পিয়াসার সহযোগী মিশু অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার
jugantor
র‌্যাবের অভিযান
পিয়াসার সহযোগী মিশু অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মডেল পিয়াসার অন্যতম সহযোগী শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ১টি অস্ত্র, ছয় রাউন্ড গোলাবারুদ, ১৩ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, একটি গাড়ি, সিসার সরঞ্জামাদি, দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ৪৯ হাজার ৫০০ ভারতীয় জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, রাজধানী ঢাকার গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। চক্রে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন আভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়া বিদেশে প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করে তারা। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্য দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করে। পার্টিতে ক্লাইন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে সেই ছবি দিয়ে ব্লাকমেইল করে চক্রটি।

র‌্যাব জানায়, পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে তারা ক্লাইন্টের চাহিদা/পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গ্রেফতারকৃতরা তাদের এই অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় (গাড়ির ব্যবসা, আমদানি ও গরুর ফার্ম ইত্যাদি) বিনিয়োগ করেছে। এই ব্যবসায় চক্রের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও বিনিয়োগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ব্যবসায়িক কাঠামোতে অস্বচ্ছতা রয়েছে। র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান নামি/দামি ব্রান্ডের গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তার ব্যক্তিগত দুটি রেঞ্চ রোভার, এ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন ও ফেরারিসহ পাঁচটি গাড়ি রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করে থাকেন। আর জিসানের নিজ এলাকায় একটি গরুর ফার্ম রয়েছে। যেখানে অবৈধ অনুমোদিত ব্রামান গরু লালন-পালন করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ইতোপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেফতার হন। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এর আগে রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয় মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। এরপর আদালতে উপস্থাপন করা হলে উভয়ের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

র‌্যাবের অভিযান

পিয়াসার সহযোগী মিশু অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মডেল পিয়াসার অন্যতম সহযোগী শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ১টি অস্ত্র, ছয় রাউন্ড গোলাবারুদ, ১৩ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, একটি গাড়ি, সিসার সরঞ্জামাদি, দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ৪৯ হাজার ৫০০ ভারতীয় জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, রাজধানী ঢাকার গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। চক্রে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন আভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়া বিদেশে প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করে তারা। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্য দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করে। পার্টিতে ক্লাইন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে সেই ছবি দিয়ে ব্লাকমেইল করে চক্রটি।

র‌্যাব জানায়, পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে তারা ক্লাইন্টের চাহিদা/পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গ্রেফতারকৃতরা তাদের এই অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় (গাড়ির ব্যবসা, আমদানি ও গরুর ফার্ম ইত্যাদি) বিনিয়োগ করেছে। এই ব্যবসায় চক্রের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও বিনিয়োগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ব্যবসায়িক কাঠামোতে অস্বচ্ছতা রয়েছে। র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান নামি/দামি ব্রান্ডের গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তার ব্যক্তিগত দুটি রেঞ্চ রোভার, এ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন ও ফেরারিসহ পাঁচটি গাড়ি রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করে থাকেন। আর জিসানের নিজ এলাকায় একটি গরুর ফার্ম রয়েছে। যেখানে অবৈধ অনুমোদিত ব্রামান গরু লালন-পালন করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ইতোপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেফতার হন। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এর আগে রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয় মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। এরপর আদালতে উপস্থাপন করা হলে উভয়ের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন