আদালতে সৌমেনের স্বীকারোক্তি
jugantor
কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেসহ তিনজনকে হত্যা
আদালতে সৌমেনের স্বীকারোক্তি

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

১৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেসহ তিন খুনের মামলার আসামি এএসআই সৌমেন রায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার দুপুর সোয়া ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা তিনি কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এনামুল হকের আদালতে জবানবন্দি দেন। বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কুষ্টিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট অনুপকুমার নন্দী জানান, জবানবন্দিতে সৌমেন দায় স্বীকার করেছেন। স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তিনি (সৌমেন) জানিয়েছেন।

আদালতের একটি সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সৌমেন বলেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা খাতুনের সঙ্গে এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তিনি এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। একাধিকবার নিষেধ করেও স্ত্রীকে থামাতে পারছিলেন না। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তবে শিশু রবিনকে হত্যা করা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করে, এর জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমি খুলনা থেকে কুষ্টিয়া আসি আসমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া নানা বাড়ি অবস্থান করা আসমা রোববার শিশু সন্তান রবিনকে সঙ্গে নিয়ে শহরের বাসায় আসেন। বাসায় আমিও যাই। এরপর মালামাল গুছিয়ে খুলনা রওনার উদ্দেশে বের হলেও পথে বাগড়া দেয় আসমা। এ সময় তার (আসমা) সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এরই মধ্যে শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে হক কাস্টমস মোড়ে একত্রিত হয় আসমা। সেখানে আমি গেলে তার সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসমা, শাকিল ও রবিনকে হত্যা করি। প্রথমে কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল না। পরিস্থিতি আমাকে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে বাধ্য করেছে।’

জানা যায়, সোমবার বাদ জোহর আসমা খাতুন ও তার ছেলে রবিনকে কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে শাকিল খানের লাশ উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা কারিগর পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, মামলার আসামি সৌমেন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলাটি তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। পুলিশ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি সৌমেনের একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ঘটেছে। এঘটনার সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তির কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনা যা ঘটেছে, পুলিশ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে অন ডিউটি বা দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়া একজন পুলিশ সদস্য সরকারি অস্ত্র নিয়ে খুলনা থেকে কীভাবে কুষ্টিয়ায় এসে হত্যাকাণ্ড ঘটাল- এ ব্যাপারে কার কতটুকু দায় তা তদন্ত করতে কুষ্টিয়া ও খুলনা পুলিশের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি ব্যালিস্টিক রিপোর্টের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেসহ তিনজনকে হত্যা

আদালতে সৌমেনের স্বীকারোক্তি

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
১৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেসহ তিন খুনের মামলার আসামি এএসআই সৌমেন রায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার দুপুর সোয়া ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা তিনি কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এনামুল হকের আদালতে জবানবন্দি দেন। বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কুষ্টিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট অনুপকুমার নন্দী জানান, জবানবন্দিতে সৌমেন দায় স্বীকার করেছেন। স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তিনি (সৌমেন) জানিয়েছেন।

আদালতের একটি সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সৌমেন বলেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা খাতুনের সঙ্গে এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তিনি এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। একাধিকবার নিষেধ করেও স্ত্রীকে থামাতে পারছিলেন না। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তবে শিশু রবিনকে হত্যা করা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করে, এর জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমি খুলনা থেকে কুষ্টিয়া আসি আসমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া নানা বাড়ি অবস্থান করা আসমা রোববার শিশু সন্তান রবিনকে সঙ্গে নিয়ে শহরের বাসায় আসেন। বাসায় আমিও যাই। এরপর মালামাল গুছিয়ে খুলনা রওনার উদ্দেশে বের হলেও পথে বাগড়া দেয় আসমা। এ সময় তার (আসমা) সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এরই মধ্যে শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে হক কাস্টমস মোড়ে একত্রিত হয় আসমা। সেখানে আমি গেলে তার সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসমা, শাকিল ও রবিনকে হত্যা করি। প্রথমে কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল না। পরিস্থিতি আমাকে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে বাধ্য করেছে।’

জানা যায়, সোমবার বাদ জোহর আসমা খাতুন ও তার ছেলে রবিনকে কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে শাকিল খানের লাশ উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা কারিগর পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, মামলার আসামি সৌমেন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলাটি তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। পুলিশ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি সৌমেনের একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ঘটেছে। এঘটনার সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তির কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনা যা ঘটেছে, পুলিশ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে অন ডিউটি বা দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়া একজন পুলিশ সদস্য সরকারি অস্ত্র নিয়ে খুলনা থেকে কীভাবে কুষ্টিয়ায় এসে হত্যাকাণ্ড ঘটাল- এ ব্যাপারে কার কতটুকু দায় তা তদন্ত করতে কুষ্টিয়া ও খুলনা পুলিশের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি ব্যালিস্টিক রিপোর্টের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন