আ’লীগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল কাদের, বিএনপিতে মওদুদ

  মো. হানিফ, নোয়াখালী ও জাফর উল্লাহ, কোম্পানীগঞ্জ ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী-৫ আসন

জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৫ আসনে ভোটের প্রচার শুরু হয়ে গেছে। দুই উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে লড়াই জমজমাট হয়ে উঠবে বলে ধারণা স্থানীয় ভোটারদের। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে এ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কারণেই। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষটি প্রায় নিশ্চিত। দুই দলের এ দুই নেতার মধ্যে প্রাণবন্ত লড়াই দেখার প্রতিক্ষায় স্থানীয়রা।

৩ লাখ ৬১ হাজার ভোটারসমৃদ্ধ এ নির্বাচনী এলাকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের অনুসারী নেতারা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, আলোচনা সভা, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। নির্বাচনী এলাকার মোড়ে মোড়ে ঝুলছে প্রার্থীদের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ভোটাররাও উজ্জীবিত। চায়ের আড্ডায় থাকছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও জয়-পরাজয় নিয়ে।

এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একচ্ছত্র কোনো প্রভাব নেই। বিশেষ করে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ এমপি হন। ১৯৯৬ সালে নোয়াখালীতে হেরে মওদুদ আহমদ বগুড়া থেকে এমপি হন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে এমপি হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সবশেষ ২০১৪ সালে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে যিনি বিজয়ী হবেন তার দল ক্ষমতায় গেলে তিনিই প্রভাবশালী মন্ত্রী হবেন। তবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। গত দুই টার্ম ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। নোয়াখালী-৫ আসনের দুই উপজেলায় চেয়ারম্যানের পদটিও আওয়ামী লীগের দখলে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আগামী নির্বাচন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। ভোট সুষ্ঠু করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সব নিবন্ধিত দলকে অংশগ্রহণ করতে একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছেন। সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়াটাকে আমি আনন্দের মনে করি না।

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুন নবী চৌধুরী বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। নির্বাচনী এলাকার সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া। রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মন্ত্রীর ঘন ঘন এলাকায় ছুটে আসায় মানুষ তার প্রতি সন্তুষ্ট। আগামী নির্বাচনে ৮৫ ভাগ ভোট পেয়ে তিনি এমপি হবেন।

বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রিয়াজুল হক লিটন যুগান্তরকে জানান, এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান বেশ ভালো। মন্ত্রীর ঘন ঘন এলাকায় আসা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা থেকে শুরু করে এলাকার খোঁজখবর নেয়ায় সবাই বেশ সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আগামী নির্বাচনে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।

আগামী নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপি তার হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। এ লক্ষ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে প্রচার চালাতে গিয়ে কিছুটা বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিএনপি নেতাদের। নানামুখী চাপে থাকা বিএনপি যে কোনো মূলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। তবে বিএনপি বলছে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে। তবে নির্বাচন হতে হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া যাবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকায় মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। বিচারকরাও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। সাবেক প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশ থেকে বিতাড়িত করে হুমকি দেয়ায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অপরদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় জামিন দিলেও সরকারের ইশারায় পরে তা বাতিল করে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম যুগান্তরকে জানান, জোট সরকারের সময় সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ কবিরহাট উপজেলার পশ্চিমে বিসিক শিল্প নগরী, নোবিপ্রবি, নোয়াখালী জেলা জজ আদালত কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। মানুষ তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভুলে যায়নি। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন।

কবিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনও দেখা যাচ্ছে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা অংশগ্রহণ করব এবং ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। কবিরহাট পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণ থেকে শুরু করে শত শত শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.