নিরপরাধ মিনুকে জেল খাটানো কুলসুমা গ্রেফতার
jugantor
নিরপরাধ মিনুকে জেল খাটানো কুলসুমা গ্রেফতার

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

৩০ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে গ্রেফতার হলো নিরপরাধ মিনুকে জেল খাটানো কুলসুমা আক্তার ওরফে কুলসুমী। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর ইপিজেড থানাধীন কমিশনের গলি থেকে হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মিনুকে কারাভোগ করাতে সহযোগিতা করায় মর্জিনা আক্তার নামে আরও এক নারীকে এ সময় গ্রেফতার করা হয়। নামের মিল না থাকার পরও নিরপরাধ মিনু আক্তারকে ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন কারাভোগ করানোর অভিযোগে আকাশ মাহমুদ ফরিদ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় গ্রেফতার কুলসুমা আক্তার ও মর্জিনা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কুলসুমা লোহাগাড়া উপজেলার গৌরস্থান মাঝের পাড়া আহাম্মদ মিয়ার বাড়ির আনু মিয়ার মেয়ে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেলে জানতে চাইব, তারা কীভাবে মিনুকে এ মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত।’

২০০৬ সালের ২৯ মে কোতোয়ালি থানাধীন রহমতগঞ্জ ৮১ নম্বর সাইদ সওদাগরের ভাড়া ঘরে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারভিন আকতার নামে এক পোশাক শ্রমিককে গলাটিপে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ একটি গাছে সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন কুলসুমা।

প্রথমে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে পারভিন আত্মহত্যা করেনি। সহকর্মী পোশাক শ্রমিক কুলসুমা তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। গ্রেফতার করা হয় কুলসুমাকে।

এরপর ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারাভোগ করে কুলসুমা। সে জামিনে আসার পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কুলসুমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জানান, রায় ঘোষণার পর মর্জিনা আকতারসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের মাধ্যমে নিরপরাধ মিনুকে কুলসুমা আক্তার কুলসুমী সাজিয়ে ২০১৮ সালের ১২ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করায়।

সেই থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত নিরপরাধ মিনু কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালত কুলসুমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে মিনুর মুক্তির বিষয়ে বিনা খরচে আইনি সহায়তা দেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

এদিকে কারাগার থেকে মুক্তির পর ২৮ জুন বায়েজিদ লিংক রোড সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মিনু আকতার। পরিবার-পরিজন না থাকায় বেওয়ারিশ হিসাবে লাশ দাফন করে আনজুমানে মুফিদুল ইসলাম।

মিনুর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ট্রাক চাপায় মিনুর মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খতিয়ে দেখতে হবে।

নিরপরাধ মিনুকে জেল খাটানো কুলসুমা গ্রেফতার

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
৩০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে গ্রেফতার হলো নিরপরাধ মিনুকে জেল খাটানো কুলসুমা আক্তার ওরফে কুলসুমী। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর ইপিজেড থানাধীন কমিশনের গলি থেকে হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মিনুকে কারাভোগ করাতে সহযোগিতা করায় মর্জিনা আক্তার নামে আরও এক নারীকে এ সময় গ্রেফতার করা হয়। নামের মিল না থাকার পরও নিরপরাধ মিনু আক্তারকে ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন কারাভোগ করানোর অভিযোগে আকাশ মাহমুদ ফরিদ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় গ্রেফতার কুলসুমা আক্তার ও মর্জিনা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কুলসুমা লোহাগাড়া উপজেলার গৌরস্থান মাঝের পাড়া আহাম্মদ মিয়ার বাড়ির আনু মিয়ার মেয়ে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেলে জানতে চাইব, তারা কীভাবে মিনুকে এ মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত।’

২০০৬ সালের ২৯ মে কোতোয়ালি থানাধীন রহমতগঞ্জ ৮১ নম্বর সাইদ সওদাগরের ভাড়া ঘরে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারভিন আকতার নামে এক পোশাক শ্রমিককে গলাটিপে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ একটি গাছে সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন কুলসুমা।

প্রথমে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে পারভিন আত্মহত্যা করেনি। সহকর্মী পোশাক শ্রমিক কুলসুমা তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। গ্রেফতার করা হয় কুলসুমাকে।

এরপর ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারাভোগ করে কুলসুমা। সে জামিনে আসার পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কুলসুমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জানান, রায় ঘোষণার পর মর্জিনা আকতারসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের মাধ্যমে নিরপরাধ মিনুকে কুলসুমা আক্তার কুলসুমী সাজিয়ে ২০১৮ সালের ১২ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করায়।

সেই থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত নিরপরাধ মিনু কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালত কুলসুমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে মিনুর মুক্তির বিষয়ে বিনা খরচে আইনি সহায়তা দেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

এদিকে কারাগার থেকে মুক্তির পর ২৮ জুন বায়েজিদ লিংক রোড সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মিনু আকতার। পরিবার-পরিজন না থাকায় বেওয়ারিশ হিসাবে লাশ দাফন করে আনজুমানে মুফিদুল ইসলাম।

মিনুর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ট্রাক চাপায় মিনুর মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খতিয়ে দেখতে হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন