জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত দুর্ভোগ
jugantor
পূর্ণিমার প্রভাব
জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত দুর্ভোগ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে নদী উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলের ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার মানুষ। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ সম্পর্কে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : অস্বাভাবিক জোয়ারে মেঘনা উপকূলীয় রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। হায়দরগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরপাঙ্গাসিয়া ও হায়দরগঞ্জ এলাকার সাজু মোল্লার ঘাট পানিতে ডুবে গেছে। রায়পুর উপজেলার মেঘনার ভাঙনকবলিত উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী এবং চরআবাবিল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনির হোসেন মোল্লা বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে ৫-৬টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু-মহিষসহ গবাদিপশু নিয়ে লোকজন বিপাকে পড়েছেন।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে রাস্তা। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে কৃষক ও খামারি পড়েছে বিপাকে। জোয়ার আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড়ের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নে তেলির চর, উত্তর চরআবদুল্লাহ, চরঘাসিয়া ও চরমোজ্জামেল পানিতে ডুবে গেছে। ছাড়াও বালুর চর, চরআলেকজান্ডার, সুজনগ্রাম, গাবতলী, চরআলগী, চর গোঁসাই, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারীয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে।

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আবু নাছের ও যুবলীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মেজু জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে রামগতি পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ড পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে পৌর বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

রামগতির চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জুর বলেন, গত দুদিনের কয়েক দফা জোয়ারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জোয়ার আতঙ্কে রয়েছে। জোয়ারের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে চরাঞ্চলের মানুষের। কমলনগরের চর কালকিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার ছাইফ উল্লাহ বলেন, জোয়ার এলেই তার ইউনিয়নসহ উপকূলীয় সব ইউনিয়ন অরক্ষিত হয়ে পড়ে। তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় জোয়ার এলেই সব ডুবে যায়।

চরফ্যাশন (দক্ষিণ) : অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা, বিছিন্ন দ্বীপ ঢালচর, কুকরিমুকরি, চরপাতিলা, নজরুল নগরসহ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মাছের ঘের, সবজি ক্ষেত, ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মেঘনা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাজেদ মুন্সী জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে আমার পুকুর, লেবুর বাগান, পটল ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে আগামী দু-একদিনের মধ্য নিচু এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে যাবে। চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপ্রকোশলী মিজানুর রহমান জানান, পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তেঁতুলিয়া নদীর ১০ সেন্টিমিটার এবং মেঘনা নদীর ৬৯ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দশমিনা দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্ষা আর জোয়ার এলে গ্রামটির মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী কালাম জানান, বাঁধ না থাকায় গ্রামটিতে পানি ঢুকে পড়ে। ঢনঢনিয়া গ্রামের নুর ইসলাম জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস গ্রামটি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকে। এ সময় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। খুব কষ্টে এ গ্রামের মানুষকে দিন কাটাতে হয়। উপকূলবর্তী গ্রামটির শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উত্তাল সাগরের জোয়ারের পানি তিন থেকে চার ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের বালিয়াড়ি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বিমানবাহিনীর স্থাপনা। উপড়ে গেছে অসংখ্য ঝাউগাছ। জোয়ারের ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে পড়েছে কক্সবাজার হিমছড়ির পরিত্যক্ত মাধবী রেস্টহাউজটি।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে ডেইল ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ একদম বিলীন হয়ে যায়। এখনো ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হয়নি। শনিবার আবারও প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও চাষাদের জমি। বাংলাদেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রেটিও রয়েছে ঝুঁকিতে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, দেড় মাস আগে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। অনেক কষ্ট করে মেরামত করেছি। কিন্তু আবারও নোনা পানি ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও জেলা আ.লীগের সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার বেড়িবাঁধ মেরামতও করেনি, জিওব্যাগও দেয়নি। ১২ গ্রামের বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান, সৈকতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এমনভাবে মেরামত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

পূর্ণিমার প্রভাব

জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত দুর্ভোগ

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে নদী উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলের ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার মানুষ। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ সম্পর্কে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : অস্বাভাবিক জোয়ারে মেঘনা উপকূলীয় রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। হায়দরগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরপাঙ্গাসিয়া ও হায়দরগঞ্জ এলাকার সাজু মোল্লার ঘাট পানিতে ডুবে গেছে। রায়পুর উপজেলার মেঘনার ভাঙনকবলিত উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী এবং চরআবাবিল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনির হোসেন মোল্লা বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে ৫-৬টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু-মহিষসহ গবাদিপশু নিয়ে লোকজন বিপাকে পড়েছেন।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে রাস্তা। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে কৃষক ও খামারি পড়েছে বিপাকে। জোয়ার আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড়ের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নে তেলির চর, উত্তর চরআবদুল্লাহ, চরঘাসিয়া ও চরমোজ্জামেল পানিতে ডুবে গেছে। ছাড়াও বালুর চর, চরআলেকজান্ডার, সুজনগ্রাম, গাবতলী, চরআলগী, চর গোঁসাই, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারীয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে।

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আবু নাছের ও যুবলীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মেজু জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে রামগতি পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ড পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে পৌর বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

রামগতির চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জুর বলেন, গত দুদিনের কয়েক দফা জোয়ারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জোয়ার আতঙ্কে রয়েছে। জোয়ারের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে চরাঞ্চলের মানুষের। কমলনগরের চর কালকিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার ছাইফ উল্লাহ বলেন, জোয়ার এলেই তার ইউনিয়নসহ উপকূলীয় সব ইউনিয়ন অরক্ষিত হয়ে পড়ে। তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় জোয়ার এলেই সব ডুবে যায়।

চরফ্যাশন (দক্ষিণ) : অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা, বিছিন্ন দ্বীপ ঢালচর, কুকরিমুকরি, চরপাতিলা, নজরুল নগরসহ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মাছের ঘের, সবজি ক্ষেত, ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মেঘনা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাজেদ মুন্সী জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে আমার পুকুর, লেবুর বাগান, পটল ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে আগামী দু-একদিনের মধ্য নিচু এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে যাবে। চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপ্রকোশলী মিজানুর রহমান জানান, পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তেঁতুলিয়া নদীর ১০ সেন্টিমিটার এবং মেঘনা নদীর ৬৯ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দশমিনা দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্ষা আর জোয়ার এলে গ্রামটির মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী কালাম জানান, বাঁধ না থাকায় গ্রামটিতে পানি ঢুকে পড়ে। ঢনঢনিয়া গ্রামের নুর ইসলাম জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস গ্রামটি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকে। এ সময় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। খুব কষ্টে এ গ্রামের মানুষকে দিন কাটাতে হয়। উপকূলবর্তী গ্রামটির শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উত্তাল সাগরের জোয়ারের পানি তিন থেকে চার ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের বালিয়াড়ি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বিমানবাহিনীর স্থাপনা। উপড়ে গেছে অসংখ্য ঝাউগাছ। জোয়ারের ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে পড়েছে কক্সবাজার হিমছড়ির পরিত্যক্ত মাধবী রেস্টহাউজটি।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে ডেইল ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ একদম বিলীন হয়ে যায়। এখনো ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হয়নি। শনিবার আবারও প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও চাষাদের জমি। বাংলাদেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রেটিও রয়েছে ঝুঁকিতে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, দেড় মাস আগে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। অনেক কষ্ট করে মেরামত করেছি। কিন্তু আবারও নোনা পানি ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও জেলা আ.লীগের সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার বেড়িবাঁধ মেরামতও করেনি, জিওব্যাগও দেয়নি। ১২ গ্রামের বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান, সৈকতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এমনভাবে মেরামত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন