পরীমনির ভাঙচুরের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
jugantor
অল কমিউনিটি ক্লাব
পরীমনির ভাঙচুরের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আসবে : ডিবি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনির ভাঙচুর ও ওয়েটারদের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অল কমিউনিটি ক্লাবের নিরাপত্তা কর্মী এবং ওয়েটারদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, মদ না দেওয়ায় ওয়েটার এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করেছেন পরীমনি। তিনি ক্লাবে ভাঙচুরও চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন পরীমনিই ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে জানায়, তাকে আবদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ যাওয়ার পর পরীমনিকেই উত্তেজিত দেখে। এরপর ওই ঘটনার যে প্রকৃত চিত্র সেটা ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি।

ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ১৪ জুন নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি। ৮ জুন রাতে ঘটনাটি ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলা করার পর নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তদন্ত করে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ অবস্থার মধ্যে বুধবার পরীমনির বিরুদ্ধে অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, অল কমিউনিটি ক্লাবে পরীমনির ভাঙচুর চালানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে পরীমনিকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা উত্তরার ডিসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। পরে এ বিষয়ে জানানো হবে।

ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মামলাটি চলমান, এ ক্ষেত্রে সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আসবে। তদন্তে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ হবে।’

এদিকে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৭ জুন রাতে পরীমনি ও তার সঙ্গে আরও কয়েকজন তাদের ক্লাবে প্রবেশ করে গ্লাস ভাঙচুর করেছেন। তার ১৫টি গ্লাস ভেঙেছেন। নয়টি অ্যাস্ট্রে ছুড়ে মেরেছেন। অনেকগুলো হাফপ্লেট ছুড়ে ভেঙেছেন। ঘটনার দিন পরীমনির সঙ্গে হাফপ্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক ছিল। আরেকজন মহিলাও ছিল। এটা রাত প্রায় সোয়া ১টা বা দেড়টার ঘটনা।’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরীমনি। এতদিন পরে এমন অভিযোগ কেন- সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার যুগান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কেএম আলমগীর ইকবাল বলেন, ‘ক্লাবের নিয়ম হলো যে মেম্বার অতিথি নিয়ে আসেন তারা তার (মেম্বার) অতিথি, ক্লাবের নয়। অতিথি যাই করবেন তার দায়-দায়িত্ব মেম্বারকেই নিতে হবে।

সে তো (পরীমনি) সেদিন কিছু গ্লাস-প্লেট ভেঙেছে। সেটা ‘নট এ বিগ ইস্যু’। আমরা এজন্য মামলার কথা ভাবছি না। এটা সামাজিক ক্লাব তো। আমরা কয়েকটি প্লেটের জন্য তো আর তার (পরীমনি) বিরুদ্ধে মামলা করব না।

আর যেই মেম্বার তাদের নিয়ে এসেছিল, সে একটা মুচলেকা দিয়েছে যে, যা ক্ষতি হয়েছে সে জরিমানাসহ তা দিয়ে দেবেন।’

অল কমিউনিটি ক্লাব

পরীমনির ভাঙচুরের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আসবে : ডিবি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনির ভাঙচুর ও ওয়েটারদের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

অল কমিউনিটি ক্লাবের নিরাপত্তা কর্মী এবং ওয়েটারদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, মদ না দেওয়ায় ওয়েটার এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করেছেন পরীমনি। তিনি ক্লাবে ভাঙচুরও চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন পরীমনিই ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে জানায়, তাকে আবদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ যাওয়ার পর পরীমনিকেই উত্তেজিত দেখে। এরপর ওই ঘটনার যে প্রকৃত চিত্র সেটা ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি। 

ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ১৪ জুন নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি। ৮ জুন রাতে ঘটনাটি ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলা করার পর নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তদন্ত করে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ অবস্থার মধ্যে বুধবার পরীমনির বিরুদ্ধে অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, অল কমিউনিটি ক্লাবে পরীমনির ভাঙচুর চালানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে পরীমনিকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা উত্তরার ডিসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। পরে এ বিষয়ে জানানো হবে।

ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মামলাটি চলমান, এ ক্ষেত্রে সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আসবে। তদন্তে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ হবে।’ 

এদিকে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৭ জুন রাতে পরীমনি ও তার সঙ্গে আরও কয়েকজন তাদের ক্লাবে প্রবেশ করে গ্লাস ভাঙচুর করেছেন। তার ১৫টি গ্লাস ভেঙেছেন। নয়টি অ্যাস্ট্রে ছুড়ে মেরেছেন। অনেকগুলো হাফপ্লেট ছুড়ে ভেঙেছেন। ঘটনার দিন পরীমনির সঙ্গে হাফপ্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক ছিল। আরেকজন মহিলাও ছিল। এটা রাত প্রায় সোয়া ১টা বা দেড়টার ঘটনা।’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরীমনি। এতদিন পরে এমন অভিযোগ কেন- সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার যুগান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কেএম আলমগীর ইকবাল বলেন, ‘ক্লাবের নিয়ম হলো যে মেম্বার অতিথি নিয়ে আসেন তারা তার (মেম্বার) অতিথি, ক্লাবের নয়। অতিথি যাই করবেন তার দায়-দায়িত্ব মেম্বারকেই নিতে হবে।

সে তো (পরীমনি) সেদিন কিছু গ্লাস-প্লেট ভেঙেছে। সেটা ‘নট এ বিগ ইস্যু’। আমরা এজন্য মামলার কথা ভাবছি না। এটা সামাজিক ক্লাব তো। আমরা কয়েকটি প্লেটের জন্য তো আর তার (পরীমনি) বিরুদ্ধে মামলা করব না।

আর যেই মেম্বার তাদের নিয়ে এসেছিল, সে একটা মুচলেকা দিয়েছে যে, যা ক্ষতি হয়েছে সে জরিমানাসহ তা দিয়ে দেবেন।’
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন