তিন প্রার্থী ব্যস্ত একে অপরকে ঘায়েলে
jugantor
সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন
তিন প্রার্থী ব্যস্ত একে অপরকে ঘায়েলে

  ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপির প্রার্থী, আবার জাতীয় পার্টির আসন পুনরুদ্ধারের মিশন। আসন ধরে রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। এভাবেই জমে উঠছে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন। মূল আলোচনায় আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা শফি আহমেদ চৌধুরী। আর ভোটার ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।

প্রতীক পেয়ে ভোটযুদ্ধে নামার আগেই বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন হাবিব ও শফি। নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছেন। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে তো প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরবারে আপিলই করে বসেছেন।

আতিকের আইনজীবী প্যানেলের কয়েকজন সদস্য রোববার দুপুরে ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে হাবিবের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। প্যানেলের এক সদস্য যুগান্তরকে জানান, ‘হাবিবের প্রার্থিতা কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যদি কারও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে এবং এ দেশে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান তবে ছয় মাস আগে সে দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে সেই নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে হবে। তখন দূতাবাস থেকে একটি কাগজ দেওয়া হবে। সেই ডকুমেন্ট প্রার্থী নির্বাচনি হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত করে দেবেন। কিন্তু হাবিবুর রহমান হাবিব সারেন্ডারের বিষয় তো দূর-তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টিই হলফনামার কোথাও উল্লেখ করেননি।’

এই আইনজীবী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা গেছেন মাত্র ৩ মাস আগে। কিন্তু সারেন্ডার করতে হয় ৬ মাস আগে। হাবিব কী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর আগেই সারেন্ডার (নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন) করেছিলেন? তিনি কী করে জানতেন এই এমপি মারা যাবেন? আর যদি করেই থাকেন তবে তো তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। তিনি কি সে দেশের সব আশয়-বিষয় গুটিয়ে নিয়েছেন? সে খবর তো আমরা কেউ জানি না।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক যুগান্তরকে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, প্রার্থী কোন দলের সেটা দেখার বিষয় নয়। আইন সবার জন্য সমান। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। চ্যালেঞ্জিং এই আপিলের শুনানি মঙ্গলবার (আজ) অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব যুগান্তরকে জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। দল তখন শ্রদ্বেয় মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ভাইকে দিয়েছিল। উনার মৃত্যুর পর দলের সভানেত্রী আমাকে মনোনীত করেছেন। অনেক আগে থেকেই আমার নির্বাচন করার ইচ্ছা, সেই অনুযায়ী আমি এলাকায় কাজও করেছি। তা নির্বাচনি এলাকার জনগণ জানেন। এক প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচন কর্মকর্তা তো মনোনয়ন বাছাইয়ের দিনও উনাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছেন। এসব শুধু সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য। এখন জনগণ অনেক সচেতন, তারা বুঝেশুনে তাদের ভোট দেবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন শফি আহমেদ চৌধুরী। তবে এখন তার দলীয় পরিচয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপিও হয়েছিলেন। তবে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এ নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই, তবে বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা পড়েছেন বিপাকে। দল থেকে বহিষ্কারের পর বিভিন্ন স্থানে তার ব্যক্ত করা প্রতিক্রিয়া নিয়েও চলছে সমালোচনা। রোববার ফেসবুক লাইভে এক প্রতিক্রিয়ায় মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন লড়াইকারী পীর হাবিবুর রহমানকে নিয়েও ‘বেফাঁস’ মন্তব্য করেন। হবিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। তারা শফি চৌধুরীকে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

এসব নিয়ে জানতে চাইলে শফি চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, দল বহিষ্কার করলেই কী আর না করলেই কী? জনগণের রাজনীতি করি, দলের নয়। আজীবন জনগণের জন্য কাজ করে যাব। নেতাকর্মীদেরও দলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার সঙ্গে আসলে তাদেরও বহিষ্কার করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাইরে থেকে চিল্লাচিল্লি করে তো লাভ নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে জনগণ বুঝবে ফলাফলে তাদের ভোটের প্রতিফলন হলো কিনা? আমি আশাবাদী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। না হলেও জনগণ বিষয়টি দেখবে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় শনিবার বিএনপির নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ জুন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২৮ জুলাই হবে ভোটগ্রহণ। গত ১১ মার্চ আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়।

সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন

তিন প্রার্থী ব্যস্ত একে অপরকে ঘায়েলে

 ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপির প্রার্থী, আবার জাতীয় পার্টির আসন পুনরুদ্ধারের মিশন। আসন ধরে রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। এভাবেই জমে উঠছে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন। মূল আলোচনায় আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা শফি আহমেদ চৌধুরী। আর ভোটার ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।

প্রতীক পেয়ে ভোটযুদ্ধে নামার আগেই বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন হাবিব ও শফি। নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছেন। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে তো প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরবারে আপিলই করে বসেছেন।

আতিকের আইনজীবী প্যানেলের কয়েকজন সদস্য রোববার দুপুরে ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে হাবিবের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। প্যানেলের এক সদস্য যুগান্তরকে জানান, ‘হাবিবের প্রার্থিতা কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যদি কারও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে এবং এ দেশে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান তবে ছয় মাস আগে সে দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে সেই নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে হবে। তখন দূতাবাস থেকে একটি কাগজ দেওয়া হবে। সেই ডকুমেন্ট প্রার্থী নির্বাচনি হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত করে দেবেন। কিন্তু হাবিবুর রহমান হাবিব সারেন্ডারের বিষয় তো দূর-তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টিই হলফনামার কোথাও উল্লেখ করেননি।’

এই আইনজীবী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা গেছেন মাত্র ৩ মাস আগে। কিন্তু সারেন্ডার করতে হয় ৬ মাস আগে। হাবিব কী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর আগেই সারেন্ডার (নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন) করেছিলেন? তিনি কী করে জানতেন এই এমপি মারা যাবেন? আর যদি করেই থাকেন তবে তো তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। তিনি কি সে দেশের সব আশয়-বিষয় গুটিয়ে নিয়েছেন? সে খবর তো আমরা কেউ জানি না।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক যুগান্তরকে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, প্রার্থী কোন দলের সেটা দেখার বিষয় নয়। আইন সবার জন্য সমান। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। চ্যালেঞ্জিং এই আপিলের শুনানি মঙ্গলবার (আজ) অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব যুগান্তরকে জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। দল তখন শ্রদ্বেয় মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ভাইকে দিয়েছিল। উনার মৃত্যুর পর দলের সভানেত্রী আমাকে মনোনীত করেছেন। অনেক আগে থেকেই আমার নির্বাচন করার ইচ্ছা, সেই অনুযায়ী আমি এলাকায় কাজও করেছি। তা নির্বাচনি এলাকার জনগণ জানেন। এক প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচন কর্মকর্তা তো মনোনয়ন বাছাইয়ের দিনও উনাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছেন। এসব শুধু সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য। এখন জনগণ অনেক সচেতন, তারা বুঝেশুনে তাদের ভোট দেবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন শফি আহমেদ চৌধুরী। তবে এখন তার দলীয় পরিচয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপিও হয়েছিলেন। তবে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এ নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই, তবে বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা পড়েছেন বিপাকে। দল থেকে বহিষ্কারের পর বিভিন্ন স্থানে তার ব্যক্ত করা প্রতিক্রিয়া নিয়েও চলছে সমালোচনা। রোববার ফেসবুক লাইভে এক প্রতিক্রিয়ায় মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন লড়াইকারী পীর হাবিবুর রহমানকে নিয়েও ‘বেফাঁস’ মন্তব্য করেন। হবিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। তারা শফি চৌধুরীকে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

এসব নিয়ে জানতে চাইলে শফি চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, দল বহিষ্কার করলেই কী আর না করলেই কী? জনগণের রাজনীতি করি, দলের নয়। আজীবন জনগণের জন্য কাজ করে যাব। নেতাকর্মীদেরও দলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার সঙ্গে আসলে তাদেরও বহিষ্কার করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাইরে থেকে চিল্লাচিল্লি করে তো লাভ নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে জনগণ বুঝবে ফলাফলে তাদের ভোটের প্রতিফলন হলো কিনা? আমি আশাবাদী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। না হলেও জনগণ বিষয়টি দেখবে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় শনিবার বিএনপির নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ জুন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২৮ জুলাই হবে ভোটগ্রহণ। গত ১১ মার্চ আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন