অবাধ চলাচলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
jugantor
কঠোর লকডাউনের ১৪তম দিন
অবাধ চলাচলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
যাতায়াতের বাহন রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরবাইক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলেছে। এ সুযোগে দোকানপাট, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। এ কারণে মানুষ বাইরে বের হচ্ছে। আর তাদেরকে পরিবহণ করতে রিকশা, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে। বাস না চলায় বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে এসব পরিবহণেই চলছেন তারা। বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে এই দৃশ্য দেখা গেছে। চেকপোস্টগুলোয় দায়িত্বে থাকা পুলিশ এসব পরিবহণ চলাচলে বাধা দেয়নি। তবে ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মামলা দিয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কাওরান বাজার, বাংলামোটর এলাকা ঘুরে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ বড় বাধা ছাড়াই চলাচল করেছেন। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে তাদের।

বুধবার সকাল ৭টায় জরুরি প্রয়োজনে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কুড়িল চৌরাস্তায় যান নান্নু মিয়া দম্পতি। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। এজন্য গুনতে হয়েছে ১৫শ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখানে তাদের দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হয়েছে। নান্নু মিয়া জানান, আমার মেয়ে সরকারি একটি সংস্থায় চাকরি করে। আজ (বুধবার) তার চাকরিতে যোগদান বাধ্যতামূলক ছিল। সে কারণে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও এসেছি।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আরও পাঁচদিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে এ তথ্য জানান বৈঠকের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, দোকানপাট খোলা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টিকা নিয়ে খুলতে হবে। নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে সবাইকে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ১১ আগস্ট থেকে দোকানপাট, অফিস খোলা থাকবে এবং যানবাহন চলবে।

খিলগাঁও, বিশ্বরোড, মগবাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তল্লাশি চৌকিগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি আছে। তবে তৎপরতা নেই। পথচারীরা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখী হচ্ছেন না। উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী, সায়েদাবাদ, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষকে চলাচল করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বুধবার নগরীতে আগের দিনের চেয়ে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি ছিল। সড়কজুড়ে রিকশা এবং মোটরসাইকেলের আধিক্য দেখা গেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন বাস-মিনিবাস ব্যানার লাগিয়ে কলকারখানায় শ্রমিক আনা-নেওয়ার কথা বলে যাত্রী টানছে। এসব গণপরিবহণে যাত্রীতে ঠাসা। মানা হচ্ছে না ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ করে নগরীর মুরাদপুর থেকে হাটহাজারী সড়কে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যাই বেশি। একইভাবে বহদ্দারহাট থেকে রাস্তার মাথা, অক্সিজেন থেকে কুয়াইশ মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে রাঙ্গুনিয়া, কালুরঘাট থেকে পটিয়া, শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়া ও বোয়ালখালী পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি টেম্পোসহ বিভিন্ন ছোট আকারের গণপরিবহণ চলাচল করছে। এ ছাড়াও নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় লকডাউনের মধ্যেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন।

১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী কলকারখানা খোলার পর থেকে মূলত কঠোর লকডাউন আর কঠোর নেই। সব ক্ষেত্রেই শিথিল হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভ্যানে করে মানুষ চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ভ্যানচালকদের দৌলতদিয়া ঘাটে যেতে পরামর্শ দেন পুলিশ।

পাংশা থেকে আসা যাত্রী আজিবর বলেন, একদিকে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি, অন্যদিকে গণপরিবহণ বন্ধ, তাই ঢাকা যেতে ভ্যানে চড়ে বসেছি। তিনি বলেন, করোনার চেয়েও পেটের ক্ষুধার জ্বালা অনেক বড়। কাজে যেতে না পারলে চাকরি থাকবে না।

কঠোর লকডাউনের ১৪তম দিন

অবাধ চলাচলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

যাতায়াতের বাহন রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরবাইক
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলেছে। এ সুযোগে দোকানপাট, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। এ কারণে মানুষ বাইরে বের হচ্ছে। আর তাদেরকে পরিবহণ করতে রিকশা, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে। বাস না চলায় বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে এসব পরিবহণেই চলছেন তারা। বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে এই দৃশ্য দেখা গেছে। চেকপোস্টগুলোয় দায়িত্বে থাকা পুলিশ এসব পরিবহণ চলাচলে বাধা দেয়নি। তবে ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মামলা দিয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কাওরান বাজার, বাংলামোটর এলাকা ঘুরে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ বড় বাধা ছাড়াই চলাচল করেছেন। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে তাদের।

বুধবার সকাল ৭টায় জরুরি প্রয়োজনে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কুড়িল চৌরাস্তায় যান নান্নু মিয়া দম্পতি। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। এজন্য গুনতে হয়েছে ১৫শ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখানে তাদের দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হয়েছে। নান্নু মিয়া জানান, আমার মেয়ে সরকারি একটি সংস্থায় চাকরি করে। আজ (বুধবার) তার চাকরিতে যোগদান বাধ্যতামূলক ছিল। সে কারণে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও এসেছি।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আরও পাঁচদিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে এ তথ্য জানান বৈঠকের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, দোকানপাট খোলা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টিকা নিয়ে খুলতে হবে। নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে সবাইকে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ১১ আগস্ট থেকে দোকানপাট, অফিস খোলা থাকবে এবং যানবাহন চলবে।

খিলগাঁও, বিশ্বরোড, মগবাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তল্লাশি চৌকিগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি আছে। তবে তৎপরতা নেই। পথচারীরা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখী হচ্ছেন না। উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী, সায়েদাবাদ, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষকে চলাচল করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বুধবার নগরীতে আগের দিনের চেয়ে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি ছিল। সড়কজুড়ে রিকশা এবং মোটরসাইকেলের আধিক্য দেখা গেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন বাস-মিনিবাস ব্যানার লাগিয়ে কলকারখানায় শ্রমিক আনা-নেওয়ার কথা বলে যাত্রী টানছে। এসব গণপরিবহণে যাত্রীতে ঠাসা। মানা হচ্ছে না ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ করে নগরীর মুরাদপুর থেকে হাটহাজারী সড়কে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যাই বেশি। একইভাবে বহদ্দারহাট থেকে রাস্তার মাথা, অক্সিজেন থেকে কুয়াইশ মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে রাঙ্গুনিয়া, কালুরঘাট থেকে পটিয়া, শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়া ও বোয়ালখালী পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি টেম্পোসহ বিভিন্ন ছোট আকারের গণপরিবহণ চলাচল করছে। এ ছাড়াও নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় লকডাউনের মধ্যেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন।

১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী কলকারখানা খোলার পর থেকে মূলত কঠোর লকডাউন আর কঠোর নেই। সব ক্ষেত্রেই শিথিল হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভ্যানে করে মানুষ চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ভ্যানচালকদের দৌলতদিয়া ঘাটে যেতে পরামর্শ দেন পুলিশ।

পাংশা থেকে আসা যাত্রী আজিবর বলেন, একদিকে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি, অন্যদিকে গণপরিবহণ বন্ধ, তাই ঢাকা যেতে ভ্যানে চড়ে বসেছি। তিনি বলেন, করোনার চেয়েও পেটের ক্ষুধার জ্বালা অনেক বড়। কাজে যেতে না পারলে চাকরি থাকবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন