ঢামেক হাসপাতাল

মর্গ থেকে শিশুর মুখের মাংস চুরি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা শিশুর লাশের মুখ থেকে মাংস কেটে নেয়ার অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা সোহাগ হাওলাদার। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার দেড় বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে লাশ বের করার সময় দেখা যায় শিশুটির মুখের বাম পাশের মাংস অনেকটাই কেটে নেয়া হয়েছে।

শিশুটির পরিবার জানায়, ২৫ এপ্রিল গরম ডালের মধ্যে শিশু সোহান পড়ে যায়। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গের ফ্রিজে রেখে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফ্রিজ থেকে লাশ বের করার সময় লাশের বাম চোয়ালের মাংস কেটে নেয়ার দৃশ্য দেখতে পায় স্বজনরা। শিশুসন্তানের লাশের এ অবস্থা দেখে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন তারা।

শিশুটির চাচা মো. সুজন হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, লাশ ফ্রিজে রাখার আগে পুলিশকে দেখানোর জন্য ছবি তোলা হয়। পরে মর্গের ফ্রিজ থেকে লাশ বের করার সময় দেখা যায় লাশের মুখের বাম পাশের চোখের সীমানা থেকে কান পর্যন্ত মাংস কেটে নেয়া হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, মাংস কেটে নিয়ে অন্য লাশের শরীরে লাগাতে কেউ এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে লাশ কাটাছেঁড়া হবে জেনেই পুলিশের সহায়তায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। এটা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। কারও শরীর থেকে মাংস নিতে হলে অবশ্যই তার আত্মীয়-স্বজনের অনুমতি নিতে হবে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শাহ আলম তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, এ রকম একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। কী ঘটেছে সে ব্যাপারে আমি স্পষ্ট জানি না। প্রকৃত ঘটনা জানতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুলশান থানার এসআই ফারুক আলম যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য থানায় আবেদন করেন। আমরা সেখানে গিয়ে পদ্ধতিগত দিক ঠিক রেখে লাশ হস্তান্তর করি। লাশ পাওয়ার পর তার স্বজনরা জানান, শিশুটির মুখের মাংস কেটে নেয়া হয়েছে। পরে আমরা হাসপাতালের উপ-পরিচালককে বিষয়টি জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter