সড়কে যানবাহন কম, অলিগলিতে মানুষের ভিড়
jugantor
কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিন
সড়কে যানবাহন কম, অলিগলিতে মানুষের ভিড়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিন শুক্রবার ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কম ছিল। তবে বিভিন্ন পরিবহণে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা ছিল অনেকটা বেশি। ঘরের বাইরে আসা অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেছে। মাস্ক না পরেই তারা বের হন। অলিগলিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল দেখা যায়। চায়ের দোকানেও অনেকে আড্ডা দেন।

ঢাকার রাস্তায় রিকশা চলাচল অন্যদিনের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সরেজমিন রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী এবং পুরান ঢাকা ঘুরে দেখা গেছে-স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার চিত্র। বিধিনিষেধ অমান্য করায় ১০৮ জনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ৩৮১ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ৩২১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করে ট্রাফিক বিভাগ। সারা দেশে ১৮০টি টহল ও ১৮৪টি চেকপোস্ট পরিচালনা করে র‌্যাব। দেশব্যাপী পরিচালিত ২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪৭ জনকে জরিমানা করে র‌্যাব।

শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মহাসড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের ও যানবাহনের সংখ্যা কম দেখা যায়। গণপরিবহণ বন্ধ ঘোষণার কারণে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে নগর পরিবহণ ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের টহলের পাশাপাশি যাত্রাবাড়ী গোলচত্বর, দোলাইরপাড়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনির আখড়া, মাতুয়াইল ও সাইনবোর্ড এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। সড়কে বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়।

যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানা এলাকার পাড়া-মহল্লার দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। এলাকার মোড়ে মোড়ে ছিল মানুষের নানান আলাপচারিতা। তারা জানান, এলাকায় এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। এলাকায় চুরিসহ নানা অপরাধ বেড়ে গেছে। কদমতলীর গ্যাস রোডের একটি দোকানে চুরি হয়েছে।

মিরপুরে সকাল থেকে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল কম ছিল। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ গাড়ি নিয়ে বের হয়নি। তবে মহল্লার অলিগলিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের চলাচল, আড্ডাবাজি, দলবেঁধে রিকশায় ঘোরাঘুরি ছিল অন্যদিনের মতো। সরেজমিন দারুস সালাম, গাবতলী, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, বাউনিয়া বাঁধ, কাফরুল, কচুক্ষেত, ইব্রাহিমপুর ঘুরে একইচিত্র দেখা গেছে।

সকাল ১০টায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়-সেখানে যানবাহন চলাচল খুবই কম। মানুষের চলাচলও তেমন একটা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলে যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই রোগী, হাসপাতালের স্টাফ, চিকিৎসক ও অনলাইনে খাদ্য ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রফিক জানান, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র একটি মামলা হয়েছে। অন্যদিনের চেয়ে যানবাহন চলাচল অনেক কম। রোগী ও চিকিৎসক ছাড়া অন্য পেশার কেউ তেমন একটা বের হচ্ছেন না।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে আসায় ১৫টি রিকশা জব্দ করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে সেগুলো ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। মিরপুর-দুয়ারিপাড়া সড়ক, ১ নম্বর শাহ আলী মাজারের সামনের সড়ক, মিরপুর-১২ নম্বর পল্লবী পুরাতন সড়ক, মিরপুর-৭ নম্বর ও পূরবী সড়কের অস্থায়ী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, লোকজন গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। সকালে কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি-ট্রাফিক) ইলিয়াস হোসেন বলেন, চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি করছি। মামলার পাশাপাশি জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, সন্ধ্যার পর মিরপুর-১১ নম্বর লালমাটিয়া এলাকার সড়ক দখল করে চোরাই মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার বিক্রি করা হয়। এ সময় সেখানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে।

পুরান ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও অলিগলিতে জমজমাট আড্ডা ও মানুষের জটলা দেখা গেছে। কাঁচাবাজার থেকে চায়ের দোকান; কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না সাধারণ মানুষ। সরেজমিন দেখা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশে চলমান কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিন শুক্রবার পুরান ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মানুষের চলাচল কম ছিল। এদিন নয়াবাজার, সদরঘাট, সোয়ারীঘাট, মৌলভীবাজার, পলাশীসহ বিভিন্ন স্থানের কাঁচাবাজারগুলো ছিল লোকে লোকারণ্য। এছাড়া বৃষ্টির দিন হওয়ায় মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতেও জমজমাট আড্ডা দেখা গেছে। এসব স্থানে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। প্রধান সড়ক ছাড়া কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তেমন একটা তৎপরতা ছিল না।

এদিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার হোটেলগুলো আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। নাজিরাবাজার চৌরাস্তার হোটেলগুলোকে ঘিরে এমন চিত্র নিত্যদিনের। স্বাভাবিক সময়ের মতো এসব হোটেল ও খাবারের দোকানগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। রাত ৮টার পর ওষুধ ছাড়া অন্য দোকান বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।

ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার জসীম উদ্দিন মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। জরিমানা বা জেলে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়; স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন গলির চায়ের দোকানে অনেকে আড্ডা দেন। সামাজিক দূরত্ব না মেনে এবং মাস্ক না পরে তারা জমায়েত হন। এছাড়া বাড্ডা, রামপুরা, নতুনবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অন্যদিন যেসব স্থানে চেকপোস্টে কড়াকড়ি থাকে সেসব জায়গায় কোনো পুলিশ সদস্য ছিল না।

কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিন

সড়কে যানবাহন কম, অলিগলিতে মানুষের ভিড়

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিন শুক্রবার ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কম ছিল। তবে বিভিন্ন পরিবহণে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা ছিল অনেকটা বেশি। ঘরের বাইরে আসা অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেছে। মাস্ক না পরেই তারা বের হন। অলিগলিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল দেখা যায়। চায়ের দোকানেও অনেকে আড্ডা দেন।

ঢাকার রাস্তায় রিকশা চলাচল অন্যদিনের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সরেজমিন রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী এবং পুরান ঢাকা ঘুরে দেখা গেছে-স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার চিত্র। বিধিনিষেধ অমান্য করায় ১০৮ জনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ৩৮১ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ৩২১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করে ট্রাফিক বিভাগ। সারা দেশে ১৮০টি টহল ও ১৮৪টি চেকপোস্ট পরিচালনা করে র‌্যাব। দেশব্যাপী পরিচালিত ২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪৭ জনকে জরিমানা করে র‌্যাব।

শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মহাসড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের ও যানবাহনের সংখ্যা কম দেখা যায়। গণপরিবহণ বন্ধ ঘোষণার কারণে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে নগর পরিবহণ ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের টহলের পাশাপাশি যাত্রাবাড়ী গোলচত্বর, দোলাইরপাড়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনির আখড়া, মাতুয়াইল ও সাইনবোর্ড এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। সড়কে বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়।

যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানা এলাকার পাড়া-মহল্লার দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। এলাকার মোড়ে মোড়ে ছিল মানুষের নানান আলাপচারিতা। তারা জানান, এলাকায় এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। এলাকায় চুরিসহ নানা অপরাধ বেড়ে গেছে। কদমতলীর গ্যাস রোডের একটি দোকানে চুরি হয়েছে।

মিরপুরে সকাল থেকে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল কম ছিল। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ গাড়ি নিয়ে বের হয়নি। তবে মহল্লার অলিগলিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের চলাচল, আড্ডাবাজি, দলবেঁধে রিকশায় ঘোরাঘুরি ছিল অন্যদিনের মতো। সরেজমিন দারুস সালাম, গাবতলী, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, বাউনিয়া বাঁধ, কাফরুল, কচুক্ষেত, ইব্রাহিমপুর ঘুরে একইচিত্র দেখা গেছে।

সকাল ১০টায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়-সেখানে যানবাহন চলাচল খুবই কম। মানুষের চলাচলও তেমন একটা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলে যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই রোগী, হাসপাতালের স্টাফ, চিকিৎসক ও অনলাইনে খাদ্য ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রফিক জানান, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র একটি মামলা হয়েছে। অন্যদিনের চেয়ে যানবাহন চলাচল অনেক কম। রোগী ও চিকিৎসক ছাড়া অন্য পেশার কেউ তেমন একটা বের হচ্ছেন না।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে আসায় ১৫টি রিকশা জব্দ করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে সেগুলো ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। মিরপুর-দুয়ারিপাড়া সড়ক, ১ নম্বর শাহ আলী মাজারের সামনের সড়ক, মিরপুর-১২ নম্বর পল্লবী পুরাতন সড়ক, মিরপুর-৭ নম্বর ও পূরবী সড়কের অস্থায়ী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, লোকজন গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। সকালে কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি-ট্রাফিক) ইলিয়াস হোসেন বলেন, চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি করছি। মামলার পাশাপাশি জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, সন্ধ্যার পর মিরপুর-১১ নম্বর লালমাটিয়া এলাকার সড়ক দখল করে চোরাই মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার বিক্রি করা হয়। এ সময় সেখানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে।

পুরান ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও অলিগলিতে জমজমাট আড্ডা ও মানুষের জটলা দেখা গেছে। কাঁচাবাজার থেকে চায়ের দোকান; কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না সাধারণ মানুষ। সরেজমিন দেখা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশে চলমান কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিন শুক্রবার পুরান ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মানুষের চলাচল কম ছিল। এদিন নয়াবাজার, সদরঘাট, সোয়ারীঘাট, মৌলভীবাজার, পলাশীসহ বিভিন্ন স্থানের কাঁচাবাজারগুলো ছিল লোকে লোকারণ্য। এছাড়া বৃষ্টির দিন হওয়ায় মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতেও জমজমাট আড্ডা দেখা গেছে। এসব স্থানে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। প্রধান সড়ক ছাড়া কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তেমন একটা তৎপরতা ছিল না।

এদিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার হোটেলগুলো আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। নাজিরাবাজার চৌরাস্তার হোটেলগুলোকে ঘিরে এমন চিত্র নিত্যদিনের। স্বাভাবিক সময়ের মতো এসব হোটেল ও খাবারের দোকানগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। রাত ৮টার পর ওষুধ ছাড়া অন্য দোকান বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।

ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার জসীম উদ্দিন মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। জরিমানা বা জেলে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়; স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন গলির চায়ের দোকানে অনেকে আড্ডা দেন। সামাজিক দূরত্ব না মেনে এবং মাস্ক না পরে তারা জমায়েত হন। এছাড়া বাড্ডা, রামপুরা, নতুনবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অন্যদিন যেসব স্থানে চেকপোস্টে কড়াকড়ি থাকে সেসব জায়গায় কোনো পুলিশ সদস্য ছিল না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন