বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
jugantor
সুদের লেনদেন নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ
বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  বগুড়া ব্যুরো  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া সদরের ফাঁপোড় গ্রামে সুদের কারবার বন্ধ ও লেনদেন নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় সুদের কারবারিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম রকিকে (৩৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে। গ্রামের হাটখোলায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় মীমাংসার বৈঠকে তাকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। এ খবর পাঠানো পর্যন্ত বুধবার বিকালে মামলা হয়নি, পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি। সদর থানার ওসি সেলিম রেজা ও স্থানীয়রা এ তথ্য দিয়েছেন।

জানা যায়, মমিনুল ইসলাম রকি ফাঁপোড় ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামে ছেলে। তিনি ফাঁপোড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রকি আসন্ন ফাঁপোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি এলাকায় বসবাস না করলেও নির্বাচনে প্রার্থিতার কারণে জনসংযোগ ও এলাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।

ফাঁপোড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজু মণ্ডল জানান, রকি রাজনীতির পাশাপাশি মাছের ব্যবসা করতেন। ১০ টাকা কেজি দরের চালের ডিলার ছিলেন। দলের ও এলাকার কারও সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না। ফাঁপোড় ফকিরপাড়ার আবদুল মজিদ ও গোলাপী বেগমের ছেলে গাওসুল আজিম মাদক ব্যবসা ও সুদের কারবার করে। রকি এলাকা মাদক ও সুদের কারবার বন্ধের উদ্যোগ নেন। আলতাফ নামে এক প্রতিবেশী গাওসুলের মা গোলাপীর কাছে সুদে কিছু টাকা নেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে গাওসুল বাড়িতে গিয়ে আলতাফকে মারধর করে। নালিশ করলে রকি মীমাংসার জন্য এশার নামাজের পর গ্রামের হাটখোলা এলাকায় দু’পক্ষকে ডাকেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে বসে থেকে অন্যদের সঙ্গে গল্প করার সময় ২০-২২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে গাওসুল আজিমসহ সেখানে আসে। রকির সঙ্গে থাকা এলাকাবাসীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। তখন সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রকির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ফেলে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান।

সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, সুদের টাকা তুলে দেওয়া ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা গাওসুল আজিমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা মমিনুল ইসলাম রকিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকাল ৪টায় ফাঁপোড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রকির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরের বৃন্দাবনপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতা রকি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার দাবি করেছেন।

সুদের লেনদেন নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ

বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

 বগুড়া ব্যুরো 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া সদরের ফাঁপোড় গ্রামে সুদের কারবার বন্ধ ও লেনদেন নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় সুদের কারবারিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম রকিকে (৩৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে। গ্রামের হাটখোলায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় মীমাংসার বৈঠকে তাকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। এ খবর পাঠানো পর্যন্ত বুধবার বিকালে মামলা হয়নি, পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি। সদর থানার ওসি সেলিম রেজা ও স্থানীয়রা এ তথ্য দিয়েছেন।

জানা যায়, মমিনুল ইসলাম রকি ফাঁপোড় ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামে ছেলে। তিনি ফাঁপোড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রকি আসন্ন ফাঁপোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি এলাকায় বসবাস না করলেও নির্বাচনে প্রার্থিতার কারণে জনসংযোগ ও এলাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।

ফাঁপোড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজু মণ্ডল জানান, রকি রাজনীতির পাশাপাশি মাছের ব্যবসা করতেন। ১০ টাকা কেজি দরের চালের ডিলার ছিলেন। দলের ও এলাকার কারও সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না। ফাঁপোড় ফকিরপাড়ার আবদুল মজিদ ও গোলাপী বেগমের ছেলে গাওসুল আজিম মাদক ব্যবসা ও সুদের কারবার করে। রকি এলাকা মাদক ও সুদের কারবার বন্ধের উদ্যোগ নেন। আলতাফ নামে এক প্রতিবেশী গাওসুলের মা গোলাপীর কাছে সুদে কিছু টাকা নেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে গাওসুল বাড়িতে গিয়ে আলতাফকে মারধর করে। নালিশ করলে রকি মীমাংসার জন্য এশার নামাজের পর গ্রামের হাটখোলা এলাকায় দু’পক্ষকে ডাকেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে বসে থেকে অন্যদের সঙ্গে গল্প করার সময় ২০-২২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে গাওসুল আজিমসহ সেখানে আসে। রকির সঙ্গে থাকা এলাকাবাসীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। তখন সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রকির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ফেলে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান।

সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, সুদের টাকা তুলে দেওয়া ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা গাওসুল আজিমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা মমিনুল ইসলাম রকিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকাল ৪টায় ফাঁপোড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রকির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরের বৃন্দাবনপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতা রকি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার দাবি করেছেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন