংলায় ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৪ জনের। সোমবার বিকালে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ জনের মধ্যে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত ১২ জনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছয়জন, রাজশাহীর তিনজন, নাটোর দুইজন এবং মেহেরপুরের একজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ১০ জন রোগী করোনা পজিটিভ ছিলেন। করোনা পজিটিভে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। বাকি দুইজন উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে করোনার সংক্রমণ রোধে রাজশাহী মহানগরে চলছে লকডাউন। সাতদিনের এই লকডাউনের চতুর্থ দিন সোমবার রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল আগের তিন দিনের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়। তবে লকডাউন বাস্তবায়নে মহানগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল।

খুলনা : গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনা ও উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে যশোরে ২ জন, খুলনায় একজন, কুষ্টিয়ায় ২ জন, নড়াইলে একজন ও মেহেরপুরের একজন মারা গেছেন। একই সময় নতুন করে ৬১৪ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে, যা এ পর্যন্ত বিভাগের সর্বোচ্চ শনাক্ত। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে খুলনা জেলা ও মহানগরীতে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা নগর ও জেলায় আলাদা আলাদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

সাতক্ষীরা : দ্বিতীয় দফার লকডাউনের তৃতীয় দিন সোমবার সাতক্ষীরায় মানুষের চলাচল আগের দুদিনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পুলিশের বাধা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে এড়িয়ে সড়কে চলাফেরা করেন মানুষ। মাস্ক পরছেন হাতেগোনা কিছু লোক। সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এদিকে অবৈধপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় ছয়জনকে আটক করেছে বিজিবি।

নাটোর : জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ২ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) : ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন