মৃতের ৬৭ ভাগ পুরুষ ৩২.৭৮ নারী
jugantor
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৪১ চিহ্নিত ১৩৮১৭
মৃতের ৬৭ ভাগ পুরুষ ৩২.৭৮ নারী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ভয়াবহরূপ নিয়েছে করোনা। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র দাবিয়ে বেড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। দেশের সব অঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে কেউ না কেউ জ্বর-কাশি ও ঠান্ডায় আক্রান্ত। অন্দরমহলে থাবা বসিয়েছে করোনা। সাম্প্রতিককালে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে নারী মৃত্যু। সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যুর ৬৭ দশমিক ২২ শতাংশ পুরুষ আর নারী ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো মৃতের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৮ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ মারা গেছে এক হাজার ৯৮৮ জন। আর নারী এক হাজার ৫০৫ জন। দুই সপ্তাহে মোট মৃতের ৫৬ দশমিক ৯১ শতাংশ পুরুষ। আর নারী ৪৩ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। বুধবার মোট মৃতের ১২৫ জন পুরুষ আর নারী ১১৬ জন। শুধু মৃত্যু নয়, কয়েকদিনে রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে যেসব মুমূর্ষু রোগী আসছেন তাদের বেশির ভাগই নারী।

এদিকে দেশে করোনায় মৃত্যু, সংক্রমণ ও শনাক্তের হার কিছুটা কমছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন মারা যায় ২৪৬ জন। ২৭ জুলাই সর্বাধিক ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৩৮ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। একদিনে আরও শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮১৭ জন। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ৭৭৬ জন। যদিও আগের দিনের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯ হাজার ৯১০। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সরকারি হিসাবে একদিনে সেরে উঠেছেন ১৬ হাজার ১১২ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৭ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের মাত্রা অন্য যে কোনো ধরনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামগঞ্জে এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অনেক এলাকায় ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গ। অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছে এ ভাইরাস। গ্রামগঞ্জে নারীদের করোনা উপসর্গ দেখা দিলেও তারা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে পড়ে তখন তাড়াহুড়া করে হাসপাতালে যান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হাসপাতালমুখী হওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে নারী মৃত্যু বেড়ে গেছে।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হয়। এর দশ দিন পর প্রথম মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ মহামারিতে শুরু থেকে পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু কম ছিল। পুরুষের চেয়ে নারী ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বলে তাদের মৃত্যু কম হয়েছে- এমন দাবিও করেছেন অনেকে। তাছাড়া পুরুষের চেয়ে নারীরা কাজের ক্ষেত্রে ঘরের বাইরে কম বের হন। এ কারণে পুরুষের চেয়ে নারী সংক্রমণের হারও কম। ফলে মৃত্যুও কম হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭০৫টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩২টি, জিন এক্সপার্ট ৫৩টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৫২০টি। এসব ল্যাবে ৫১ হাজার ৯২০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫১৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৩টি। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ১২ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ১৮৫, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৭ ও বাড়িতে ১৮ জন মারা গেছেন। মৃতাবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় একজনকে। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯৩ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৮, রাজশাহী বিভাগে ১২, খুলনা বিভাগে ৩৬, বরিশাল বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে পাঁচজন, রংপুর বিভাগে ১৫ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন আছেন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শত বছরের ঊর্ধ্বে দুজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পাঁচজন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৪১ চিহ্নিত ১৩৮১৭

মৃতের ৬৭ ভাগ পুরুষ ৩২.৭৮ নারী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ভয়াবহরূপ নিয়েছে করোনা। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র দাবিয়ে বেড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। দেশের সব অঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে কেউ না কেউ জ্বর-কাশি ও ঠান্ডায় আক্রান্ত। অন্দরমহলে থাবা বসিয়েছে করোনা। সাম্প্রতিককালে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে নারী মৃত্যু। সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যুর ৬৭ দশমিক ২২ শতাংশ পুরুষ আর নারী ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো মৃতের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৮ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ মারা গেছে এক হাজার ৯৮৮ জন। আর নারী এক হাজার ৫০৫ জন। দুই সপ্তাহে মোট মৃতের ৫৬ দশমিক ৯১ শতাংশ পুরুষ। আর নারী ৪৩ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। বুধবার মোট মৃতের ১২৫ জন পুরুষ আর নারী ১১৬ জন। শুধু মৃত্যু নয়, কয়েকদিনে রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে যেসব মুমূর্ষু রোগী আসছেন তাদের বেশির ভাগই নারী।

এদিকে দেশে করোনায় মৃত্যু, সংক্রমণ ও শনাক্তের হার কিছুটা কমছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন মারা যায় ২৪৬ জন। ২৭ জুলাই সর্বাধিক ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৩৮ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। একদিনে আরও শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮১৭ জন। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ৭৭৬ জন। যদিও আগের দিনের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯ হাজার ৯১০। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সরকারি হিসাবে একদিনে সেরে উঠেছেন ১৬ হাজার ১১২ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৭ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের মাত্রা অন্য যে কোনো ধরনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামগঞ্জে এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অনেক এলাকায় ঘরে ঘরে করোনা উপসর্গ। অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছে এ ভাইরাস। গ্রামগঞ্জে নারীদের করোনা উপসর্গ দেখা দিলেও তারা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে পড়ে তখন তাড়াহুড়া করে হাসপাতালে যান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হাসপাতালমুখী হওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে নারী মৃত্যু বেড়ে গেছে।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হয়। এর দশ দিন পর প্রথম মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ মহামারিতে শুরু থেকে পুরুষের চেয়ে নারী মৃত্যু কম ছিল। পুরুষের চেয়ে নারী ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বলে তাদের মৃত্যু কম হয়েছে- এমন দাবিও করেছেন অনেকে। তাছাড়া পুরুষের চেয়ে নারীরা কাজের ক্ষেত্রে ঘরের বাইরে কম বের হন। এ কারণে পুরুষের চেয়ে নারী সংক্রমণের হারও কম। ফলে মৃত্যুও কম হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭০৫টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩২টি, জিন এক্সপার্ট ৫৩টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৫২০টি। এসব ল্যাবে ৫১ হাজার ৯২০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫১৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৩টি। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ১২ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ১৮৫, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৭ ও বাড়িতে ১৮ জন মারা গেছেন। মৃতাবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় একজনকে। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯৩ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৮, রাজশাহী বিভাগে ১২, খুলনা বিভাগে ৩৬, বরিশাল বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে পাঁচজন, রংপুর বিভাগে ১৫ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন আছেন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শত বছরের ঊর্ধ্বে দুজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পাঁচজন রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন