এক চিঠিতেই আটকে গেল ভূমি অধিগ্রহণ
jugantor
বিপাকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প
এক চিঠিতেই আটকে গেল ভূমি অধিগ্রহণ
ভূমি সচিবের কাছে পালটাপালটি চিঠি, নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করছে ভূমি মন্ত্রণালয়

  বিএম জাহাঙ্গীর  

২৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসির এক চিঠিতেই আটকে গেল লক্ষ্মীপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প। ভূমি অধিগ্রহণের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অন্য মৌজায় কম দামে জমি কেনার প্রস্তাব দিয়ে চলমান অধিগ্রহণসংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া বাতিল করতে ভূমি সচিবকে চিঠি দিয়েছেন ডিসি। এক দফা চিঠি দিয়ে কাজ না হওয়ায় দুই মাসের মাথায় ফের দিয়েছেন তাগিদপত্র। এখানেই শেষ নয়, দ্রুত বাতিল প্রস্তাবের নথি উপস্থাপন করতে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে এসে তদবিরও করছেন কেউ কেউ।

এই যখন অবস্থা তখন বসে নেই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ। ভূমি সচিবকে পালটা চিঠি দিয়ে ডিসির সব যুক্তি খণ্ডনের চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন। বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। সাধারণত ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার পর কখনো জেলা প্রশাসন থেকে এ রকম চিঠি আসার কথা নয়। সে কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আগে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, প্রথম কথা হলো-অধিগ্রহণ প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি মূল্য নির্ধারণ করতে গিয়েই দেখতে পান অস্বাভাবিক মূল্য দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। তখন তিনি সরকারি অর্থের অপচয় রোধে ডিসির ওপর অর্পিত দায়িত্বের অংশ হিসাবে এলএ কেসটি বাতিলের উদ্যোগ নেন।

তিনি দাবি করেন, নতুন করে যেখানে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি একেবারে হাইওয়ের পাশে। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিটি অনেক ভেতরে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে একটি দুষ্টচক্র এভাবে বেশি দামে জমি কেনার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী ডিসি ভূমি অধিগ্রহণ কমিটির সভাপতি এবং মূল্য পরিশোধের আগে যে কোনো পর্যায়ে জনস্বার্থে ডিসি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সেটি বাতিল করতে পারে।’

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডিসির প্রস্তাব অনযায়ী নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি পড়ে যাবে। কেননা ডোবা শ্রেণির জমিতে মাটি ভরাট করা ছাড়াও অন্যান্য খরচ বাড়বে কয়েক গুণ। যার সংস্থান বাজেটে নেই। তা ছাড়া জমি অধিগ্রহণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আটটি শর্ত প্রতিপালন করা সম্ভব হবে না। উপরন্তু, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে প্রায় তিন বছর পার হয়েছে। নতুন করে শুরু হলে আবারও অহেতুক সময়ক্ষেপণ হবে। এর ফলে প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হবে। তাই তিনি মনে করেন, ভূমি মন্ত্রণালয় সার্বিকভাবে সবদিক বিবেচনায় নিয়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর লক্ষ্মীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। এরপর প্রস্তাব অনুযায়ী জেলার সদর উপজেলাধীন ৪০নং পশ্চিম শাহাপুর মৌজায় ৩৬ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন। সরেজমিন পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভা আহ্বান করা হয়।

ওই সভায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হওয়ার পর যৌথ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিয়ম অনুসরণ করে জমির প্রাক্কলিত মূল্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়। যার মূল্য দাঁড়ায় তিন কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। এখন শুধু ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমির মালিককে অধিগ্রহণ মূল্য পরিশোধ করার বিষয়টি অবশিষ্ট রয়েছে।

এমতাবস্থায় গত ২০ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ভূমি সচিবকে চিঠি দিয়ে নতুন করে ভিন্ন মৌজায় কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা সংশ্লিষ্ট এলএ কেসটি (নথি নং ০১/২০২০-২০২১) বাতিলের অনুরোধ জানান। এ চিঠিতে ডিসি বলেন, প্রাক্কলিত মূল্য বিদ্যমান বাস্তব মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এজন্য প্রস্তাবিত মৌজার চেয়ে পার্শ্ববর্তী হোগলডহরী, অভিরখিল এবং রাজিবপুর মৌজায় জমির দাম অনেক কম। এখান থেকে জমি অধিগ্রহণ করলে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। ৩৬ শতক জমি প্রস্তাবিত মূল্য তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ না করে ভিন্ন মৌজা থেকে ৫০-৬০ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ করা সম্ভব।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে মন্ত্রণালয় কিছুটা সময় নেওয়ায় ডিসি অফিস থেকে পুনরায় ১৩ জুন তাগিদপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এলএ কেসটি বাতিলের জন্য জোর তদবিরও করেন। এর মধ্যে গত ৮ জুন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন ভূমি সচিবকে তিন পৃষ্ঠার বিশদ চিঠি দেন।

এই চিঠিতে মূল বক্তব্য হিসাবে বলা হয়েছে, এখন যেসব মৌজায় জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হচ্ছে, সেটি চাষাবাদযোগ্য ও ডোবা শ্রেণির জমি। বর্তমান প্রস্তাবিত জমি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। অধিগ্রহণের পর এই জমি ভরাট করতে গেলে অতিরিক্ত প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী এ ধরনের জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না।

এদিকে এ সংক্রান্ত জমির ম্যাপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত হওয়া জমির অবস্থান একেবারে লক্ষ্মীপুর শহরের সন্নিকটে। যার আশপাশে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। যা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের খুবই জরুরি। কিন্তু নতুন করে যেখানে জমি অধিগ্রহণ করার কথা বলা হচ্ছে সেখানে মাটি ভরাট করা ছাড়াও নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া রয়েছে রহমত খালি খাল। আছে বাঁশের সাকো। তাই এ রকম নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে উন্মুক্ত স্কুলের প্রশাসন ও একাডেমি ভবন কখনো অর্থবহ হবে না। এমনটিই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, কম দামে জমি কেনার জন্য এভাবে খাল বিলের মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তা ছাড়া দর প্রস্তাব অনুমোদনের পর যখন চেক ইস্যু করার নথি উপস্থাপন করা হয় তখন ডিসি সেটি আটকে দেন। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে একই জেলা প্রশাসন কিভাবে স্ববিরোধী দু’রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিপাকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প

এক চিঠিতেই আটকে গেল ভূমি অধিগ্রহণ

ভূমি সচিবের কাছে পালটাপালটি চিঠি, নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করছে ভূমি মন্ত্রণালয়
 বিএম জাহাঙ্গীর 
২৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসির এক চিঠিতেই আটকে গেল লক্ষ্মীপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প। ভূমি অধিগ্রহণের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অন্য মৌজায় কম দামে জমি কেনার প্রস্তাব দিয়ে চলমান অধিগ্রহণসংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া বাতিল করতে ভূমি সচিবকে চিঠি দিয়েছেন ডিসি। এক দফা চিঠি দিয়ে কাজ না হওয়ায় দুই মাসের মাথায় ফের দিয়েছেন তাগিদপত্র। এখানেই শেষ নয়, দ্রুত বাতিল প্রস্তাবের নথি উপস্থাপন করতে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে এসে তদবিরও করছেন কেউ কেউ।

এই যখন অবস্থা তখন বসে নেই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ। ভূমি সচিবকে পালটা চিঠি দিয়ে ডিসির সব যুক্তি খণ্ডনের চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন। বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। সাধারণত ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার পর কখনো জেলা প্রশাসন থেকে এ রকম চিঠি আসার কথা নয়। সে কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আগে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, প্রথম কথা হলো-অধিগ্রহণ প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি মূল্য নির্ধারণ করতে গিয়েই দেখতে পান অস্বাভাবিক মূল্য দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। তখন তিনি সরকারি অর্থের অপচয় রোধে ডিসির ওপর অর্পিত দায়িত্বের অংশ হিসাবে এলএ কেসটি বাতিলের উদ্যোগ নেন।

তিনি দাবি করেন, নতুন করে যেখানে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি একেবারে হাইওয়ের পাশে। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিটি অনেক ভেতরে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে একটি দুষ্টচক্র এভাবে বেশি দামে জমি কেনার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী ডিসি ভূমি অধিগ্রহণ কমিটির সভাপতি এবং মূল্য পরিশোধের আগে যে কোনো পর্যায়ে জনস্বার্থে ডিসি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সেটি বাতিল করতে পারে।’

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডিসির প্রস্তাব অনযায়ী নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি পড়ে যাবে। কেননা ডোবা শ্রেণির জমিতে মাটি ভরাট করা ছাড়াও অন্যান্য খরচ বাড়বে কয়েক গুণ। যার সংস্থান বাজেটে নেই। তা ছাড়া জমি অধিগ্রহণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আটটি শর্ত প্রতিপালন করা সম্ভব হবে না। উপরন্তু, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে প্রায় তিন বছর পার হয়েছে। নতুন করে শুরু হলে আবারও অহেতুক সময়ক্ষেপণ হবে। এর ফলে প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হবে। তাই তিনি মনে করেন, ভূমি মন্ত্রণালয় সার্বিকভাবে সবদিক বিবেচনায় নিয়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর লক্ষ্মীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। এরপর প্রস্তাব অনুযায়ী জেলার সদর উপজেলাধীন ৪০নং পশ্চিম শাহাপুর মৌজায় ৩৬ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন। সরেজমিন পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভা আহ্বান করা হয়।

ওই সভায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হওয়ার পর যৌথ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিয়ম অনুসরণ করে জমির প্রাক্কলিত মূল্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়। যার মূল্য দাঁড়ায় তিন কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। এখন শুধু ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমির মালিককে অধিগ্রহণ মূল্য পরিশোধ করার বিষয়টি অবশিষ্ট রয়েছে।

এমতাবস্থায় গত ২০ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ভূমি সচিবকে চিঠি দিয়ে নতুন করে ভিন্ন মৌজায় কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা সংশ্লিষ্ট এলএ কেসটি (নথি নং ০১/২০২০-২০২১) বাতিলের অনুরোধ জানান। এ চিঠিতে ডিসি বলেন, প্রাক্কলিত মূল্য বিদ্যমান বাস্তব মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এজন্য প্রস্তাবিত মৌজার চেয়ে পার্শ্ববর্তী হোগলডহরী, অভিরখিল এবং রাজিবপুর মৌজায় জমির দাম অনেক কম। এখান থেকে জমি অধিগ্রহণ করলে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। ৩৬ শতক জমি প্রস্তাবিত মূল্য তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ না করে ভিন্ন মৌজা থেকে ৫০-৬০ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ করা সম্ভব।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে মন্ত্রণালয় কিছুটা সময় নেওয়ায় ডিসি অফিস থেকে পুনরায় ১৩ জুন তাগিদপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এলএ কেসটি বাতিলের জন্য জোর তদবিরও করেন। এর মধ্যে গত ৮ জুন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন ভূমি সচিবকে তিন পৃষ্ঠার বিশদ চিঠি দেন।

এই চিঠিতে মূল বক্তব্য হিসাবে বলা হয়েছে, এখন যেসব মৌজায় জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হচ্ছে, সেটি চাষাবাদযোগ্য ও ডোবা শ্রেণির জমি। বর্তমান প্রস্তাবিত জমি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। অধিগ্রহণের পর এই জমি ভরাট করতে গেলে অতিরিক্ত প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী এ ধরনের জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না।

এদিকে এ সংক্রান্ত জমির ম্যাপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত হওয়া জমির অবস্থান একেবারে লক্ষ্মীপুর শহরের সন্নিকটে। যার আশপাশে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। যা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের খুবই জরুরি। কিন্তু নতুন করে যেখানে জমি অধিগ্রহণ করার কথা বলা হচ্ছে সেখানে মাটি ভরাট করা ছাড়াও নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া রয়েছে রহমত খালি খাল। আছে বাঁশের সাকো। তাই এ রকম নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে উন্মুক্ত স্কুলের প্রশাসন ও একাডেমি ভবন কখনো অর্থবহ হবে না। এমনটিই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, কম দামে জমি কেনার জন্য এভাবে খাল বিলের মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তা ছাড়া দর প্রস্তাব অনুমোদনের পর যখন চেক ইস্যু করার নথি উপস্থাপন করা হয় তখন ডিসি সেটি আটকে দেন। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে একই জেলা প্রশাসন কিভাবে স্ববিরোধী দু’রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন