চিকিৎসক-টেকনিশিয়ান সংকটে সেবা ব্যাহত
jugantor
ঢাকা বিভাগের হাসপাতাল
চিকিৎসক-টেকনিশিয়ান সংকটে সেবা ব্যাহত
অকেজো পড়ে আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অকেজো পড়ে আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম

নানা সংকটে ভুগছে ঢাকা বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো। অধিকাংশ হাসপাতালে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকট রয়েছে। কোনো কোনো হাসপাতালে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে তা অকেজো পড়ে আছে। অপারেশন থিয়েটার চালু নেই অনেক হাসপাতালে। শুধু জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল নয়, এই বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোও নানা সংকটে রয়েছে। ফলে তৃণমূলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান, ৫০ শয্যার হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা সদর হাসপাতাল। রয়েছে ডাক্তার সংকট। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অর্ধকোটি টাকার এক্স-রে মেশিনটি অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে রোগীরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাচ্ছে। এতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ৪টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদের দুটি শূন্য। জোড়াতালি দিয়েই চলছে প্যাথলজির কাজ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সহকারীর অন্তত ৪৫টি পদ শূন্য। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে আছে প্রায় আড়াই বছর।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন তিন বছর অকেজো পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে রোগীরা বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাচ্ছেন। এতে দ্বিগুণ টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের। জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৩ জন ডাক্তারের বিপরীতে ৮ জন ডাক্তার রয়েছেন। দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকায় ঘাটাইল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে আছে। জেলার সখীপুর উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৮ জন কনসালটেন্ট নেই। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীর ২১টি পদ শূন্য। এক বছর ধরে গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আর জেলার নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধু কাগজে-কলমে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় এখানে ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল পোস্ট্রিং দেওয়া হচ্ছে না। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন।

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি এখন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের রোগী ধরার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালের করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত সিট-কেবিন ছাড়া অধিকাংশ সিট-কেবিন খালি পড়ে থাকে। এখানে ২৫টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চালু রয়েছে মাত্র ৩টি। এছাড়া জেলার মিটামইন, নিকলী, কটিয়াদী ও করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছ।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই) ও সিটি স্ক্যান মেশিনটি দেড় বছর ধরে নষ্ট। ফলে রোগীরা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করাতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো প্যাথলজিক্যাল সেবা নেই। রয়েছে লোকবল সংকট।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকট রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৫০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৯ জন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করার মেশিন থাকলেও নেই কোন সনোলজিস্ট্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও ল্যাব টেকনিশিয়ানরা যতটকু সম্ভব চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলবল সংকটে জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে মশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি, অ্যানেস্থেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, এনালাইজার, রেফ্রিজারেটর, জিন এক্সপার্ট মেশিনসহ ৪০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে আছে।

এদিকে জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে আবার অর্ধেক চিকিৎসক কর্মস্থলে আসেন না।

ঢাকা বিভাগের হাসপাতাল

চিকিৎসক-টেকনিশিয়ান সংকটে সেবা ব্যাহত

অকেজো পড়ে আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অকেজো পড়ে আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম
ফাইল ফটো

নানা সংকটে ভুগছে ঢাকা বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো। অধিকাংশ হাসপাতালে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকট রয়েছে। কোনো কোনো হাসপাতালে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে তা অকেজো পড়ে আছে। অপারেশন থিয়েটার চালু নেই অনেক হাসপাতালে। শুধু জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল নয়, এই বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোও নানা সংকটে রয়েছে। ফলে তৃণমূলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান, ৫০ শয্যার হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা সদর হাসপাতাল। রয়েছে ডাক্তার সংকট। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অর্ধকোটি টাকার এক্স-রে মেশিনটি অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে রোগীরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাচ্ছে। এতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ৪টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদের দুটি শূন্য। জোড়াতালি দিয়েই চলছে প্যাথলজির কাজ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সহকারীর অন্তত ৪৫টি পদ শূন্য। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে আছে প্রায় আড়াই বছর।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন তিন বছর অকেজো পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে রোগীরা বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাচ্ছেন। এতে দ্বিগুণ টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের। জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৩ জন ডাক্তারের বিপরীতে ৮ জন ডাক্তার রয়েছেন। দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকায় ঘাটাইল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে আছে। জেলার সখীপুর উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৮ জন কনসালটেন্ট নেই। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীর ২১টি পদ শূন্য। এক বছর ধরে গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আর জেলার নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধু কাগজে-কলমে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় এখানে ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল পোস্ট্রিং দেওয়া হচ্ছে না। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন।

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি এখন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের রোগী ধরার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালের করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত সিট-কেবিন ছাড়া অধিকাংশ সিট-কেবিন খালি পড়ে থাকে। এখানে ২৫টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চালু রয়েছে মাত্র ৩টি। এছাড়া জেলার মিটামইন, নিকলী, কটিয়াদী ও করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছ।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই) ও সিটি স্ক্যান মেশিনটি দেড় বছর ধরে নষ্ট। ফলে রোগীরা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করাতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো প্যাথলজিক্যাল সেবা নেই। রয়েছে লোকবল সংকট।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকট রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৫০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৯ জন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করার মেশিন থাকলেও নেই কোন সনোলজিস্ট্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও ল্যাব টেকনিশিয়ানরা যতটকু সম্ভব চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলবল সংকটে জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে মশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি, অ্যানেস্থেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, এনালাইজার, রেফ্রিজারেটর, জিন এক্সপার্ট মেশিনসহ ৪০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে আছে।

এদিকে জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে আবার অর্ধেক চিকিৎসক কর্মস্থলে আসেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বেহাল স্বাস্থ্যসেবা