লকডাউনে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী: মির্জা ফখরুল
jugantor
লকডাউনে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী কলকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘পুরোপুরি আত্মঘাতী’ বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কী রকম তুঘলকি কারবার- আগে বলা হলো কারখানা খোলা হবে না, ৫ তারিখ পর্যন্তই বন্ধ থাকবে। আবার হঠাৎ করেই বলা হলো কলকারখানা খোলা হবে। কী করে লোকগুলো আসবে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার দেখা যাচ্ছে, রাতের বেলা বলছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহণ খোলা থাকবে। অযোগ্যতা, দুর্নীতিপরায়ণতা এবং আন্তরিকতার চরম অভাবে এসব আত্মহননকারী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, যেভাবে মানুষ আসছে একেবারে গাদাগাদি করে, ঘাড়ের উপরে চড়ে। একবার তাদের ছুটি দিল, সব চলে গেল। আবার ফিরছে তারা মফস্বল থেকে। এখন তো মফস্বলেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেড়েছে। ওইগুলো নিয়ে তারা আবার ফিরে আসছে। আমরা মনে করি, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার জন্য সকল দায়-দায়িত্ব নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার অবলীলায় জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারণা করছে। একদিকে সরকার বলছে, প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। অথচ ৭ মাসেও ৬০ লাখ টিকা দিতে পারেনি। টিকা প্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রতি মাসে এক কোটি টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে এক কোটি টিকা প্রদানের জন্য টিকা প্রাপ্তির উৎস সরকার এখন পর্যন্ত জানাতে পারেনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টিকা নিয়ে এসব উক্তি এখন হাস্যকর। এগুলো যে ফাঁকা বুলি-এটা বুঝতে আর জনগণের বাকি নেই। সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যার প্রকৃত পরিসংখ্যান না দিয়ে প্রতারণা করতে ‘অসত্য তথ্য’ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের করোনা কমিটির পদত্যাগ দাবি টুকুর : করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের করোনা কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ সেলের এই আহ্বায়ক বলেন, দেশে সরকার নেই। উচ্চ পর্যায়ে কমিটির মিটিং করে গার্মেন্ট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। সেই পর্যায়ে সিনিয়র সেক্রেটারি বা সিনিয়র গভর্মেন্ট অফিশিয়ালরা আছেন। তাদের মাথায় এটুকু ঢুকল না যে, আমরা যে খুলে দিচ্ছি এই লোকগুলো কীভাবে আসবে? এক অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে দলের হেল্প সেন্টারে ওষুধ সামগ্রী প্রেরণ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান হয়। দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে নরসিংদীর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মানিকগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ ও নারায়ণগঞ্জের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর হাতে ওষুধ সামগ্রী তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা প্রতিদিন সারাদেশে স্থাপিত দলের হেল্প সেন্টার থেকে মানুষের আহাজারির খবর পাচ্ছি। হসপিটালে ভর্তি হতে পারে না আমাদের কাছে আসে। আমরা তো হসপিটাল না, আমরা হেল্প সেন্টার। প্রতিদিন শত শত লোক আসছে যে, আমাদেরকে এখানে রাখেন।

টুকু জানান, এখন পর্যন্ত বিএনপি সারা দেশে প্রায় ৬০টা জেলায় বিএনপির পক্ষ থেকে ৬শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার হেল্প সেন্টারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। ৯ হাজার ৫০০ জন করোনা রোগীকে ওষুধসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। ২০ লাখ মাস্ক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সাধারণ জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ২৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে টেলিফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে দলের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাব) অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও অধ্যাপক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

লকডাউনে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী কলকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘পুরোপুরি আত্মঘাতী’ বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কী রকম তুঘলকি কারবার- আগে বলা হলো কারখানা খোলা হবে না, ৫ তারিখ পর্যন্তই বন্ধ থাকবে। আবার হঠাৎ করেই বলা হলো কলকারখানা খোলা হবে। কী করে লোকগুলো আসবে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার দেখা যাচ্ছে, রাতের বেলা বলছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহণ খোলা থাকবে। অযোগ্যতা, দুর্নীতিপরায়ণতা এবং আন্তরিকতার চরম অভাবে এসব আত্মহননকারী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, যেভাবে মানুষ আসছে একেবারে গাদাগাদি করে, ঘাড়ের উপরে চড়ে। একবার তাদের ছুটি দিল, সব চলে গেল। আবার ফিরছে তারা মফস্বল থেকে। এখন তো মফস্বলেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেড়েছে। ওইগুলো নিয়ে তারা আবার ফিরে আসছে। আমরা মনে করি, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার জন্য সকল দায়-দায়িত্ব নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার অবলীলায় জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারণা করছে। একদিকে সরকার বলছে, প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। অথচ ৭ মাসেও ৬০ লাখ টিকা দিতে পারেনি। টিকা প্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রতি মাসে এক কোটি টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে এক কোটি টিকা প্রদানের জন্য টিকা প্রাপ্তির উৎস সরকার এখন পর্যন্ত জানাতে পারেনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টিকা নিয়ে এসব উক্তি এখন হাস্যকর। এগুলো যে ফাঁকা বুলি-এটা বুঝতে আর জনগণের বাকি নেই। সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যার প্রকৃত পরিসংখ্যান না দিয়ে প্রতারণা করতে ‘অসত্য তথ্য’ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের করোনা কমিটির পদত্যাগ দাবি টুকুর : করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের করোনা কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ সেলের এই আহ্বায়ক বলেন, দেশে সরকার নেই। উচ্চ পর্যায়ে কমিটির মিটিং করে গার্মেন্ট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। সেই পর্যায়ে সিনিয়র সেক্রেটারি বা সিনিয়র গভর্মেন্ট অফিশিয়ালরা আছেন। তাদের মাথায় এটুকু ঢুকল না যে, আমরা যে খুলে দিচ্ছি এই লোকগুলো কীভাবে আসবে? এক অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে দলের হেল্প সেন্টারে ওষুধ সামগ্রী প্রেরণ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান হয়। দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে নরসিংদীর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মানিকগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ ও নারায়ণগঞ্জের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর হাতে ওষুধ সামগ্রী তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা প্রতিদিন সারাদেশে স্থাপিত দলের হেল্প সেন্টার থেকে মানুষের আহাজারির খবর পাচ্ছি। হসপিটালে ভর্তি হতে পারে না আমাদের কাছে আসে। আমরা তো হসপিটাল না, আমরা হেল্প সেন্টার। প্রতিদিন শত শত লোক আসছে যে, আমাদেরকে এখানে রাখেন।

টুকু জানান, এখন পর্যন্ত বিএনপি সারা দেশে প্রায় ৬০টা জেলায় বিএনপির পক্ষ থেকে ৬শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার হেল্প সেন্টারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। ৯ হাজার ৫০০ জন করোনা রোগীকে ওষুধসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। ২০ লাখ মাস্ক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সাধারণ জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ২৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে টেলিফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে দলের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাব) অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও অধ্যাপক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন