সরকার দেশকে দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ করে ফেলেছে: মির্জা ফখরুল
jugantor
সরকার দেশকে দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ করে ফেলেছে: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার বাংলাদেশেকে ‘দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ’ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে শুক্রবার বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকার আজকে ব্যাংকিং সেক্টর ও শেয়ার মার্কেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানি লন্ডারিং এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, এখন সরকার নিজে বলছে, এটা নিয়ন্ত্রণ করার দরকার, দুদক চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য কয়েকদিন আগে দেখলাম দুদকের যিনি সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন তার নামেও দুর্নীতির অভিযোগ চলে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে একটা নতজানু দেশ ও পরনির্ভরশীল অর্থনীতি হিসাবে তৈরি করার যে উদ্দেশ্য ছিল সেটা তারা (সরকার) করে যাচ্ছে।

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জাতীয় উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসাবে ‘ব্যক্তিখাত বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মুক্তবাজার অর্থনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবদুস সালামের সঞ্চালনায় এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ সরকার কী করেছে? একটা মিথ তৈরি করতে চায়। মিথটা কি যে, সাউথ ইস্ট এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটা রোল মডেল মধ্য আয়ের দেশ, উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ। এটা মিথ ছাড়া কিছু না। তারা গোয়েবলসীয় পদ্ধতিতে প্রচার-প্রচারণার মধ্যে দিয়ে আজকে সেই কথাটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।’ কিন্তু বাস্তব অবস্থাটা কি? বাস্তব অবস্থাটা হচ্ছে, এখন এ দেশে প্রায় ৬ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে। করোনায় আরও দুই কোটি লোক নতুন করে দরিদ্র হয়ে গেছেন। একদিকে কিছু লোক লুট, দুর্নীতির মধ্য দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়ে যাচ্ছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে উন্নত বিশ্ব বলুন, গণতান্ত্রিক বিশ্ব বলুন, তারা মনে করত যে, বাংলাদেশ ইজ এ বাস্কেট কেস, এটা ফেইল্ড স্টেট হয়ে যাবে, এখান থেকে বাঁচানোর কোনো পথ নেই। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান একটা পটেনশিয়াল ইকোনমির দেশ হিসাবে, একটা সম্ভাবনাময় জাতি নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তার মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িকতা ছিল না, তার মধ্যে কোনো কূপমণ্ডূকতা ছিল না- একজন আধুনিক মানুষ আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।

ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে প্রথমে আমাদের দলকে সুসংগঠিত করতে হবে, জনগণকে সঙ্গে নিতে হবে এবং সব গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে একীভূত করে সেই গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে আনতে হবে। যে গণতন্ত্র আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ আছেন তাকে মুক্ত করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, একজন ব্যক্তি একটা পরিবার এবং একটা দলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আজকে সমগ্র দেশকে গ্রাস করে ফেলা হচ্ছে। তখনও (১৯৭২-৭৫ সাল) ঠিক সেইভাবে গ্রাস করে ফেলা হয়েছিল। মানুষজন চোখের সামনে দেখল যে, তারা সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাটের মধ্য দিয়ে এ দেশটাকে একটা ভাগাড়ে পরিণত করেছিল- এ কথাগুলো বললে খুব বাড়িয়ে বলা হবে না। অত্যন্ত বড় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সেই সময়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নামটা পরিবর্তন করে নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি নাম দেওয়া উচিত। কারণ তারা এ দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল।

ব্যক্তি খাতের বিকাশের পুরো প্রক্রিয়াটা জিয়াউর রহমানের অবদান বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

সরকার দেশকে দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ করে ফেলেছে: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার বাংলাদেশেকে ‘দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ’ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে শুক্রবার বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকার আজকে ব্যাংকিং সেক্টর ও শেয়ার মার্কেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানি লন্ডারিং এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, এখন সরকার নিজে বলছে, এটা নিয়ন্ত্রণ করার দরকার, দুদক চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য কয়েকদিন আগে দেখলাম দুদকের যিনি সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন তার নামেও দুর্নীতির অভিযোগ চলে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে একটা নতজানু দেশ ও পরনির্ভরশীল অর্থনীতি হিসাবে তৈরি করার যে উদ্দেশ্য ছিল সেটা তারা (সরকার) করে যাচ্ছে।

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জাতীয় উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসাবে ‘ব্যক্তিখাত বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মুক্তবাজার অর্থনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবদুস সালামের সঞ্চালনায় এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ সরকার কী করেছে? একটা মিথ তৈরি করতে চায়। মিথটা কি যে, সাউথ ইস্ট এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটা রোল মডেল মধ্য আয়ের দেশ, উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ। এটা মিথ ছাড়া কিছু না। তারা গোয়েবলসীয় পদ্ধতিতে প্রচার-প্রচারণার মধ্যে দিয়ে আজকে সেই কথাটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।’ কিন্তু বাস্তব অবস্থাটা কি? বাস্তব অবস্থাটা হচ্ছে, এখন এ দেশে প্রায় ৬ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে। করোনায় আরও দুই কোটি লোক নতুন করে দরিদ্র হয়ে গেছেন। একদিকে কিছু লোক লুট, দুর্নীতির মধ্য দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়ে যাচ্ছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে উন্নত বিশ্ব বলুন, গণতান্ত্রিক বিশ্ব বলুন, তারা মনে করত যে, বাংলাদেশ ইজ এ বাস্কেট কেস, এটা ফেইল্ড স্টেট হয়ে যাবে, এখান থেকে বাঁচানোর কোনো পথ নেই। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান একটা পটেনশিয়াল ইকোনমির দেশ হিসাবে, একটা সম্ভাবনাময় জাতি নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তার মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িকতা ছিল না, তার মধ্যে কোনো কূপমণ্ডূকতা ছিল না- একজন আধুনিক মানুষ আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।

ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে প্রথমে আমাদের দলকে সুসংগঠিত করতে হবে, জনগণকে সঙ্গে নিতে হবে এবং সব গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে একীভূত করে সেই গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে আনতে হবে। যে গণতন্ত্র আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ আছেন তাকে মুক্ত করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, একজন ব্যক্তি একটা পরিবার এবং একটা দলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আজকে সমগ্র দেশকে গ্রাস করে ফেলা হচ্ছে। তখনও (১৯৭২-৭৫ সাল) ঠিক সেইভাবে গ্রাস করে ফেলা হয়েছিল। মানুষজন চোখের সামনে দেখল যে, তারা সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাটের মধ্য দিয়ে এ দেশটাকে একটা ভাগাড়ে পরিণত করেছিল- এ কথাগুলো বললে খুব বাড়িয়ে বলা হবে না। অত্যন্ত বড় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সেই সময়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নামটা পরিবর্তন করে নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি নাম দেওয়া উচিত। কারণ তারা এ দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল।

ব্যক্তি খাতের বিকাশের পুরো প্রক্রিয়াটা জিয়াউর রহমানের অবদান বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন