মুন্সীগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বালুসম্রাট আফছু
jugantor
মুন্সীগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বালুসম্রাট আফছু
মাত্র ১১ বছরে শতাধিক কোটি টাকার মালিক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বালুসম্রাট আফছু

এলাকার মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বালুসম্রাট আফছু। মুন্সীগঞ্জের চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফছু এক সময় বিএনপির রাজনীতি করলেও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুখোশ পালটে হয়ে যান আওয়ামী লীগার। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০০৯ সালে যখন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন তখনও তার তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। অথচ মাত্র ১১ বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আফছু তার ছেলে সাদিই ভূঁইয়া ও ভাতিজা মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ ভূঁইয়া এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর ভয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। কেউ কিছু বললে বাহিনী লেলিয়ে দেন। জুলম-নির্যাতন চালান।

জানা যায়, আফছু আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে মানুষের জায়গাজমি জবরদখল করছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরকে পরোয়া না করে পদ্মা ও মেঘনা নদীসংলগ্ন গজারিয়া উপজেলাসহ মুন্সীগঞ্জ সদরের ৩টি ইউনিয়নের চরঝাপটা, চরমশুরা, কাউয়াদি, জাজিরা, সৈয়দপুর, বকচর, চর আব্দুল্লাহ, কালিরচর, ভাষানচর, চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের মানুষের নদীসংলগ্ন জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ওই জমি নদীর সঙ্গে মিলিয়ে দিচ্ছেন। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন শত শত কৃষক। বছরের পর বছর চলছে তার এমন অপকর্ম। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আফছুর অপকর্ম স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা, জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনে প্রচার ও প্রকাশ হলেও তার কিছু হয়নি। জানা যায়, আফছু তার অপকর্ম টিকিয়ে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখেন বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে।

আফছু সাধারণ একজন কৃষক। শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে কিছু নেই। বাবা সমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। ২০০৯ সালে যখন তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন তখন তার কোনো ব্যাংক হিসাব ছিল না। এমনকি হলফনামায় তিনি কোনো সম্পদের বিবরণ দেননি। কিন্তু এই আফছুই ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। ঢাকা রায়েরবাগ বাজারে তার ১০ তলা বাড়ি রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে আরেকটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজের নামে এবং স্ত্রী, আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে ২৫টির মতো ফ্ল্যাট। মুন্সীগঞ্জ রিকাবি বাজারে রয়েছে একটি অটোরাইস মিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য হবে ৫ কোটি টাকা। এছাড়া বালু উত্তোলনের জন্য আফছুর রয়েছে ৫টি বলগেট; যার মূল্য ৭ কোটি টাকা। এগুলো দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করেন তিনি। নিজের ও ছেলের ব্যবহারের জন্য রয়েছে ২টি লেক্সাস প্রাইভেট কার। অবৈধ সম্পদ আড়াল করার জন্য নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন একটি পোলটি ফার্ম। স্থানীয়রা জনান, আফছুর দৃশ্যমান সম্পদের মূল্য শতাধিক কোটি টাকা হবে। পদ্মা-মেঘনার তীরবর্তী অসহায় মানুষের জমি থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে তা বিক্রি করেই তিনি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আফছু তার অপকর্ম ঢাকার জন্য নিজে স্থানীয় পর্যায়ে একটি দৈনিক পত্রিকা বের করেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে নিজের পত্রিকার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি লেলিয়ে দেন সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলা চালানোর পাশাপাশি মামলাও দেন। এসবের ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ কথা বলেন না।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, আফছু এখন আওয়ামী লীগ করলেও এই দলের নীতি- আদর্শে বিশ্বাস করেন না। এক সময় তিনি চরকেওয়ার ইউনিয়নের বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ভেতরে ভেতরে আগের আদর্শই লালন করছেন।

আফছুর জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। অনেকে সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন-যাতে আফছুর অপকর্ম জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়। তাদের বিশ্বাস এটা হলে প্রশাসন আফছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

মুন্সীগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বালুসম্রাট আফছু

মাত্র ১১ বছরে শতাধিক কোটি টাকার মালিক
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বালুসম্রাট আফছু
বালুসম্রাট আফছু

এলাকার মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বালুসম্রাট আফছু। মুন্সীগঞ্জের চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফছু এক সময় বিএনপির রাজনীতি করলেও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুখোশ পালটে হয়ে যান আওয়ামী লীগার। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০০৯ সালে যখন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন তখনও তার তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। অথচ মাত্র ১১ বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আফছু তার ছেলে সাদিই ভূঁইয়া ও ভাতিজা মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ ভূঁইয়া এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর ভয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। কেউ কিছু বললে বাহিনী লেলিয়ে দেন। জুলম-নির্যাতন চালান।

জানা যায়, আফছু আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে মানুষের জায়গাজমি জবরদখল করছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরকে পরোয়া না করে পদ্মা ও মেঘনা নদীসংলগ্ন গজারিয়া উপজেলাসহ মুন্সীগঞ্জ সদরের ৩টি ইউনিয়নের চরঝাপটা, চরমশুরা, কাউয়াদি, জাজিরা, সৈয়দপুর, বকচর, চর আব্দুল্লাহ, কালিরচর, ভাষানচর, চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের মানুষের নদীসংলগ্ন জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ওই জমি নদীর সঙ্গে মিলিয়ে দিচ্ছেন। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন শত শত কৃষক। বছরের পর বছর চলছে তার এমন অপকর্ম। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আফছুর অপকর্ম স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা, জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনে প্রচার ও প্রকাশ হলেও তার কিছু হয়নি। জানা যায়, আফছু তার অপকর্ম টিকিয়ে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখেন বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে।

আফছু সাধারণ একজন কৃষক। শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে কিছু নেই। বাবা সমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। ২০০৯ সালে যখন তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন তখন তার কোনো ব্যাংক হিসাব ছিল না। এমনকি হলফনামায় তিনি কোনো সম্পদের বিবরণ দেননি। কিন্তু এই আফছুই ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। ঢাকা রায়েরবাগ বাজারে তার ১০ তলা বাড়ি রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে আরেকটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজের নামে এবং স্ত্রী, আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে ২৫টির মতো ফ্ল্যাট। মুন্সীগঞ্জ রিকাবি বাজারে রয়েছে একটি অটোরাইস মিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য হবে ৫ কোটি টাকা। এছাড়া বালু উত্তোলনের জন্য আফছুর রয়েছে ৫টি বলগেট; যার মূল্য ৭ কোটি টাকা। এগুলো দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করেন তিনি। নিজের ও ছেলের ব্যবহারের জন্য রয়েছে ২টি লেক্সাস প্রাইভেট কার। অবৈধ সম্পদ আড়াল করার জন্য নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন একটি পোলটি ফার্ম। স্থানীয়রা জনান, আফছুর দৃশ্যমান সম্পদের মূল্য শতাধিক কোটি টাকা হবে। পদ্মা-মেঘনার তীরবর্তী অসহায় মানুষের জমি থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে তা বিক্রি করেই তিনি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আফছু তার অপকর্ম ঢাকার জন্য নিজে স্থানীয় পর্যায়ে একটি দৈনিক পত্রিকা বের করেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে নিজের পত্রিকার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি লেলিয়ে দেন সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলা চালানোর পাশাপাশি মামলাও দেন। এসবের ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ কথা বলেন না।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, আফছু এখন আওয়ামী লীগ করলেও এই দলের নীতি- আদর্শে বিশ্বাস করেন না। এক সময় তিনি চরকেওয়ার ইউনিয়নের বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ভেতরে ভেতরে আগের আদর্শই লালন করছেন।

আফছুর জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। অনেকে সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন-যাতে আফছুর অপকর্ম জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়। তাদের বিশ্বাস এটা হলে প্রশাসন আফছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন