আমদানি কনটেইনার স্থানান্তর শুরু
jugantor
চট্টগ্রাম বন্দর
আমদানি কনটেইনার স্থানান্তর শুরু

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

২৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দর

চলমান কঠোর বিধিনিষেধে চাপ সামাল দিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেসরকারি আইসিডিতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার স্থানান্তর শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

১ হাজার ২৯১ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কনটেইনার সোমবার স্থানান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে কনটেইনারের চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, আগে ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তর ও সেখান থেকে ডেলিভারি দেওয়ার অনুমতি ছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর আমরা এখন সব ধরনের আমদানি কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তর করছি। আগে থেকে ইয়ার্ডে রাখা কনটেইনারগুলো যেভাবে ছিল, সেভাবেই থাকছে। জেটিতে নতুন ভেড়া জাহাজ থেকে যেসব আমদানি কনটেইনার খালাস হচ্ছে, সেগুলো আইসিডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আরও কিছু কনটেইনার মঙ্গলবার আইসিডিতে পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যাটি আজ জানা যাবে। কারণ রাতেও কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়। আমদানিকারকদের সুবিধার্থে একটি জাহাজের সব কনটেইনার একটি আইসিডিতে রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৪ দিনের চলমান কঠোর বিধিনিষেধে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় কাঁচামাল ডেলিভারি নিচ্ছেন না আমদানিকারকের মনোনীত অনেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। এ কারণে বন্দরের ইয়ার্ডে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনারের চাপ বাড়ছে। তবে এখনও জট সৃষ্টি হয়নি। ৪৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বিপরীতে মঙ্গলবার কনটেইনার ছিল ৪৩ হাজার। আরও প্রায় ৭ হাজার রাখার স্থান রয়েছে। খাদ্যপণ্যসহ এ ধরনের কিছু কনটেইনার ডেলিভারি হচ্ছে। কিছু আমরা আইসিডিতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আবার নতুন কনটেইনার আসছে। এভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

আইসিডি সংশ্লিষ্টরা বলেন, বন্দর সংলগ্ন ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে ১৫-২০ হাজার আমদানি কনটেইনার রাখার জায়গা রয়েছে। বন্দর থেকে কনটেইনার আসতে শুরু করায় এখন আইসিডিগুলোও আস্তে আস্তে আমদানি কনটেইনারে ভরে যাচ্ছে।

কঠোর বিধিনিষেধে আমদানি কনটেইনারের চাপ সামাল দিতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার সাময়িকভাবে প্রাইভেট আইসিডিতে নিয়ে ডেলিভারির অনুমতি দিতে ১৬ জুলাই এনবিআর-কে চিঠি দেয় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। গত রোববার এনবিআর শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি দেয়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই অনুমতি বলবৎ থাকবে। এনবিআরের শর্তের মধ্যে রয়েছে আইসিডিতে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কনটেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করতে হবে এবং স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আইসিডিতে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্যচালান আবশ্যিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

একাধিক আমদানিকারক যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি আইসিডি থেকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি নিতে গেলে নানা অজুহাতে বিভিন্নরকম চার্জ আরোপ করা হয়। এদিক থেকে বন্দরেই খরচ কম পড়ে। তবু তারা বন্দর সচল রাখার স্বার্থে আইসিডিতে কনটেইনার স্থানান্তরের পক্ষে। কারণ অন্য কোনো উপায় এ মুহূর্তে খোলা নেই। বন্দরকে সচল রাখতে এটা একটা সাময়িক উদ্যোগ। এর আগেও গত বছরের প্রথম লকডাউনের সময় এনবিআর আমদানি কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছিল। তখনও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আইসিডিতে কনটেইনার পাঠালে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তারা যেন কোনো অযৌক্তিক মাশুল আদায় করতে না পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর

আমদানি কনটেইনার স্থানান্তর শুরু

 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার জট। মঙ্গলবারের তোলা ছবি- যুগান্তর

চলমান কঠোর বিধিনিষেধে চাপ সামাল দিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেসরকারি আইসিডিতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার স্থানান্তর শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

১ হাজার ২৯১ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কনটেইনার সোমবার স্থানান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে কনটেইনারের চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, আগে ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তর ও সেখান থেকে ডেলিভারি দেওয়ার অনুমতি ছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর আমরা এখন সব ধরনের আমদানি কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তর করছি। আগে থেকে ইয়ার্ডে রাখা কনটেইনারগুলো যেভাবে ছিল, সেভাবেই থাকছে। জেটিতে নতুন ভেড়া জাহাজ থেকে যেসব আমদানি কনটেইনার খালাস হচ্ছে, সেগুলো আইসিডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আরও কিছু কনটেইনার মঙ্গলবার আইসিডিতে পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যাটি আজ জানা যাবে। কারণ রাতেও কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়। আমদানিকারকদের সুবিধার্থে একটি জাহাজের সব কনটেইনার একটি আইসিডিতে রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৪ দিনের চলমান কঠোর বিধিনিষেধে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় কাঁচামাল ডেলিভারি নিচ্ছেন না আমদানিকারকের মনোনীত অনেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। এ কারণে বন্দরের ইয়ার্ডে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনারের চাপ বাড়ছে। তবে এখনও জট সৃষ্টি হয়নি। ৪৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বিপরীতে মঙ্গলবার কনটেইনার ছিল ৪৩ হাজার। আরও প্রায় ৭ হাজার রাখার স্থান রয়েছে। খাদ্যপণ্যসহ এ ধরনের কিছু কনটেইনার ডেলিভারি হচ্ছে। কিছু আমরা আইসিডিতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আবার নতুন কনটেইনার আসছে। এভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

আইসিডি সংশ্লিষ্টরা বলেন, বন্দর সংলগ্ন ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে ১৫-২০ হাজার আমদানি কনটেইনার রাখার জায়গা রয়েছে। বন্দর থেকে কনটেইনার আসতে শুরু করায় এখন আইসিডিগুলোও আস্তে আস্তে আমদানি কনটেইনারে ভরে যাচ্ছে।

কঠোর বিধিনিষেধে আমদানি কনটেইনারের চাপ সামাল দিতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার সাময়িকভাবে প্রাইভেট আইসিডিতে নিয়ে ডেলিভারির অনুমতি দিতে ১৬ জুলাই এনবিআর-কে চিঠি দেয় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। গত রোববার এনবিআর শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি দেয়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই অনুমতি বলবৎ থাকবে। এনবিআরের শর্তের মধ্যে রয়েছে আইসিডিতে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কনটেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করতে হবে এবং স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আইসিডিতে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্যচালান আবশ্যিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

একাধিক আমদানিকারক যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি আইসিডি থেকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি নিতে গেলে নানা অজুহাতে বিভিন্নরকম চার্জ আরোপ করা হয়। এদিক থেকে বন্দরেই খরচ কম পড়ে। তবু তারা বন্দর সচল রাখার স্বার্থে আইসিডিতে কনটেইনার স্থানান্তরের পক্ষে। কারণ অন্য কোনো উপায় এ মুহূর্তে খোলা নেই। বন্দরকে সচল রাখতে এটা একটা সাময়িক উদ্যোগ। এর আগেও গত বছরের প্রথম লকডাউনের সময় এনবিআর আমদানি কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছিল। তখনও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আইসিডিতে কনটেইনার পাঠালে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তারা যেন কোনো অযৌক্তিক মাশুল আদায় করতে না পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন