রপ্তানি কনটেইনারজট প্রাইভেট আইসিডিতে
jugantor
রপ্তানি কনটেইনারজট প্রাইভেট আইসিডিতে
১০ হাজারের জায়গায় আছে ১৪ হাজার টিইইউএস * অনেক চালান আটকে যাওয়ায় বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

০৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার কনটেইনার জটে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট ১৯টি প্রাইভেট আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো)। আইসিডিগুলোতে এখন রপ্তানি কনটেইনারের স্তূপ। ১০ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে) রপ্তানি কনটেইনারের ধারণক্ষমতার বিপরীতে এখন আইসিডিতে কনটেইনার রয়েছে ১৪ হাজার। বাড়তি কনটেইনারের চাপ সামাল দিতে হিমশিম কর্তৃপক্ষের। এর মধ্যে অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতের চালান।

এদিকে অনেক চালান একসঙ্গে আটকে যাওয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরাও পড়েছেন বিপাকে। যথাসময়ে পণ্য পাঠাতে না পারায় অনেকের রপ্তানি আদেশ বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইসিডি কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজ স্বল্পতা এবং কনটেইনার নিতে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের বিলম্বের কারণে রপ্তানি কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য তারা বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের রপ্তানি পণ্যের শতভাগ এবং আমদানি পণ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাইভেট আইসিডিগুলোর মাধ্যমে হয়ে থাকে। রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আইসিডিগুলোতে এনে রাখেন। এরপর তা কনটেইনারবোঝাই করে (স্টাফিং) কাস্টম কর্তৃপক্ষের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষে লরিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজীকরণের জন্য পাঠানো হয়। আগে এই পুরো প্রক্রিয়াটি হতো চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে। এতে প্রায়ই বন্দরের অভ্যন্তরে দেখা দিত কনটেইনারজট। বন্দরকে এই জট থেকে মুক্ত করতে বেসরকারি খাতে আইসিডি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশে ১৯টি বেসরকারি আইসিডি রয়েছে। আইসিডিগুলো চালু হওয়ার পর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সময় কনটেইনারের জট দেখা দেয়। তবে হরতাল, ধর্মঘটের মতো পরিস্থিতি না হলে আইসিডিগুলো বরাবরই জটমুক্ত ছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিডিকেও বহন করতে হচ্ছে কনটেইনারের বাড়তি চাপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার পর্যন্ত রপ্তানি কনটেইনার রাখা যায়। এর বেশি হলেই বেকায়দায় পড়তে হয়। বর্তমানে ১৪ হাজার রপ্তানি কনটেইনার রয়েছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন সিকদার যুগান্তরকে বলেন, বন্দরে জাহাজ কম আসছে। যেসব জাহাজ আসছে তার বেশির ভাগই ছোট আকারের। ডিপোতে কনটেইনারে পণ্য স্টাফিং করার পরও দেখা যাচ্ছে শিপিং লাইনগুলো কোন কনটেইনার কখন কোন জাহাজে উঠবে তার সঠিক তালিকা আমাদের দিতে পারছে না। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা পণ্য স্টাফিংয়ে বিলম্ব করছেন। এতে কাভার্ড ভ্যান বা লরিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার নতুন করে লরিতে কনটেইনার তোলা যাচ্ছে না জায়গার অভাবে। একই সঙ্গে পণ্য আনস্টাফিং করার জন্য বিভিন্ন শিপিং লাইনের বিশেষায়িত কনটেইনারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগে যেখানে আমরা ২-৩ দিনে রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারতাম সেখানে এখন ৭ দিন থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন যুগান্তরকে বলেন, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিডার জাহাজগুলো কনটেইনার নিয়ে এ দুটি বন্দরে রাখে। সেখান থেকে মাদার ভেসেলে করে বিশ্বের বিভিন্ন দূর গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে ওই দুটি বন্দরে মাদার ভেসেলের আগমন কমেছে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে গেলে প্রথমত সেখানে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত মাদার ভেসেলও সময়মতো মিলছে না। একই সঙ্গে খালি কনটেইনারেরও একটি সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কনটেইনারে পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু রপ্তানি হয় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কনটেইনারে করে। আগে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ বিভিন্ন বন্দর থেকে কনটেইনার এনে রপ্তানি চলত। এখন বিশ্বব্যাপী কনটেইনার মুভমেন্ট কমে গেছে। অনেক কনটেইনার বিদেশি বন্দরগুলোতে আটকে আছে। সবকিছু মিলিয়ে পণ্য রপ্তানিতে একটা দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএ’র একটি সূত্র জানায়, বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে আটকে আছে। সময়মতো শিপমেন্ট হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতারা একবার যথাসময়ে পণ্য বুঝে না পেলে পরবর্তীতে আর সম্পর্ক রাখতে চায় না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এবার রপ্তানি যে বিলম্বিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক রপ্তানি আদেশ বাতিল হতে পারে।

রপ্তানি কনটেইনারজট প্রাইভেট আইসিডিতে

১০ হাজারের জায়গায় আছে ১৪ হাজার টিইইউএস * অনেক চালান আটকে যাওয়ায় বিপাকে তৈরি পোশাক খাত
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
০৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার কনটেইনার জটে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট ১৯টি প্রাইভেট আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো)। আইসিডিগুলোতে এখন রপ্তানি কনটেইনারের স্তূপ। ১০ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে) রপ্তানি কনটেইনারের ধারণক্ষমতার বিপরীতে এখন আইসিডিতে কনটেইনার রয়েছে ১৪ হাজার। বাড়তি কনটেইনারের চাপ সামাল দিতে হিমশিম কর্তৃপক্ষের। এর মধ্যে অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতের চালান।

এদিকে অনেক চালান একসঙ্গে আটকে যাওয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরাও পড়েছেন বিপাকে। যথাসময়ে পণ্য পাঠাতে না পারায় অনেকের রপ্তানি আদেশ বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইসিডি কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজ স্বল্পতা এবং কনটেইনার নিতে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের বিলম্বের কারণে রপ্তানি কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য তারা বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের রপ্তানি পণ্যের শতভাগ এবং আমদানি পণ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাইভেট আইসিডিগুলোর মাধ্যমে হয়ে থাকে। রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আইসিডিগুলোতে এনে রাখেন। এরপর তা কনটেইনারবোঝাই করে (স্টাফিং) কাস্টম কর্তৃপক্ষের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষে লরিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজীকরণের জন্য পাঠানো হয়। আগে এই পুরো প্রক্রিয়াটি হতো চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে। এতে প্রায়ই বন্দরের অভ্যন্তরে দেখা দিত কনটেইনারজট। বন্দরকে এই জট থেকে মুক্ত করতে বেসরকারি খাতে আইসিডি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশে ১৯টি বেসরকারি আইসিডি রয়েছে। আইসিডিগুলো চালু হওয়ার পর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সময় কনটেইনারের জট দেখা দেয়। তবে হরতাল, ধর্মঘটের মতো পরিস্থিতি না হলে আইসিডিগুলো বরাবরই জটমুক্ত ছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিডিকেও বহন করতে হচ্ছে কনটেইনারের বাড়তি চাপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার পর্যন্ত রপ্তানি কনটেইনার রাখা যায়। এর বেশি হলেই বেকায়দায় পড়তে হয়। বর্তমানে ১৪ হাজার রপ্তানি কনটেইনার রয়েছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন সিকদার যুগান্তরকে বলেন, বন্দরে জাহাজ কম আসছে। যেসব জাহাজ আসছে তার বেশির ভাগই ছোট আকারের। ডিপোতে কনটেইনারে পণ্য স্টাফিং করার পরও দেখা যাচ্ছে শিপিং লাইনগুলো কোন কনটেইনার কখন কোন জাহাজে উঠবে তার সঠিক তালিকা আমাদের দিতে পারছে না। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা পণ্য স্টাফিংয়ে বিলম্ব করছেন। এতে কাভার্ড ভ্যান বা লরিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার নতুন করে লরিতে কনটেইনার তোলা যাচ্ছে না জায়গার অভাবে। একই সঙ্গে পণ্য আনস্টাফিং করার জন্য বিভিন্ন শিপিং লাইনের বিশেষায়িত কনটেইনারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগে যেখানে আমরা ২-৩ দিনে রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারতাম সেখানে এখন ৭ দিন থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন যুগান্তরকে বলেন, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিডার জাহাজগুলো কনটেইনার নিয়ে এ দুটি বন্দরে রাখে। সেখান থেকে মাদার ভেসেলে করে বিশ্বের বিভিন্ন দূর গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে ওই দুটি বন্দরে মাদার ভেসেলের আগমন কমেছে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে গেলে প্রথমত সেখানে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত মাদার ভেসেলও সময়মতো মিলছে না। একই সঙ্গে খালি কনটেইনারেরও একটি সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কনটেইনারে পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু রপ্তানি হয় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কনটেইনারে করে। আগে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ বিভিন্ন বন্দর থেকে কনটেইনার এনে রপ্তানি চলত। এখন বিশ্বব্যাপী কনটেইনার মুভমেন্ট কমে গেছে। অনেক কনটেইনার বিদেশি বন্দরগুলোতে আটকে আছে। সবকিছু মিলিয়ে পণ্য রপ্তানিতে একটা দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএ’র একটি সূত্র জানায়, বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে আটকে আছে। সময়মতো শিপমেন্ট হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতারা একবার যথাসময়ে পণ্য বুঝে না পেলে পরবর্তীতে আর সম্পর্ক রাখতে চায় না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এবার রপ্তানি যে বিলম্বিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক রপ্তানি আদেশ বাতিল হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন