যন্ত্রপাতি-কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব
jugantor
প্লাস্টিক শিল্প খাত
যন্ত্রপাতি-কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব
বাজেট ২০২১-২২

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্লাস্টিক শিল্পের বিকাশে এর মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ)। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় তৈরি প্লাস্টিক পণ্য আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক আরোপ ও করপোরেট কর কমানোর কথাও বলেছে সংগঠনটি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধনী আনার জন্য বেশকিছু প্রস্তাব দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিপিজিএমইএ। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এর আলোকে বাজেটের রাজস্ব অংশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক খাতে সরকার কর সুবিধা দিলে রপ্তানি যেমন বাড়বে, তেমনই বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানও বাড়বে। এর সঙ্গে বাড়বে সরকারের রাজস্ব। এ খাতটি এখনো বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে উপকৃত হবে দেশের সার্বিক অর্থনীতি।

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের প্লাস্টিকের ছোট নলের আমদানি এখন শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে সরকার। আমরা বলেছি, এর ওপর কর আরোপ করতে। কেননা এটি ব্যাপকভাবে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। ফলে দেশের এ শিল্পটি এই সুযোগে দাঁড়িয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশে তৈরি প্লাস্টিক পণ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অবাধ আমদানি নীতির সুযোগে বিশেষ করে ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে কম দামের প্লাস্টিক পণ্য দেশে আসছে। ফলে দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

এজন্য দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বর্তমানে এ খাতের তৈরি পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক (আরডি) আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

এটি আরোপিত হলে এসব পণ্য আমদানিতে খরচ বেশি হবে। তখন আমদানি নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে। এতে বলা হয়, প্লাস্টিক শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের জোগান দিতে এ খাতের জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পও দেশে গড়ে উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী এসব শিল্প প্লাস্টিক শিল্পকে বিভিন্ন পণ্যের জোগান দিয়ে সহায়তা করছে।

ফলে এগুলোকে সুরক্ষা দিতে এসব পণ্যের আমদানির ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এখন এসব পণ্যে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা কমবে।

প্লাস্টিক খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য করপোরেট কর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের কোম্পানিগুলো করপোরেট কর দিচ্ছে ১০ শতাংশ। রপ্তানিমুখী প্লাস্টিক শিল্পের করহারও কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, রপ্তানি খাতের কিছু শিল্পকে আলাদা না করে সব রপ্তানি শিল্পকে একই বিবেচনায় আনলে বৈষম্য কম হবে।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণের ওপর আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্লাস্টিক খাতের রপ্তানিমুখী যে শিল্পগুলো এ সুবিধা পাচ্ছে না, তাদেরকে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক দিতে হচ্ছে। এতে তারা অন্যান্য রপ্তানি খাতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এজন্য এ খাতের শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল ফিলার ও কালার আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক, এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং পিভিসি স্টেবিলাইজারের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ, এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্টিয়ারিং অ্যাসিড, ট্রান্সফার পেপার, পলিইথাইলনের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ, এগুলো কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

প্লাস্টিক শিল্পের তৈরি বিভিন্ন মোড়ক ওষুধ, কৃষি, খাদ্যসহ বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবহার করে। শিল্পের মোড়ক তৈরির কাঁচামালের আমদানির শুল্ক ২৫ শতাংশ। এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এটি করলে মোড়ক তৈরির খরচ কমবে। তখন রপ্তানির বাজারে দেশের পণ্য আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে।

আমদানি করা ফল-ফুলের সঙ্গে অনেক প্লাস্টিক ক্রেট, কেইস আসছে। এর বিপরীতে কোনো শুল্ক দিতে হচ্ছে না। পরে সেগুলো বাজারে চলে আসছে। অথচ এগুলো দেশেই তৈরি হচ্ছে। ফলে দেশীয় সব পণ্য আমদানি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে। এ কারণে এসব পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রেখে আরও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্লাস্টিক শিল্প খাত

যন্ত্রপাতি-কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

বাজেট ২০২১-২২
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্লাস্টিক শিল্পের বিকাশে এর মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ)। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় তৈরি প্লাস্টিক পণ্য আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক আরোপ ও করপোরেট কর কমানোর কথাও বলেছে সংগঠনটি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধনী আনার জন্য বেশকিছু প্রস্তাব দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিপিজিএমইএ। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এর আলোকে বাজেটের রাজস্ব অংশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক খাতে সরকার কর সুবিধা দিলে রপ্তানি যেমন বাড়বে, তেমনই বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানও বাড়বে। এর সঙ্গে বাড়বে সরকারের রাজস্ব। এ খাতটি এখনো বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে উপকৃত হবে দেশের সার্বিক অর্থনীতি।

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের প্লাস্টিকের ছোট নলের আমদানি এখন শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে সরকার। আমরা বলেছি, এর ওপর কর আরোপ করতে। কেননা এটি ব্যাপকভাবে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। ফলে দেশের এ শিল্পটি এই সুযোগে দাঁড়িয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশে তৈরি প্লাস্টিক পণ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অবাধ আমদানি নীতির সুযোগে বিশেষ করে ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে কম দামের প্লাস্টিক পণ্য দেশে আসছে। ফলে দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

এজন্য দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বর্তমানে এ খাতের তৈরি পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক (আরডি) আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

এটি আরোপিত হলে এসব পণ্য আমদানিতে খরচ বেশি হবে। তখন আমদানি নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে। এতে বলা হয়, প্লাস্টিক শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের জোগান দিতে এ খাতের জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পও দেশে গড়ে উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী এসব শিল্প প্লাস্টিক শিল্পকে বিভিন্ন পণ্যের জোগান দিয়ে সহায়তা করছে।

ফলে এগুলোকে সুরক্ষা দিতে এসব পণ্যের আমদানির ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এখন এসব পণ্যে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা কমবে।

প্লাস্টিক খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য করপোরেট কর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের কোম্পানিগুলো করপোরেট কর দিচ্ছে ১০ শতাংশ। রপ্তানিমুখী প্লাস্টিক শিল্পের করহারও কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, রপ্তানি খাতের কিছু শিল্পকে আলাদা না করে সব রপ্তানি শিল্পকে একই বিবেচনায় আনলে বৈষম্য কম হবে।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণের ওপর আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্লাস্টিক খাতের রপ্তানিমুখী যে শিল্পগুলো এ সুবিধা পাচ্ছে না, তাদেরকে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক দিতে হচ্ছে। এতে তারা অন্যান্য রপ্তানি খাতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এজন্য এ খাতের শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল ফিলার ও কালার আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক, এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং পিভিসি স্টেবিলাইজারের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ, এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্টিয়ারিং অ্যাসিড, ট্রান্সফার পেপার, পলিইথাইলনের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ, এগুলো কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

প্লাস্টিক শিল্পের তৈরি বিভিন্ন মোড়ক ওষুধ, কৃষি, খাদ্যসহ বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবহার করে। শিল্পের মোড়ক তৈরির কাঁচামালের আমদানির শুল্ক ২৫ শতাংশ। এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এটি করলে মোড়ক তৈরির খরচ কমবে। তখন রপ্তানির বাজারে দেশের পণ্য আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে।

আমদানি করা ফল-ফুলের সঙ্গে অনেক প্লাস্টিক ক্রেট, কেইস আসছে। এর বিপরীতে কোনো শুল্ক দিতে হচ্ছে না। পরে সেগুলো বাজারে চলে আসছে। অথচ এগুলো দেশেই তৈরি হচ্ছে। ফলে দেশীয় সব পণ্য আমদানি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে। এ কারণে এসব পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রেখে আরও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন