জেলেদের পক্ষে কথা বলায় রোষানলে পড়ার অভিযোগ
jugantor
কক্সবাজারে মাদকের সিন্ডিকেট
জেলেদের পক্ষে কথা বলায় রোষানলে পড়ার অভিযোগ

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে অসহায় জেলেদের পক্ষে কথা বলায় এক সাংবাদিক চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, হয়রানিমূলক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরস্থ যুগান্তর প্রতিবেদক মো. আবুল কাশেমের পরিবারের সদস্যরা এমন অভিযোগ করেছেন। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে তার মুক্তি দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, ১৯ জুলাই সাংবাদিক কাশেমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমনখালি গ্রামে। তবে তিনি সপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করেন। বাবা অসুস্থ হওয়ায় তিনি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, মিয়ানমার থেকে মাদক পাচার প্রতিরোধে টেকনাফের নাফ নদীতে গত ৪ বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এতে নাফ নদীনির্ভর নিবন্ধিত ১ হাজার ১৪১ জন জেলে ও অনিবন্ধিত আরও সহস্রাধিক জেলে বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যদিও এসব জেলে পরিবারে চরম অভাব নেমে এলেও মাদক পাচার বন্ধ হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক কাশেম বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন খবরে অসহায় জেলেরা তার সঙ্গে দেখা করে তাদের পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। জেলেরা নাফ নদী থেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কাশেমের সহযোগিতা কামনা করেন।

টেকনাফ উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ বলেন, নিজ গ্রামের জেলেদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আটকের দুদিন আগে ১৬ জুলাই কাশেম আমাকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে জেলেদের দুরবস্থার কথা অবগত করে পুনরায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় বিজিবির সদস্যরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নাফ নদী ঘিরে গড়ে ওঠা মাদকের সিন্ডিকেট। তারা সাংবাদিক কাশেমের নামে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে ১৮ জুলাই সাংবাদিক কাশেমকে আটক করে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এক রাত আটকে রেখে আমাকে ছেড়ে দিলেও একটি হয়রানিমূক মামলায় কাশেমকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলেদের মাছ ধরা বন্ধের সুযোগে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় ঝিমনখালীর নাফ নদীর অংশের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার কয়েগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঝিমনখালীর পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা পাচার করেন আলোচিত মাদককারবারি শাহ আলম মেম্বারের নেতৃত্বে একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট। নদীতে জেলেদের আনাগোনা থাকলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই সাংবাদিক কাশেমের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে ইয়াবাকারবারিরা। কারণ কাশেম অসহায় জেলেদের পক্ষে কথা বলেছিলেন। গাজীপুরের মামলাটিও মাদককারবারিদের চক্রান্তের অংশ বলে উল্লেখ করেন ওই কৃষক লীগ নেতা।

শাহ আলম মেম্বার বলেন, সাংবাদিক কাশেম আমার এলাকার সন্তান। সে জেলেদের হয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে বলে আমিও জেনেছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে সবই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমি ইয়াবা মামলার আসামি হয়েছি।

টেকনাফ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিক কাশেমের বিরুদ্ধে গাজীপুরের একটি থানায় নারীঘটিত মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাংবাদিক কাশেমের স্ত্রী নাছরিন আক্তার বলেন, চরিত্রহীন একটি মেয়েকে টাকার বিনিময়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলা করিয়েছে চিহ্নিত মাদককারবারিরা। এটি যে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক তার পর্যাপ্ত তথ্য আমার কাছে আছে। আমি আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

কক্সবাজারে মাদকের সিন্ডিকেট

জেলেদের পক্ষে কথা বলায় রোষানলে পড়ার অভিযোগ

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে অসহায় জেলেদের পক্ষে কথা বলায় এক সাংবাদিক চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, হয়রানিমূলক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরস্থ যুগান্তর প্রতিবেদক মো. আবুল কাশেমের পরিবারের সদস্যরা এমন অভিযোগ করেছেন। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে তার মুক্তি দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, ১৯ জুলাই সাংবাদিক কাশেমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমনখালি গ্রামে। তবে তিনি সপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করেন। বাবা অসুস্থ হওয়ায় তিনি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, মিয়ানমার থেকে মাদক পাচার প্রতিরোধে টেকনাফের নাফ নদীতে গত ৪ বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এতে নাফ নদীনির্ভর নিবন্ধিত ১ হাজার ১৪১ জন জেলে ও অনিবন্ধিত আরও সহস্রাধিক জেলে বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যদিও এসব জেলে পরিবারে চরম অভাব নেমে এলেও মাদক পাচার বন্ধ হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক কাশেম বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন খবরে অসহায় জেলেরা তার সঙ্গে দেখা করে তাদের পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। জেলেরা নাফ নদী থেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কাশেমের সহযোগিতা কামনা করেন।

টেকনাফ উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ বলেন, নিজ গ্রামের জেলেদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আটকের দুদিন আগে ১৬ জুলাই কাশেম আমাকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে জেলেদের দুরবস্থার কথা অবগত করে পুনরায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় বিজিবির সদস্যরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নাফ নদী ঘিরে গড়ে ওঠা মাদকের সিন্ডিকেট। তারা সাংবাদিক কাশেমের নামে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে ১৮ জুলাই সাংবাদিক কাশেমকে আটক করে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এক রাত আটকে রেখে আমাকে ছেড়ে দিলেও একটি হয়রানিমূক মামলায় কাশেমকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলেদের মাছ ধরা বন্ধের সুযোগে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় ঝিমনখালীর নাফ নদীর অংশের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার কয়েগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঝিমনখালীর পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা পাচার করেন আলোচিত মাদককারবারি শাহ আলম মেম্বারের নেতৃত্বে একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট। নদীতে জেলেদের আনাগোনা থাকলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই সাংবাদিক কাশেমের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে ইয়াবাকারবারিরা। কারণ কাশেম অসহায় জেলেদের পক্ষে কথা বলেছিলেন। গাজীপুরের মামলাটিও মাদককারবারিদের চক্রান্তের অংশ বলে উল্লেখ করেন ওই কৃষক লীগ নেতা।

শাহ আলম মেম্বার বলেন, সাংবাদিক কাশেম আমার এলাকার সন্তান। সে জেলেদের হয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে বলে আমিও জেনেছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে সবই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমি ইয়াবা মামলার আসামি হয়েছি।

টেকনাফ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিক কাশেমের বিরুদ্ধে গাজীপুরের একটি থানায় নারীঘটিত মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাংবাদিক কাশেমের স্ত্রী নাছরিন আক্তার বলেন, চরিত্রহীন একটি মেয়েকে টাকার বিনিময়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলা করিয়েছে চিহ্নিত মাদককারবারিরা। এটি যে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক তার পর্যাপ্ত তথ্য আমার কাছে আছে। আমি আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন