বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বিএনপির আহ্বান
jugantor
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা
বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বিএনপির আহ্বান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটির এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রোববার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, করোনা পরিস্থিতি, টিকাপ্রাপ্তি, ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত বোর্ডের প্রধান এএফএম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কোভিড-১৯-পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন। তিনি কোনোমতেই ঝুঁকিমুক্ত নন। তার হৃদরোগের সমস্যা আছে। কিডনি ও লিভারের সমস্যা বেশ জটিল। কিন্তু দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার ফলে হাসপাতালজনিত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হন দুইবার। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও হাসপাতালে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ আবারও হতে পারে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রাখা সমীচীন মনে করেননি। সেই কারণে বাসায় চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আয়োজন সম্পূর্ণ করে সেখানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে যে বিষয়টি চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করেন তা হলো-তার (খালেদা জিয়া) লিভার ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা বিদেশে কোনো উন্নত জায়গায় করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে যার সুযোগ তুলনামূলক কম।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, খালেদা জিয়া শুধু একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ নন, তিনি দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা কিংবদন্তির মতো। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয় নেতা। তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রয়োজন। সব ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেশের মানুষের প্রাণের দাবি। এ অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে দলের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগে বলিনি। ওনার (খালেদা জিয়া) পরিবার বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিল। আমরা এবার পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেজুলেশন নিচ্ছি যে তার বিদেশে চিকিৎসা দরকার। এর জন্য যা কিছু করা দরকার, সরকারের তা করা উচিত ইমিডিয়েটলি। তার পরের যে স্টেপগুলো আছে, পরে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৩ দিন চিকিৎসা পর ১৯ জুন খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাসায় ফেরেন। হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তাকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয় মেডিকেল বোর্ড।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, করোনার সবচেয়ে সংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি বারবার সতর্ক করার পরও সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না করায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হার হঠাৎ করেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে, যা ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের উদাসীনতা, অযোগ্যতা ও দুর্নীতির কারণে আজ মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই চরম হুমকির সম্মুখীন।

তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, টিকার অপ্রতুলতা মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে ফেলেছে। শতকরা ৭০ ভাগ মানুষকে টিকা প্রদান করতে হলেও ২৬ কোটি টিকা প্রয়োজন, যার শতকরা ৩ ভাগ সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার। নিজস্ব দলীয় ব্যক্তিমালিকানার কোম্পানিকে টিকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ায় গোটা জাতি আজ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন। টেস্ট, বেড, অক্সিজেন, আইসিইউ, ভ্যান্টিলেটরের অভাবে জেলা হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সভায় অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করে স্থায়ী কমিটি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বিএনপির আহ্বান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটির এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রোববার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, করোনা পরিস্থিতি, টিকাপ্রাপ্তি, ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত বোর্ডের প্রধান এএফএম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কোভিড-১৯-পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন। তিনি কোনোমতেই ঝুঁকিমুক্ত নন। তার হৃদরোগের সমস্যা আছে। কিডনি ও লিভারের সমস্যা বেশ জটিল। কিন্তু দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার ফলে হাসপাতালজনিত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হন দুইবার। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও হাসপাতালে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ আবারও হতে পারে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রাখা সমীচীন মনে করেননি। সেই কারণে বাসায় চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আয়োজন সম্পূর্ণ করে সেখানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে যে বিষয়টি চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করেন তা হলো-তার (খালেদা জিয়া) লিভার ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা বিদেশে কোনো উন্নত জায়গায় করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে যার সুযোগ তুলনামূলক কম।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, খালেদা জিয়া শুধু একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ নন, তিনি দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা কিংবদন্তির মতো। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয় নেতা। তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রয়োজন। সব ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেশের মানুষের প্রাণের দাবি। এ অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে দলের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগে বলিনি। ওনার (খালেদা জিয়া) পরিবার বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিল। আমরা এবার পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেজুলেশন নিচ্ছি যে তার বিদেশে চিকিৎসা দরকার। এর জন্য যা কিছু করা দরকার, সরকারের তা করা উচিত ইমিডিয়েটলি। তার পরের যে স্টেপগুলো আছে, পরে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৩ দিন চিকিৎসা পর ১৯ জুন খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাসায় ফেরেন। হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তাকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয় মেডিকেল বোর্ড।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, করোনার সবচেয়ে সংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি বারবার সতর্ক করার পরও সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না করায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হার হঠাৎ করেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে, যা ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের উদাসীনতা, অযোগ্যতা ও দুর্নীতির কারণে আজ মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই চরম হুমকির সম্মুখীন।

তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, টিকার অপ্রতুলতা মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে ফেলেছে। শতকরা ৭০ ভাগ মানুষকে টিকা প্রদান করতে হলেও ২৬ কোটি টিকা প্রয়োজন, যার শতকরা ৩ ভাগ সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার। নিজস্ব দলীয় ব্যক্তিমালিকানার কোম্পানিকে টিকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ায় গোটা জাতি আজ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন। টেস্ট, বেড, অক্সিজেন, আইসিইউ, ভ্যান্টিলেটরের অভাবে জেলা হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সভায় অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করে স্থায়ী কমিটি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন