ভোগান্তিতে চাঁদপুর ও বরিশালের যাত্রীরা
jugantor
হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ভোগান্তিতে চাঁদপুর ও বরিশালের যাত্রীরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ রোধে সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকার সঙ্গে সারা দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। কারণ দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে শিডিউলে থাকা চাঁদপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী সব লঞ্চ বন্ধ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অনেকেই লঞ্চ বন্ধের খবর না জেনেই বরিশাল বিভাগের দূরবর্তী জেলা থেকে বরিশাল নৌবন্দরে এসে ফিরে যান। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

বরিশাল : সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল নৌবন্দরের বরিশাল-ঢাকা নৌবন্দর বন্ধ থাকলেও বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে যাত্রী এসে ভিড় করছেন। তাদের দাবি, লঞ্চ বন্ধের খবর জানা নেই। তাই দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বরিশাল নৌবন্দরে এসেছেন। ঝালকাঠির বাসিন্দা রহমত মিয়া বলেন, তার বোন অসুস্থ। তাই জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীতে যাওয়ার জন্য বরিশাল নৌবন্দর এসেছেন। এসে জানতে পারলেন লঞ্চ চলবে না। এতে তার ঢাকায় যাওয়া পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পটুয়াখালীর বাসিন্দা ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাত ১১টায় বন্ধের ঘোষণা দিলে আমরা জানব কিভাবে? হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। করোনার এ সংক্রমণের মধ্যে অনেকদূর থেকে এসে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা প্রথম লকডাউনের আওতায় সাত জেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছি। পরে সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা দেশে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছি।

চাঁদপুর : দুপুর ১২টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায় ঘাটে কোনো লঞ্চ নেই। ভোর ৬টার আগেই ঘাট থেকে সব লঞ্চ নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। পুরো ঘাট ফাঁকা। লঞ্চ মালিক প্রতিনিধিরা সকাল থেকে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত যাত্রীদের ফিরিয়ে দেন। এর পরেও অনেকে লঞ্চ বন্ধের খবর না জেনে ঘাটে চলে আসেন। মোবারক ও আবুল আহাদ নামে দুই যুবক কচুয়া থেকে এসেছেন লঞ্চে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে। তারা বলেন, ঘাটে এসে জানতে পারি ভোর থেকে সব লঞ্চ বন্ধ। রাতে জানতে পেরেছি ৭ জেলায় বন্ধ। চাঁদপুর থেকে বন্ধ তা জানা ছিল না। নাছরিন নামে বরিশালের এক যাত্রী বলেন, তিনি চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়েন। তিনি করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য গত রাতে চাঁদপুরে এসেছেন। তিনি জানতেন না লঞ্চ বন্ধ। লঞ্চ না থাকায় তাই ছোট বোনকে নিয়ে আবারও নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাচ্ছেন। চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা কায়সার ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সকাল ৬টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সোমবার রাতেই লঞ্চ মালিকরা পেয়েছেন।

হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ভোগান্তিতে চাঁদপুর ও বরিশালের যাত্রীরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ রোধে সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকার সঙ্গে সারা দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। কারণ দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে শিডিউলে থাকা চাঁদপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী সব লঞ্চ বন্ধ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অনেকেই লঞ্চ বন্ধের খবর না জেনেই বরিশাল বিভাগের দূরবর্তী জেলা থেকে বরিশাল নৌবন্দরে এসে ফিরে যান। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

বরিশাল : সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল নৌবন্দরের বরিশাল-ঢাকা নৌবন্দর বন্ধ থাকলেও বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে যাত্রী এসে ভিড় করছেন। তাদের দাবি, লঞ্চ বন্ধের খবর জানা নেই। তাই দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বরিশাল নৌবন্দরে এসেছেন। ঝালকাঠির বাসিন্দা রহমত মিয়া বলেন, তার বোন অসুস্থ। তাই জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীতে যাওয়ার জন্য বরিশাল নৌবন্দর এসেছেন। এসে জানতে পারলেন লঞ্চ চলবে না। এতে তার ঢাকায় যাওয়া পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পটুয়াখালীর বাসিন্দা ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাত ১১টায় বন্ধের ঘোষণা দিলে আমরা জানব কিভাবে? হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। করোনার এ সংক্রমণের মধ্যে অনেকদূর থেকে এসে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা প্রথম লকডাউনের আওতায় সাত জেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছি। পরে সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা দেশে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছি।

চাঁদপুর : দুপুর ১২টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায় ঘাটে কোনো লঞ্চ নেই। ভোর ৬টার আগেই ঘাট থেকে সব লঞ্চ নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। পুরো ঘাট ফাঁকা। লঞ্চ মালিক প্রতিনিধিরা সকাল থেকে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত যাত্রীদের ফিরিয়ে দেন। এর পরেও অনেকে লঞ্চ বন্ধের খবর না জেনে ঘাটে চলে আসেন। মোবারক ও আবুল আহাদ নামে দুই যুবক কচুয়া থেকে এসেছেন লঞ্চে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে। তারা বলেন, ঘাটে এসে জানতে পারি ভোর থেকে সব লঞ্চ বন্ধ। রাতে জানতে পেরেছি ৭ জেলায় বন্ধ। চাঁদপুর থেকে বন্ধ তা জানা ছিল না। নাছরিন নামে বরিশালের এক যাত্রী বলেন, তিনি চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়েন। তিনি করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য গত রাতে চাঁদপুরে এসেছেন। তিনি জানতেন না লঞ্চ বন্ধ। লঞ্চ না থাকায় তাই ছোট বোনকে নিয়ে আবারও নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাচ্ছেন। চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা কায়সার ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সকাল ৬টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সোমবার রাতেই লঞ্চ মালিকরা পেয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন