আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব বা বোধি লাভ এবং মহাপরিনির্বাণের (মৃত্যু) স্মৃতিবিজড়িত ও ঘটনাবহুল দিবস এটি।

বুদ্ধের জীবনের এ তিনটি প্রধান ঘটনাকে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ নামে অভিহিত করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আজ ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উদযাপন করবেন।

জাতিসংঘ আজকের দিবসটিকে ‘বেশাখ ডে’ হিসেবে পালন করে। আজ শুরু হবে ২৫৬২ বুদ্ধাব্দ।

দিবসটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একই সঙ্গে শোক ও গৌরবের। ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তারা দিবসটি উদযাপন করবেন।

দিনব্যাপী প্রার্থনা, বুদ্ধ জীবনের নানা দিক আলোচনা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দিনটি কাটাবেন। আজ সরকারি ছুটির দিন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এ ছাড়া বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসব বাণীতে বৌদ্ধ জীবনদর্শনের নানা দিক তুলে ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তা অনুকরণ ও অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক আজ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ-প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। টেলিভিশন ও বেতারেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মহামানব যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও সোয়া ৬০০ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন গৌতম বুদ্ধ। ৬২৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এক পরম পবিত্রতম তিথিতে কপিলাবস্তুর নিকটবর্তী লুম্বিনী উদ্যানে তার জন্ম।

দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর ৫৮৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্যঘেরা গয়ার বোধিবৃক্ষমূলে। এরপর সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

৫৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে কুশিনগরের মল্ল রাজাদের শালবনে ৮০ বছর বয়সে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। বুদ্ধের জন্মের হিসাবকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধাব্দ বা বছর হিসাব করেন। সে হিসাবে আজ ২৫৬২ বুদ্ধাব্দ শুরু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, মহামতি বুদ্ধ অহিংসা ও সাম্যের জয়গান গেয়েছেন।

তিনি ছিলেন অহিংস, ন্যায় ও সাম্যনীতির এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ। বুদ্ধবাণীতে বারবার ধ্বনিত হয়েছে অহিংসা, শান্তি ও বিশ্বপ্রেম এবং মহামৈত্রীর কথা।

এ ধর্মে সবার সামগ্রিক সুখকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তাইতো মহামতি বুদ্ধের বাণী হল- ‘সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু‘’ অর্থাৎ, জগতের সব জীব সুখী হোক।

তিনি বলেন, এ ধর্মে জিঘাংসা, যুদ্ধপ্রবণতা, বিদ্বেষ ইত্যাদির কোনো স্থান নেই। বিদ্যমান জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বুদ্ধের বাণী এখনও সমকালীন।

সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধরা এবং মানবতাবাদী দার্শনিক চিন্তাবিদরা বুদ্ধের জীবনদর্শনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন। বৌদ্ধ ধর্মে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা আটটি বিশুদ্ধ পথের কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- সৎ বাক্য বলা, সৎ চিন্তা করা, সৎ কর্ম করা, সৎ জীবিকা নির্বাহ করা, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি, সৎ সমাধি করা ইত্যাদি। বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, অষ্টাঙ্গিক মার্গের অনুশীলন ও চর্চায় জীবন সুন্দর, মাধুর্যময় ও পরিপূর্ণ হয়।

এ ছাড়া বৌদ্ধ ধর্মে অপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘পঞ্চশীল’। এতে বলা হয়েছে- প্রাণী হত্যা, চৌর্যবৃত্তি, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদকদ্রব্য সেবন না করা।

এসব কাজে কাউকে কোনোরকম উৎসাহিত না করার কথাও বলা হয়েছে। মহামতি বুদ্ধের এ পঞ্চনীতি পালনে ব্যক্তি যেমন উপকৃত হয়, নিরাপদে থাকে; তেমনি সমাজ ও দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে অবস্থান করতে পারে।

এভাবে বুদ্ধের বাণী ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সুখ, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে স্বীকার করা হয়ে থাকে।

দিবসটি উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উপাসনালয় ‘প্যাগোডা’য় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিশেষ করে তিন পার্বত্য এলাকায় নানা কর্মসূচি পালিত হবে।

এসব এলাকা আজ উৎসবমুখর থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন ঢাকার মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ গ্রহণ, রক্তদান কর্মসূচি, বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ ও অষ্টপরিষ্কার দান, ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান, ত্রিপিটক পাঠ, আলোচনা, প্রদীপ পূজা ও আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।