ডন সাগর ও মুন্না গ্রুপের ১৬ জন আটক
jugantor
ডন সাগর ও মুন্না গ্রুপের ১৬ জন আটক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। কিশোর গ্যাং দুটি ‘ডন সাগর গ্রুপ’ ও ‘মুন্না গ্রুপ’ নামে পরিচিত। হাজারীবাগ ও দারুসসালাম এলাকা থেকে রোববার তাদের আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে ঢাকার বছিলায় নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানায় র‌্যাব-২। গ্রেফতার কিশোরদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, ক্ষুরসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। র‌্যাব-২-এর দাবি, গত এক মাসে তারা ১১টি কিশোর গ্যাংয়ের মোট ৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে। আটক কিশোররা হলো-মো. সাগর (১৩), মো. সরফরাজ আহমেদ রিমন (১৭), মো. রায়হান (১৭), মো. পলাশ হোসেন (৩২), মো. মুন্না (১৫), মো. রাসেল (১৬), মো. উজ্জ্বল হোসেন (১৪), শাকিল হাওলাদার (১৮), মো. মুরাদ হোসেন (২০), মো. মামুন খান (১৮), রিফাদ হোসেন (১৮), মো. রায়হান (১৮), হাসান শেখ (১৯), মো. হাসনাইন (১৯), মো. নাসির উদ্দিন আলবানী (১৯) ও জয় চন্দ্র ঘোষ (১৯)। এদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম। র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক আরও জানান, আটক কিশোরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসেবন, ইভটিজিং, চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। এই কিশোরেরা বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন রাস্তাঘাটে দলবদ্ধভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও সংঘাতের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করত। আধিপত্য বজায় রাখতে অন্যান্য কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়েছে তারা। এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে।

এই কিশোরদের পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, এরা শিশুদের মতো কাজ করেছে, তা নয়। এদের পৃষ্ঠপোষক আছে। যারা আটক আছে, তাদের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আমরা তাদের আটক করব। দলমত কোনো পরিচয় আমরা দেখব না। প্রভাবশালী নাকি প্রভাবশালী নয়, এগুলো না দেখে এসব অপরাধে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সাইফুল আলম বলেন, আটক কিশোরদের অনেকেই বিভিন্নভাবে চুল কাটিয়ে, রং করে টিকটক ভিডিও করত। অনেকের হাতে গ্যাংয়ের নামে লিখিত ট্যাটু আছে।

অনেকে আবার গলার মধ্যে বিভিন্ন চেইন ঝুলিয়ে রেখেছে। এসবের মাধ্যমে তারা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করত।

এদিকে রোববার র‌্যাব-২ মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৬ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে। মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম। তিনি বলেন, গ্রেফতার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন মেয়ে ও ৪ জন ছেলে। এরা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা এদের কাছ থেকে মাদক কিনত। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।

ডন সাগর ও মুন্না গ্রুপের ১৬ জন আটক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। কিশোর গ্যাং দুটি ‘ডন সাগর গ্রুপ’ ও ‘মুন্না গ্রুপ’ নামে পরিচিত। হাজারীবাগ ও দারুসসালাম এলাকা থেকে রোববার তাদের আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে ঢাকার বছিলায় নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানায় র‌্যাব-২। গ্রেফতার কিশোরদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, ক্ষুরসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। র‌্যাব-২-এর দাবি, গত এক মাসে তারা ১১টি কিশোর গ্যাংয়ের মোট ৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে। আটক কিশোররা হলো-মো. সাগর (১৩), মো. সরফরাজ আহমেদ রিমন (১৭), মো. রায়হান (১৭), মো. পলাশ হোসেন (৩২), মো. মুন্না (১৫), মো. রাসেল (১৬), মো. উজ্জ্বল হোসেন (১৪), শাকিল হাওলাদার (১৮), মো. মুরাদ হোসেন (২০), মো. মামুন খান (১৮), রিফাদ হোসেন (১৮), মো. রায়হান (১৮), হাসান শেখ (১৯), মো. হাসনাইন (১৯), মো. নাসির উদ্দিন আলবানী (১৯) ও জয় চন্দ্র ঘোষ (১৯)। এদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম। র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক আরও জানান, আটক কিশোরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসেবন, ইভটিজিং, চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। এই কিশোরেরা বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন রাস্তাঘাটে দলবদ্ধভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও সংঘাতের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করত। আধিপত্য বজায় রাখতে অন্যান্য কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়েছে তারা। এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে।

এই কিশোরদের পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, এরা শিশুদের মতো কাজ করেছে, তা নয়। এদের পৃষ্ঠপোষক আছে। যারা আটক আছে, তাদের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আমরা তাদের আটক করব। দলমত কোনো পরিচয় আমরা দেখব না। প্রভাবশালী নাকি প্রভাবশালী নয়, এগুলো না দেখে এসব অপরাধে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সাইফুল আলম বলেন, আটক কিশোরদের অনেকেই বিভিন্নভাবে চুল কাটিয়ে, রং করে টিকটক ভিডিও করত। অনেকের হাতে গ্যাংয়ের নামে লিখিত ট্যাটু আছে।

অনেকে আবার গলার মধ্যে বিভিন্ন চেইন ঝুলিয়ে রেখেছে। এসবের মাধ্যমে তারা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করত।

এদিকে রোববার র‌্যাব-২ মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৬ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে। মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম। তিনি বলেন, গ্রেফতার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন মেয়ে ও ৪ জন ছেলে। এরা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা এদের কাছ থেকে মাদক কিনত। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন