সীমান্ত জেলায় বাড়ছে মৃত্যু
jugantor
সীমান্ত জেলায় বাড়ছে মৃত্যু
রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে একদিনে ২৮ প্রাণহানি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ১২ জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৮ জন।

যেখানে আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল ২৩ জনের। এসব জেলায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন ও বিধিনিষেধ জারি হলেও এতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না।

কারণ স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব বা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছেন না অনেকে। লকডাউন আরোপের পরও অনেক জায়গায় হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও চায়ের দোকানে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির পরও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন মানুষ।

ফলে সংক্রমণও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে ২৭৫ এবং টাঙ্গাইলে ১১৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীসহ কয়েকটি স্থানে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত ১০ জনের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নাটোরের একজন এবং নওগাঁর একজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর সাতজন উপসর্গে মারা গেছেন। রাজশাহী মহানগরীতে সর্বাত্মক লকডাউনের সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৪ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় সার্কিট হাউজে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে লকডাউনেও মহানগরীর রাস্তাগুলোয় কিছু কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করেছে। মানুষের চলাচলও আগের চেয়ে বেড়েছে। এ বিষয়ে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, রিকশা-অটোরিকশা ধরলেই রোগী পাওয়া গেছে। প্রেসক্রিপশন পাওয়া গেছে।

তাই মানবিক কারণে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তবে এবার সাতদিনের লকডাউন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, মহানগরীতে লকডাউন থাকলেও উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। তাই জেলাও অঘোষিতভাবে লকডাউনের ভেতরে চলে আসছে। তিনি জানান, লকডাউন চলাকালে মহানগরীতে শুধু জরুরি সেবার অফিস খোলা থাকবে। অন্য সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে।

খুলনা : খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৭৬৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ সময় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৮১ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, মৃতদের মধ্যে খুলনায় ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৪ জন, যশোরে ৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন, মেহেরপুরে ২ জন, বাগেরহাটে একজন, মাগুরায় একজন এবং ঝিনাইদহের একজন।

এদিকে চলমান বিধিনিষেধের মাঝেও জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বাজারগুলোয় শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। ক্রেতাদের কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করলেও বিক্রেতারা তা করছেন না। সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে চলে আড্ডাবাজি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের বহিরাঙ্গনে দেখা যায়, রোগীর স্বজন ও দালালদের উপচে পড়া ভিড়। খুলনা বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। বুধবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৬১১ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬৭ জনে।

কুড়িগ্রাম : করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রাম পৌরসভায় বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, জেলায় মৃতের সংখ্যা ২৭ জন। তবে পৌরসভা এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। ১৫ জুন পৌরসভার ২, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য তিন ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এবার তা গোটা পৌরসভায় দেওয়া হলো।

যশোর : যশোর জেনারেল হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে ৯১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিনই রোগী ভর্তি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালেই দুজন। বাড়তি রোগী সামাল দিতে হাসপাতালে বাড়ানো হচ্ছে শয্যা সংখ্যা। জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিনিষেধ মানাতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। গত ১০ জুন থেকে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এছাড়াও চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, বৃহস্পতিবার জেলার ৩৬২ নমুনা পরীক্ষায় ১৫৪ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

টাঙ্গাইল : জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ৩১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৫৪ জন, কালিহাতীতে ২০ জন, মির্জাপুরে ১০ জন, ঘাটাইল ও বাসাইলে ৮ জন করে, দেলদুয়ারে ৬ জন, ভূঞাপুরে ৩ জন, গোপালপুরে ২ জন, মধুপুর ও সখীপুরে একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮১২ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৬ জন।

দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ : দিনাজপুর সদর উপজেলায় লকডাউনের তৃতীয় দিনে তিনগুণেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলাতেও একদিনের ব্যবধানে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। একদিনে সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৩ জন। জেলায় বৃহস্পতিবার রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৫ জন, যা বুধবার ছিল ৭৬ জন। শনাক্তের হার প্রায় ৩৭ ভাগ। এদিকে দিনাজপুর শহরে নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে অটোরিকশা, ট্রাক, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নিত্যপণ্য ও ওষুধ সামগ্রী ছাড়া অন্য দোকানপাট খোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে তা মানা হচ্ছে না। শহরে অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করছে সাধারণ মানুষ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শহরের বেশকিছু স্থানে চায়ের দোকান খোলা রাখায় এসব দোকানে ভিড় করছে মানুষ।

মেহেরপুর : মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ জনে। মঙ্গলবার থেকে জেলায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার মুজিবনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী আনন্দবাস গ্রাম, গাংনী উপজেলার হিন্দা ও তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামকে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শহরে লকডাউন অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখায় ৯ ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঠাকুরগাঁও : জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় পশুর (গরু-ছাগল) হাট এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিকাল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখাসহ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম এ নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, জেলায় করোনা আক্রান্তের হার শতকরা ৫০ দশমিক ৪ ভাগ।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে একদিনে রেকর্ড পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে করোনার তিনটি ওয়ার্ডে ৭৪টি শয্যার একটিও ফাঁকা নেই। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ১০নং সার্জিক্যাল ওয়ার্ডকেও করোনা ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ১০০ শয্যার করোনা ইউনিটে উন্নীত হয়েছে। হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এএসএম মুসা কবির জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার ২৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ৯৮ জন।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) : করোনার প্রকোপ না কমায় নোয়াখালী পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নে চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা : জেলায় লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের মেয়াদ আজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ বাড়ানোয় আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত লকডাউন থাকবে।

সীমান্ত জেলায় বাড়ছে মৃত্যু

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে একদিনে ২৮ প্রাণহানি
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ১২ জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৮ জন।

যেখানে আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল ২৩ জনের। এসব জেলায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন ও বিধিনিষেধ জারি হলেও এতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না।

কারণ স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব বা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছেন না অনেকে। লকডাউন আরোপের পরও অনেক জায়গায় হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও চায়ের দোকানে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির পরও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন মানুষ।

ফলে সংক্রমণও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে ২৭৫ এবং টাঙ্গাইলে ১১৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীসহ কয়েকটি স্থানে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত ১০ জনের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নাটোরের একজন এবং নওগাঁর একজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর সাতজন উপসর্গে মারা গেছেন। রাজশাহী মহানগরীতে সর্বাত্মক লকডাউনের সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৪ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় সার্কিট হাউজে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে লকডাউনেও মহানগরীর রাস্তাগুলোয় কিছু কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করেছে। মানুষের চলাচলও আগের চেয়ে বেড়েছে। এ বিষয়ে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, রিকশা-অটোরিকশা ধরলেই রোগী পাওয়া গেছে। প্রেসক্রিপশন পাওয়া গেছে।

তাই মানবিক কারণে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তবে এবার সাতদিনের লকডাউন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, মহানগরীতে লকডাউন থাকলেও উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। তাই জেলাও অঘোষিতভাবে লকডাউনের ভেতরে চলে আসছে। তিনি জানান, লকডাউন চলাকালে মহানগরীতে শুধু জরুরি সেবার অফিস খোলা থাকবে। অন্য সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে।

খুলনা : খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৭৬৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ সময় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৮১ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, মৃতদের মধ্যে খুলনায় ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৪ জন, যশোরে ৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন, মেহেরপুরে ২ জন, বাগেরহাটে একজন, মাগুরায় একজন এবং ঝিনাইদহের একজন।

এদিকে চলমান বিধিনিষেধের মাঝেও জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বাজারগুলোয় শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। ক্রেতাদের কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করলেও বিক্রেতারা তা করছেন না। সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে চলে আড্ডাবাজি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের বহিরাঙ্গনে দেখা যায়, রোগীর স্বজন ও দালালদের উপচে পড়া ভিড়। খুলনা বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। বুধবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৬১১ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬৭ জনে।

কুড়িগ্রাম : করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রাম পৌরসভায় বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, জেলায় মৃতের সংখ্যা ২৭ জন। তবে পৌরসভা এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। ১৫ জুন পৌরসভার ২, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য তিন ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এবার তা গোটা পৌরসভায় দেওয়া হলো।

যশোর : যশোর জেনারেল হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে ৯১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিনই রোগী ভর্তি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালেই দুজন। বাড়তি রোগী সামাল দিতে হাসপাতালে বাড়ানো হচ্ছে শয্যা সংখ্যা। জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিনিষেধ মানাতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। গত ১০ জুন থেকে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এছাড়াও চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, বৃহস্পতিবার জেলার ৩৬২ নমুনা পরীক্ষায় ১৫৪ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

টাঙ্গাইল : জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ৩১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৫৪ জন, কালিহাতীতে ২০ জন, মির্জাপুরে ১০ জন, ঘাটাইল ও বাসাইলে ৮ জন করে, দেলদুয়ারে ৬ জন, ভূঞাপুরে ৩ জন, গোপালপুরে ২ জন, মধুপুর ও সখীপুরে একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮১২ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৬ জন।

দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ : দিনাজপুর সদর উপজেলায় লকডাউনের তৃতীয় দিনে তিনগুণেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলাতেও একদিনের ব্যবধানে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। একদিনে সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৩ জন। জেলায় বৃহস্পতিবার রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৫ জন, যা বুধবার ছিল ৭৬ জন। শনাক্তের হার প্রায় ৩৭ ভাগ। এদিকে দিনাজপুর শহরে নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে অটোরিকশা, ট্রাক, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নিত্যপণ্য ও ওষুধ সামগ্রী ছাড়া অন্য দোকানপাট খোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে তা মানা হচ্ছে না। শহরে অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করছে সাধারণ মানুষ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শহরের বেশকিছু স্থানে চায়ের দোকান খোলা রাখায় এসব দোকানে ভিড় করছে মানুষ।

মেহেরপুর : মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ জনে। মঙ্গলবার থেকে জেলায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার মুজিবনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী আনন্দবাস গ্রাম, গাংনী উপজেলার হিন্দা ও তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামকে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শহরে লকডাউন অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখায় ৯ ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঠাকুরগাঁও : জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় পশুর (গরু-ছাগল) হাট এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিকাল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখাসহ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম এ নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, জেলায় করোনা আক্রান্তের হার শতকরা ৫০ দশমিক ৪ ভাগ।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে একদিনে রেকর্ড পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে করোনার তিনটি ওয়ার্ডে ৭৪টি শয্যার একটিও ফাঁকা নেই। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ১০নং সার্জিক্যাল ওয়ার্ডকেও করোনা ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ১০০ শয্যার করোনা ইউনিটে উন্নীত হয়েছে। হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এএসএম মুসা কবির জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার ২৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ৯৮ জন।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) : করোনার প্রকোপ না কমায় নোয়াখালী পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নে চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা : জেলায় লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের মেয়াদ আজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ বাড়ানোয় আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত লকডাউন থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন