টিকা নেওয়ার বয়স ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত
jugantor
টিকা নেওয়ার বয়স ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ৩৫ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সরকারি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বয়সসীমা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। করোনা সংক্রমণ রোধে ‘ফ্রন্ট লাইনার’ হিসাবে যারা কাজ করছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদেরকে প্রথমে টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি সাধারণ নাগরিকদের টিকার আওতায় আনা হবে। অন্যান্য টিকা যেভাবে দেওয়া হয়, করোনার টিকা আরও কীভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়ে সরকার ভাবছে।

অধ্যাপক খুরশীদ বলেন, আমি হাসপাতাল তিনটি পরিদর্শন করার সময় জেনেছি-ভর্তি রোগীদের শতকরা ৯৭ ভাগ করোনার টিকাগ্রহণ করেননি। তাদের অধিকাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি। টিকা না নেওয়ার ব্যাপারে রোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন-কেউ ভয়ে, আবার কেউ অবহেলা করে টিকা নেননি। এমনকি অনেকে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পরেও সময়মতো চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি সংকটাপন্ন রোগীদের ৯৭ শতাংশ ঢাকার বাইরের। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার বাইরের রোগীদের জন্য বিভিন্ন জেলায় ফিল্ড হাসপাতাল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকও জানিয়েছিলেন, করোনা টিকা গ্রহণের বয়স ১৮ বছর করার কথা ভাবছে সরকার। ১৫ জুলাই তিনি বলেন, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি টিকার জন্য নিবন্ধনের বয়সসীমা ১৮ বছর পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে। আমরা চিন্তা করছি টিকার জন্য বয়সসীমা আরও নামিয়ে আনা যায় কিনা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে। টেকনিক্যাল কমিটিকেও জানানো হয়েছে, ১৮ বছর এবং তার ঊর্ধ্বে টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। তবে ১২ ?জুলাই কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি আরও মানুষকে দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে আসতে বয়সসীমা ১৮ বছরে নামিয়ে আনতে সুপারিশ করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ টনের মতো থাকে। কিন্তু এখন চাহিদা ২০০ টনে উঠেছে। তবে এখনো দেশে অক্সিজেনের জোগান আছে এবং ভারত থেকেও আমদানি হচ্ছে।

বিধিনিষেধের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, আগের দুই সপ্তাহের বিধিনিষেধে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণ কমেছে। আরও কিছুদিন পরে বিধিনিষেধের প্রভাব বোঝা যাবে। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত মানুষ ঢাকায় চলে আসছে।

টিকা নেওয়ার বয়স ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ৩৫ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সরকারি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বয়সসীমা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। করোনা সংক্রমণ রোধে ‘ফ্রন্ট লাইনার’ হিসাবে যারা কাজ করছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদেরকে প্রথমে টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি সাধারণ নাগরিকদের টিকার আওতায় আনা হবে। অন্যান্য টিকা যেভাবে দেওয়া হয়, করোনার টিকা আরও কীভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়ে সরকার ভাবছে।

অধ্যাপক খুরশীদ বলেন, আমি হাসপাতাল তিনটি পরিদর্শন করার সময় জেনেছি-ভর্তি রোগীদের শতকরা ৯৭ ভাগ করোনার টিকাগ্রহণ করেননি। তাদের অধিকাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি। টিকা না নেওয়ার ব্যাপারে রোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন-কেউ ভয়ে, আবার কেউ অবহেলা করে টিকা নেননি। এমনকি অনেকে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পরেও সময়মতো চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি সংকটাপন্ন রোগীদের ৯৭ শতাংশ ঢাকার বাইরের। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার বাইরের রোগীদের জন্য বিভিন্ন জেলায় ফিল্ড হাসপাতাল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকও জানিয়েছিলেন, করোনা টিকা গ্রহণের বয়স ১৮ বছর করার কথা ভাবছে সরকার। ১৫ জুলাই তিনি বলেন, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি টিকার জন্য নিবন্ধনের বয়সসীমা ১৮ বছর পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে। আমরা চিন্তা করছি টিকার জন্য বয়সসীমা আরও নামিয়ে আনা যায় কিনা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে। টেকনিক্যাল কমিটিকেও জানানো হয়েছে, ১৮ বছর এবং তার ঊর্ধ্বে টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। তবে ১২ ?জুলাই কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি আরও মানুষকে দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে আসতে বয়সসীমা ১৮ বছরে নামিয়ে আনতে সুপারিশ করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ টনের মতো থাকে। কিন্তু এখন চাহিদা ২০০ টনে উঠেছে। তবে এখনো দেশে অক্সিজেনের জোগান আছে এবং ভারত থেকেও আমদানি হচ্ছে।

বিধিনিষেধের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, আগের দুই সপ্তাহের বিধিনিষেধে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণ কমেছে। আরও কিছুদিন পরে বিধিনিষেধের প্রভাব বোঝা যাবে। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত মানুষ ঢাকায় চলে আসছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন