গোদাগাড়ীতে সড়ক কেটে বসিয়েছেন বালুর পাইপ
jugantor
আ.লীগ নেতার কাণ্ড
গোদাগাড়ীতে সড়ক কেটে বসিয়েছেন বালুর পাইপ

  রাজশাহী ব্যুরো  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বালুখাদান করতে পৌরসভার দুটি পাকা সড়ক কেটে পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলমকে ওরফে আলমকে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পৌরসভার ভগবন্তপুর এলাকার দুটি পাকা সড়ক কাটার সময় আওয়ামী লীগ নেতা আলম ও তার সহযোগীদের বাধা দেয় এলাকাবাসী। এর পরও আলমের লোকেরা সড়ক কেটে পাইপ বসিয়ে দেয়। গোদাগাড়ীর সহকারী ভূমি কমিশনার তাসলিমা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পৌরসভার মেয়র এম ওবাইদুল্লাহ নোটিশে আওয়ামী লীগ নেতা আলমকে কাটা সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে বসানো পাইপ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ লঙ্ঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভার হাটপাড়া ভগবন্তপুর এলাকার পাশ পদ্মা নদী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখান থেকে ঘনবসতিপূর্ণ ভগবন্তপুর এলাকা হয়ে লাইনপাড়া মহল্লার ভেতর দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক। ওই মহাসড়কের কোলঘেঁষে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলমের জমি রয়েছে। ওই জমিতেই আলম বালুখাদান তৈরির কাজ শুরু করেছেন। নদীর পাড় থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত বসিয়েছেন বালু তোলার ১২ ইঞ্চি মোটা পাইপ। এই পাইপের ভেতর দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে মহাসড়কের কোলঘেঁষে থাকা জমিতে বালু মজুদ করা হবে। আর সেখান থেকে সারা বছর বালু বিক্রি করা হবে।

গোদাগাড়ী পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক অতি ব্যস্ততম একটি সড়ক। প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের পাশে বালুখাদান হলে প্রতিনিয়ত সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশেই রয়েছে গোদাগাড়ী ডিগ্রি কলেজ। এ ছাড়া নদী থেকে পাইপলাইনে বালু এনে খাদানে জড়ো করা হলে এলাকাটিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। আশপাশের বসত এলাকা ডুবে যাবে। কারণ আলমের জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। তারা আরও বলেন, পাইপলাইনে তোলা বালুতে ৭০ শতাংশ পানি থাকে। পানি শুকালে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বালু পাওয়া যায়। এখানে বালুখাদান হলে মহাসড়ক ধসে নামবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মার ছয় মৌজা এলাকার বালুমহাল ইজারা নিয়েছে শুভ্র এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসাবে রবিউল আলম তৈরি করছেন বালুখাদান। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইজারাদারের নেওয়া বালুমহাল তাদের এলাকা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে হলেও তারা অবৈধভাবে পদ্মার চাঁপাইনবাবগঞ্জ নদী এলাকার ভেতরে ড্রেজার নামিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। নদীর পাড়ে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। সবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ইজারাদারের অংশীদার হিসাবে আলম ঘনবসতিপূর্ণ তিন চারটি মহল্লার বাড়ির ভেতর দিয়ে পাইপ বসিয়ে মহাসড়কের কোলঘেঁষে বালুখাদান করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল আলম ওরফে আলম বলেন, পদ্মার কোলঘেঁষে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। তার ওপর এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় গ্রামের ভেতর দিয়ে বালু পরিবহণ করলে মানুষের খুব অসুবিধা হয়। এ কারণে আমরা নদী থেকে তুলে পাইপলাইন দিয়ে বালু এলাকার বাইরে ফাঁকা মাঠে খাদান করছি। এতে বরং মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পৌরসভার সড়ক কেটে পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সড়ক কেটে আবার ঢালাই করেছি। এতে সমস্যা হবে না।

আ.লীগ নেতার কাণ্ড

গোদাগাড়ীতে সড়ক কেটে বসিয়েছেন বালুর পাইপ

 রাজশাহী ব্যুরো 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বালুখাদান করতে পৌরসভার দুটি পাকা সড়ক কেটে পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলমকে ওরফে আলমকে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পৌরসভার ভগবন্তপুর এলাকার দুটি পাকা সড়ক কাটার সময় আওয়ামী লীগ নেতা আলম ও তার সহযোগীদের বাধা দেয় এলাকাবাসী। এর পরও আলমের লোকেরা সড়ক কেটে পাইপ বসিয়ে দেয়। গোদাগাড়ীর সহকারী ভূমি কমিশনার তাসলিমা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পৌরসভার মেয়র এম ওবাইদুল্লাহ নোটিশে আওয়ামী লীগ নেতা আলমকে কাটা সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে বসানো পাইপ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ লঙ্ঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভার হাটপাড়া ভগবন্তপুর এলাকার পাশ পদ্মা নদী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখান থেকে ঘনবসতিপূর্ণ ভগবন্তপুর এলাকা হয়ে লাইনপাড়া মহল্লার ভেতর দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক। ওই মহাসড়কের কোলঘেঁষে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলমের জমি রয়েছে। ওই জমিতেই আলম বালুখাদান তৈরির কাজ শুরু করেছেন। নদীর পাড় থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত বসিয়েছেন বালু তোলার ১২ ইঞ্চি মোটা পাইপ। এই পাইপের ভেতর দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে মহাসড়কের কোলঘেঁষে থাকা জমিতে বালু মজুদ করা হবে। আর সেখান থেকে সারা বছর বালু বিক্রি করা হবে।

গোদাগাড়ী পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক অতি ব্যস্ততম একটি সড়ক। প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের পাশে বালুখাদান হলে প্রতিনিয়ত সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশেই রয়েছে গোদাগাড়ী ডিগ্রি কলেজ। এ ছাড়া নদী থেকে পাইপলাইনে বালু এনে খাদানে জড়ো করা হলে এলাকাটিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। আশপাশের বসত এলাকা ডুবে যাবে। কারণ আলমের জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। তারা আরও বলেন, পাইপলাইনে তোলা বালুতে ৭০ শতাংশ পানি থাকে। পানি শুকালে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বালু পাওয়া যায়। এখানে বালুখাদান হলে মহাসড়ক ধসে নামবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মার ছয় মৌজা এলাকার বালুমহাল ইজারা নিয়েছে শুভ্র এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসাবে রবিউল আলম তৈরি করছেন বালুখাদান। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইজারাদারের নেওয়া বালুমহাল তাদের এলাকা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে হলেও তারা অবৈধভাবে পদ্মার চাঁপাইনবাবগঞ্জ নদী এলাকার ভেতরে ড্রেজার নামিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। নদীর পাড়ে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। সবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ইজারাদারের অংশীদার হিসাবে আলম ঘনবসতিপূর্ণ তিন চারটি মহল্লার বাড়ির ভেতর দিয়ে পাইপ বসিয়ে মহাসড়কের কোলঘেঁষে বালুখাদান করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল আলম ওরফে আলম বলেন, পদ্মার কোলঘেঁষে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। তার ওপর এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় গ্রামের ভেতর দিয়ে বালু পরিবহণ করলে মানুষের খুব অসুবিধা হয়। এ কারণে আমরা নদী থেকে তুলে পাইপলাইন দিয়ে বালু এলাকার বাইরে ফাঁকা মাঠে খাদান করছি। এতে বরং মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পৌরসভার সড়ক কেটে পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সড়ক কেটে আবার ঢালাই করেছি। এতে সমস্যা হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন