তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
jugantor
আমানতে উচ্চ সুদের প্রলোভন
তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

  হামিদ বিশ্বাস  

২৬ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষকে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে এ অফার দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।

জানা গেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণে জর্জরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের জমানো টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এরপরও প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে ব্যাংকবহির্ভূত কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খুদে বার্তা বা এসএমএস-এর মাধ্যমে অমানতকারীদের দেওয়া হচ্ছে উচ্চ সুদের লোভনীয় অফার। সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গেল ডিজিট বা ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহের কথা বলা হলেও প্রতিষ্ঠাগুলো সাড়ে ৯ ও ১০ শতাংশে আমানত সংগ্রহ করছে। এ অপরাধে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।

ফিক্সড ডিপোজিটে সাড়ে নয় শতাংশের লোভনীয় অফার দিয়ে খুদে বার্তা দিচ্ছে ফার্স্ট ফাইন্যান্স। এ বিষয়ে জানতে খুদে বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) গোলাম মহিউদ্দিন জানান, তিন প্রক্রিয়ায় ইন্টারেস্ট নেওয়া যাবে। প্রতিমাসে, তিন মাস অন্তর এবং এক বছর পর লাভ ও আসল সঙ্গে উত্তোলন করা যাবে।

ঋণে ৯ ও আমানতে ৬ শতাংশ সুদ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাহলে আপনারা কীভাবে সাড়ে ৯ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছেন? জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, এটি ব্যাংকের জন্য নির্দেশনা, আমরা আরও ৬ শতাংশ বেশি সুদে ঋণ দিতে পারি। তাই এ অফার দেওয়া হয়েছে। আমরা ২৮ বছর সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছি। আমাদের কোনো অনিয়ম নেই।

ফার্স্ট ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান বলেন, উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের বিষয়ে বোর্ডে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শোকজের বিষয়টিও আমি জানি না। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারব।

মাসিক আয় স্কিমের নামের অফারে এক লাখ টাকায় প্রতিমাসে ১ হাজার ২২ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার মাঈনুল হাসান বলেন, ১ আগস্ট আমাদের অফার শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি এ অফার গ্রহণ করতে চান দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি চাইলে আপনার অফিস কিংবা বাসায় গিয়ে সব ধরনের কাগজপত্র পূরণ করব এবং অনলাইন ও চেকে আপনার ডিপোজিটের টাকা জমা দিতে পারবেন।

আরেক প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা ফাইন্যান্স কুইক সঞ্চয় নামের ডিপোজিট স্কিম চালু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রাহকদের খুদে বার্তা পাঠিয়েছে তারা। এতে বলা হয়েছে, মাত্র ৫৪ মাসে জমাকৃত অর্থ তিনগুণ করার সুবিধা ‘কুইক সঞ্চয়’।

নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করায় প্রতিষ্ঠান তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শাতে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রলোভনে আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করায় আপনাদের বিরুদ্ধে কেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ৪২ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী, ‘আইনের কোনো বিধান বা বিধানের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করলে অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে ব্যাংকগুলো গড়ে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। এক বছর আগে যেখানে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। একইভাবে ঋণের গড় সুদহার এক বছর আগের ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমেছে। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গড় সুদহারও কমতির দিকে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদের অফার দিচ্ছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আমানতে উচ্চ সুদের প্রলোভন

তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

 হামিদ বিশ্বাস 
২৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষকে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে এ অফার দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।

জানা গেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণে জর্জরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের জমানো টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এরপরও প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে ব্যাংকবহির্ভূত কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খুদে বার্তা বা এসএমএস-এর মাধ্যমে অমানতকারীদের দেওয়া হচ্ছে উচ্চ সুদের লোভনীয় অফার। সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গেল ডিজিট বা ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহের কথা বলা হলেও প্রতিষ্ঠাগুলো সাড়ে ৯ ও ১০ শতাংশে আমানত সংগ্রহ করছে। এ অপরাধে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।

ফিক্সড ডিপোজিটে সাড়ে নয় শতাংশের লোভনীয় অফার দিয়ে খুদে বার্তা দিচ্ছে ফার্স্ট ফাইন্যান্স। এ বিষয়ে জানতে খুদে বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) গোলাম মহিউদ্দিন জানান, তিন প্রক্রিয়ায় ইন্টারেস্ট নেওয়া যাবে। প্রতিমাসে, তিন মাস অন্তর এবং এক বছর পর লাভ ও আসল সঙ্গে উত্তোলন করা যাবে।

ঋণে ৯ ও আমানতে ৬ শতাংশ সুদ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাহলে আপনারা কীভাবে সাড়ে ৯ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছেন? জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, এটি ব্যাংকের জন্য নির্দেশনা, আমরা আরও ৬ শতাংশ বেশি সুদে ঋণ দিতে পারি। তাই এ অফার দেওয়া হয়েছে। আমরা ২৮ বছর সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছি। আমাদের কোনো অনিয়ম নেই।

ফার্স্ট ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান বলেন, উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের বিষয়ে বোর্ডে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শোকজের বিষয়টিও আমি জানি না। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারব।

মাসিক আয় স্কিমের নামের অফারে এক লাখ টাকায় প্রতিমাসে ১ হাজার ২২ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার মাঈনুল হাসান বলেন, ১ আগস্ট আমাদের অফার শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি এ অফার গ্রহণ করতে চান দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি চাইলে আপনার অফিস কিংবা বাসায় গিয়ে সব ধরনের কাগজপত্র পূরণ করব এবং অনলাইন ও চেকে আপনার ডিপোজিটের টাকা জমা দিতে পারবেন।

আরেক প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা ফাইন্যান্স কুইক সঞ্চয় নামের ডিপোজিট স্কিম চালু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রাহকদের খুদে বার্তা পাঠিয়েছে তারা। এতে বলা হয়েছে, মাত্র ৫৪ মাসে জমাকৃত অর্থ তিনগুণ করার সুবিধা ‘কুইক সঞ্চয়’।

নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করায় প্রতিষ্ঠান তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শাতে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রলোভনে আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করায় আপনাদের বিরুদ্ধে কেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ৪২ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী, ‘আইনের কোনো বিধান বা বিধানের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করলে অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে ব্যাংকগুলো গড়ে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। এক বছর আগে যেখানে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। একইভাবে ঋণের গড় সুদহার এক বছর আগের ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমেছে। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গড় সুদহারও কমতির দিকে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদের অফার দিচ্ছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন