পানি কমছে বাড়ছে নদীভাঙন, দুর্ভোগ
jugantor
পানি কমছে বাড়ছে নদীভাঙন, দুর্ভোগ
সারা দেশেই বৃষ্টি পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পানি কমছে বাড়ছে নদীভাঙন, দুর্ভোগ

কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সারা দেশে বৃষ্টি হলেও এর তীব্রতা সামান্য কমেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় এ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। শনিবার এর কিছুটা লক্ষণও দেখা যায়। ঢাকার আকাশ সকাল থেকে মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। দেশের ভেতরে ও বাইরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতিরও সামান্য উন্নতি হয়েছে। ফেনী, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা থেকে বন্যার পানি দ্বিতীয় দিনের মতো নেমেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ নদীগুলোর পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বলে যুগান্তর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয়। এ কারণে এসব এলাকায় কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে এক একটা স্পেলে (দফা) বৃষ্টিপাতের একটা সময়সীমা থাকে। সেই সময়ের পর বৃষ্টিপাত কমে যায় বা চলে যায়। কিন্তু এমনিতে বর্ষাকাল, আরেক দিকে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এ বৃষ্টিপাত একেবারে চলে যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

দেশি-বিদেশি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় হয়েছে। মেঘনা অববাহিকায়ও ৫০০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস করা হচ্ছে। শনিবার সকালে আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিএমডি এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বুলেটিন প্রকাশ করেছে। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন স্বাক্ষরিত বুলেটিনে বলা হয়- রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। আগামী তিন দিন আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানান, বর্ষাকালে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প থাকে। এ কারণে বৃষ্টি চলে গেলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে এ সময়ে প্রচুর ঘাম হয়। এ কারণে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হয়।

এফএফডব্লিউসি বলছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি সমতল বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু পদ্মার পানি বৃদ্ধি যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আপার মেঘনার পানি স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বিএমডি এবং ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, আগামী দুদিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় প্রদেশের স্থানগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল সময়-বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। এতে কয়েকটি স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এফএফডব্লিউসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অন্তত ছয়টি স্থানে সর্বনিম্ন ৪৬ এবং সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬৪ মিলিমিটার, বগুড়ায় ৪৬ মিলিমিটার আর সাতক্ষীরায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। জলপাইগুড়িতে ৯৩ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৯০ ও ধুবরিতে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে লালপুরে ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পালিদেহা ও গৌরীপুরসহ প্রায় ৬০০ গজ সিসি ব্লক পদ্মা নদীতে ধসে গেছে। পুরাতন সিসি ব্লক সংস্কার না করায় বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, বাঁধের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে দেওয়ায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিতে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে শুক্রবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। এদিকে শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বন্যাদুর্গত এলাকা পোড়া কান্দুলিয়ায় ত্রাণ বিতরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কান্তি বসাক। এ সময় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষণে মেঘনা উপকূলের তীরবর্তী ১৫টি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পশু খামার, পুকুর ও পোলট্রি খামার ডুবে গেছে। রায়পুর মধ্যবাজার, উপজেলা পরিষদ চত্বর, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুন বাজারসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে হাঁটু পানি বিরাজ করছে।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দীঘলবাক গ্রামের এলাইছ মিয়া জানান, নদীর পাড়ের অনেকাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, বর্তমানে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩০টি গ্রাম এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার ১০টি গ্রামের নিুাঞ্চল থেকে ঢলের পানি ধীরগতিতে নামছে। এতে পানিবন্দি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দুই উপজেলার বীজতলা, সবজি ও মাছের ঘেরের বেশ ক্ষতি হয়েছে। বীজতলার উপরে ঢলের পানি আরও দুই-তিন দিন থাকলে ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, ঢলের পানিতে ডুবে শিশু রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালিহালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পানি জমে জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এদিকে, শিশু রবিউল খেলতে গিয়ে ঢলের পানিতে পড়ে যায়। অন্যরা খেয়াল না করায় শিশুটি মারা যায়।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শনিবার ভোর থেকে মুষলধারের বৃষ্টিতে সুরমা, চেলা, মরাচেলা, চিলাই ও চলতিসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদীর বাড়ছে। মাঠ ও গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি কমছে বাড়ছে নদীভাঙন, দুর্ভোগ

সারা দেশেই বৃষ্টি পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পানি কমছে বাড়ছে নদীভাঙন, দুর্ভোগ
প্রতীকী ছবি

কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সারা দেশে বৃষ্টি হলেও এর তীব্রতা সামান্য কমেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় এ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। শনিবার এর কিছুটা লক্ষণও দেখা যায়। ঢাকার আকাশ সকাল থেকে মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। দেশের ভেতরে ও বাইরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতিরও সামান্য উন্নতি হয়েছে। ফেনী, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা থেকে বন্যার পানি দ্বিতীয় দিনের মতো নেমেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ নদীগুলোর পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বলে যুগান্তর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয়। এ কারণে এসব এলাকায় কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে এক একটা স্পেলে (দফা) বৃষ্টিপাতের একটা সময়সীমা থাকে। সেই সময়ের পর বৃষ্টিপাত কমে যায় বা চলে যায়। কিন্তু এমনিতে বর্ষাকাল, আরেক দিকে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এ বৃষ্টিপাত একেবারে চলে যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

দেশি-বিদেশি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় হয়েছে। মেঘনা অববাহিকায়ও ৫০০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস করা হচ্ছে। শনিবার সকালে আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিএমডি এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বুলেটিন প্রকাশ করেছে। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন স্বাক্ষরিত বুলেটিনে বলা হয়- রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। আগামী তিন দিন আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানান, বর্ষাকালে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প থাকে। এ কারণে বৃষ্টি চলে গেলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে এ সময়ে প্রচুর ঘাম হয়। এ কারণে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হয়।

এফএফডব্লিউসি বলছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি সমতল বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু পদ্মার পানি বৃদ্ধি যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আপার মেঘনার পানি স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বিএমডি এবং ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, আগামী দুদিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় প্রদেশের স্থানগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল সময়-বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। এতে কয়েকটি স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এফএফডব্লিউসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অন্তত ছয়টি স্থানে সর্বনিম্ন ৪৬ এবং সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬৪ মিলিমিটার, বগুড়ায় ৪৬ মিলিমিটার আর সাতক্ষীরায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। জলপাইগুড়িতে ৯৩ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৯০ ও ধুবরিতে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে লালপুরে ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পালিদেহা ও গৌরীপুরসহ প্রায় ৬০০ গজ সিসি ব্লক পদ্মা নদীতে ধসে গেছে। পুরাতন সিসি ব্লক সংস্কার না করায় বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, বাঁধের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে দেওয়ায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিতে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে শুক্রবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। এদিকে শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বন্যাদুর্গত এলাকা পোড়া কান্দুলিয়ায় ত্রাণ বিতরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কান্তি বসাক। এ সময় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষণে মেঘনা উপকূলের তীরবর্তী ১৫টি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পশু খামার, পুকুর ও পোলট্রি খামার ডুবে গেছে। রায়পুর মধ্যবাজার, উপজেলা পরিষদ চত্বর, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুন বাজারসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে হাঁটু পানি বিরাজ করছে।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দীঘলবাক গ্রামের এলাইছ মিয়া জানান, নদীর পাড়ের অনেকাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, বর্তমানে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩০টি গ্রাম এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার ১০টি গ্রামের নিুাঞ্চল থেকে ঢলের পানি ধীরগতিতে নামছে। এতে পানিবন্দি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দুই উপজেলার বীজতলা, সবজি ও মাছের ঘেরের বেশ ক্ষতি হয়েছে। বীজতলার উপরে ঢলের পানি আরও দুই-তিন দিন থাকলে ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, ঢলের পানিতে ডুবে শিশু রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালিহালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পানি জমে জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এদিকে, শিশু রবিউল খেলতে গিয়ে ঢলের পানিতে পড়ে যায়। অন্যরা খেয়াল না করায় শিশুটি মারা যায়।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শনিবার ভোর থেকে মুষলধারের বৃষ্টিতে সুরমা, চেলা, মরাচেলা, চিলাই ও চলতিসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদীর বাড়ছে। মাঠ ও গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন