গাড়ির মালিকদের রিটার্ন যাচাইয়ের উদ্যোগ
jugantor
গাড়ির মালিকদের রিটার্ন যাচাইয়ের উদ্যোগ

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাড়ির মালিকদের আয়কর রিটার্ন যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিআরটিএতে নিবন্ধিত গাড়ি রিটার্নে দেখানো হয়েছে কিনা, দেখানো হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তার মিল রয়েছে কিনা, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। শুধু তাই নয়, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা নবায়নকালে অগ্রিম আয়কর আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে বিআরটিএর সঙ্গে এনবিআর যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অনিময়, কর ফাঁকি বন্ধে এনবিআর বিআরটিএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসাবে ২৩ জুন দুই সংস্থার সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে অনেক গাড়ির মালিককে আয়কর রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে কর বিভাগের চোখ এড়াতে জাল টিআইএন ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে।

এসব অনিয়ম বন্ধে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ বন্ধ, অগ্রিম আয়কর পরিশোধে বাধ্য হবে গাড়ির মালিকরা।

সূত্র আরও জানায়, বৈধ টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) দিয়ে বিআরটিএ যেসব গাড়ি রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সার্কেল অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। এসব তালিকা সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের সার্কেলগুলোতে ১৩ জুলাই পাঠানো হয়েছে। সার্কেলগুলোকে তালিকা অনুযায়ী গাড়ির মালিকদের রিটার্ন যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ির মালিক রিটার্ন জমা দিয়েছে কিনা অথবা গাড়ির বিনিয়োগ রিটার্নে দেখানো হয়েছে কিনা, তা ছক আকারে এনবিআরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এনবিআর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে করদাতাদের মধ্যে সঠিক মূল্য দেখিয়ে গাড়িতে বিনিয়োগের ঘোষণায় অনীহা দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও একাধিক গাড়ির মালিকানা থাকলেও তা গোপন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যার ফলে রাজস্ব আদায় হ্রাস পাচ্ছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির মালিকদের কর ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ। চাইলেও ভবিষ্যতে কেউ আর তথ্য গোপন করতে পারবে না। যেমন অনেকে জাল টিআইএন ব্যবহার করে গাড়ির নিবন্ধন নিয়েছে। ভবিষ্যতে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে গেলে বিআরটিএ টিআইএন যাচাই করবে। এ জন্য বিআরটিএকে এনবিআরের সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং জাল টিআইএনে গাড়ির নবায়ন সম্ভব নয়। আবার অনেকে বৈধ টিআইএনে গাড়ি কিনলেও তা রিটার্নে দেখায়নি। এমন করদাতাদের খুঁজে বের করতে গাড়ির নাম, মডেল নম্বর, মালিকের নাম ও টিআইএনের তালিকা সার্কেল অফিসে পাঠানো হয়েছে। সার্কেল অফিসকে সেগুলোকে যাচাই করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর আদায়ে চলতি অর্থবছরের বাজেটে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এতে অগ্রিম আয়কর আদায় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের নিয়ম করা হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে জরিমানা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিআরটিএ দুই বছরের জন্য গাড়ির ফিটনেস সনদ দিয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫শ’ সিসির কম গাড়ির ফিটনেস সনদ নিলে প্রথম বছরের জন্য ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।

পরের বছরের অগ্রিম আয়করের টাকা ২০২৩ সালের ৩০ জুনের আগে পরিশোধ করতে হবে। গাড়ির মালিক ৩০ জুনের পরে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলে পরবর্তী নবায়নের সময় ২৫ হাজার টাকার পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। অর্থাৎ পরবর্তী নবায়নে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর হিসেবে দিতে হবে।

এনবিআরের সদস্য (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা) মাহবুব হোসেন বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিকদের রিটার্নের তথ্য যাচাইয়ে কর অঞ্চলগুলো চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, সারা দেশে মোট নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৩৭টি। প্রতিবছরই ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন সংখ্যা বাড়ছে। ২০২০ সালে ১২ হাজার ৪০৩টি গাড়ি নিবন্ধন নিয়েছে। আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে ৬ হাজার ১৯৬টি গাড়ি। এছাড়া বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল-সব মিলিয়ে বিআরটিএতে নিবন্ধিত যানবাহনের রয়েছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজারটি।

রিটার্ন জমা না দিলে মিলবে না ফিটনেস সনদ : এখন টিআইএন নম্বর থাকলেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নেওয়া যায়। আগামীতে রিটার্ন জমার স্লিপ ছাড়া ফিটনেস সনদ পাওয়া যাবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৫ মার্চ এনবিআর সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে।

১৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়কর রিটার্ন জমা ও উৎসে কর কর্তন কার্যক্রম বেগবান করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হয়। সেখানে ১০ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সবাই সরকারি সেবা পেতে টিআইএনের বদলে রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এর পরই ওইসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন-নবায়ন, নৌযান রেজিস্ট্রেশন-নবায়ন, আমদানি-রপ্তানি সনদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি ও নবায়নে ই-টিআইএন সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আছে। দেখা যাচ্ছে, টিআইএনধারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অনলাইন থেকে এ সনদ নিয়ে সব সুবিধা ভোগ করলেও আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছে না। ফলে রিটার্ন জমার হার বাড়ছে না। বড় একটি অংশ করের আওতার বাইরে থাকছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে একজন গাড়ির মালিক রিটার্ন জমা না দিয়ে শুধু ই-টিআইএনের মাধ্যমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে। আয়কর আইনে রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে টিআইএন প্রত্যাহার বা বাতিলের সুযোগ নেই। তাই টিআইএনধারীদের রিটার্ন জমা না দিয়ে আয় গোপন ও কর ফাঁকির সুযোগ থেকে যাচ্ছে।

এছাড়া দরপত্রে অংশগ্রহণ, ঠিকাদারি তালিকাভুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমার বাধ্যবাধকতা মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করলে কর জাল ও কর কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করজাল বাড়াতে এটা ভালো উদ্যোগ হতে পারে। কারণ আইনে সব টিআইএনধারীর রিটার্ন জমা দেওয়ার কথা বলা থাকলেও অনেকে রিটার্ন জমা দেন না। এটি চালু করা গেলে রিটার্ন জমা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

গাড়ির মালিকদের রিটার্ন যাচাইয়ের উদ্যোগ

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাড়ির মালিকদের আয়কর রিটার্ন যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিআরটিএতে নিবন্ধিত গাড়ি রিটার্নে দেখানো হয়েছে কিনা, দেখানো হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তার মিল রয়েছে কিনা, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। শুধু তাই নয়, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা নবায়নকালে অগ্রিম আয়কর আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে বিআরটিএর সঙ্গে এনবিআর যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অনিময়, কর ফাঁকি বন্ধে এনবিআর বিআরটিএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসাবে ২৩ জুন দুই সংস্থার সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে অনেক গাড়ির মালিককে আয়কর রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে কর বিভাগের চোখ এড়াতে জাল টিআইএন ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে।

এসব অনিয়ম বন্ধে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ বন্ধ, অগ্রিম আয়কর পরিশোধে বাধ্য হবে গাড়ির মালিকরা।

সূত্র আরও জানায়, বৈধ টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) দিয়ে বিআরটিএ যেসব গাড়ি রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সার্কেল অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। এসব তালিকা সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের সার্কেলগুলোতে ১৩ জুলাই পাঠানো হয়েছে। সার্কেলগুলোকে তালিকা অনুযায়ী গাড়ির মালিকদের রিটার্ন যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ির মালিক রিটার্ন জমা দিয়েছে কিনা অথবা গাড়ির বিনিয়োগ রিটার্নে দেখানো হয়েছে কিনা, তা ছক আকারে এনবিআরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এনবিআর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে করদাতাদের মধ্যে সঠিক মূল্য দেখিয়ে গাড়িতে বিনিয়োগের ঘোষণায় অনীহা দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও একাধিক গাড়ির মালিকানা থাকলেও তা গোপন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যার ফলে রাজস্ব আদায় হ্রাস পাচ্ছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির মালিকদের কর ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ। চাইলেও ভবিষ্যতে কেউ আর তথ্য গোপন করতে পারবে না। যেমন অনেকে জাল টিআইএন ব্যবহার করে গাড়ির নিবন্ধন নিয়েছে। ভবিষ্যতে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে গেলে বিআরটিএ টিআইএন যাচাই করবে। এ জন্য বিআরটিএকে এনবিআরের সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং জাল টিআইএনে গাড়ির নবায়ন সম্ভব নয়। আবার অনেকে বৈধ টিআইএনে গাড়ি কিনলেও তা রিটার্নে দেখায়নি। এমন করদাতাদের খুঁজে বের করতে গাড়ির নাম, মডেল নম্বর, মালিকের নাম ও টিআইএনের তালিকা সার্কেল অফিসে পাঠানো হয়েছে। সার্কেল অফিসকে সেগুলোকে যাচাই করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর আদায়ে চলতি অর্থবছরের বাজেটে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এতে অগ্রিম আয়কর আদায় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের নিয়ম করা হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে জরিমানা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিআরটিএ দুই বছরের জন্য গাড়ির ফিটনেস সনদ দিয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫শ’ সিসির কম গাড়ির ফিটনেস সনদ নিলে প্রথম বছরের জন্য ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।

পরের বছরের অগ্রিম আয়করের টাকা ২০২৩ সালের ৩০ জুনের আগে পরিশোধ করতে হবে। গাড়ির মালিক ৩০ জুনের পরে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলে পরবর্তী নবায়নের সময় ২৫ হাজার টাকার পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। অর্থাৎ পরবর্তী নবায়নে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর হিসেবে দিতে হবে।

এনবিআরের সদস্য (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা) মাহবুব হোসেন বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিকদের রিটার্নের তথ্য যাচাইয়ে কর অঞ্চলগুলো চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, সারা দেশে মোট নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৩৭টি। প্রতিবছরই ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন সংখ্যা বাড়ছে। ২০২০ সালে ১২ হাজার ৪০৩টি গাড়ি নিবন্ধন নিয়েছে। আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে ৬ হাজার ১৯৬টি গাড়ি। এছাড়া বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল-সব মিলিয়ে বিআরটিএতে নিবন্ধিত যানবাহনের রয়েছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজারটি।

রিটার্ন জমা না দিলে মিলবে না ফিটনেস সনদ : এখন টিআইএন নম্বর থাকলেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নেওয়া যায়। আগামীতে রিটার্ন জমার স্লিপ ছাড়া ফিটনেস সনদ পাওয়া যাবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৫ মার্চ এনবিআর সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে।

১৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়কর রিটার্ন জমা ও উৎসে কর কর্তন কার্যক্রম বেগবান করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হয়। সেখানে ১০ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সবাই সরকারি সেবা পেতে টিআইএনের বদলে রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এর পরই ওইসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন-নবায়ন, নৌযান রেজিস্ট্রেশন-নবায়ন, আমদানি-রপ্তানি সনদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি ও নবায়নে ই-টিআইএন সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আছে। দেখা যাচ্ছে, টিআইএনধারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অনলাইন থেকে এ সনদ নিয়ে সব সুবিধা ভোগ করলেও আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছে না। ফলে রিটার্ন জমার হার বাড়ছে না। বড় একটি অংশ করের আওতার বাইরে থাকছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে একজন গাড়ির মালিক রিটার্ন জমা না দিয়ে শুধু ই-টিআইএনের মাধ্যমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে। আয়কর আইনে রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে টিআইএন প্রত্যাহার বা বাতিলের সুযোগ নেই। তাই টিআইএনধারীদের রিটার্ন জমা না দিয়ে আয় গোপন ও কর ফাঁকির সুযোগ থেকে যাচ্ছে।

এছাড়া দরপত্রে অংশগ্রহণ, ঠিকাদারি তালিকাভুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমার বাধ্যবাধকতা মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করলে কর জাল ও কর কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করজাল বাড়াতে এটা ভালো উদ্যোগ হতে পারে। কারণ আইনে সব টিআইএনধারীর রিটার্ন জমা দেওয়ার কথা বলা থাকলেও অনেকে রিটার্ন জমা দেন না। এটি চালু করা গেলে রিটার্ন জমা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন