আগামী অর্থবছরের এডিপি

১৭ খাতে বরাদ্দের খসড়া চূড়ান্ত

  হামিদ-উজ-জামান ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরের (২০১৮-১৯) জন্য ১৭টি উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে মোট এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু এবং এ সেতুতে রেল

সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে পরিবহন খাতে। এছাড়া অগ্রাধিকার বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে।

বৃহস্পতিবার নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ওপর অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনে বর্ধিত সভায় এসব বরাদ্দের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১০ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই এডিপি অনুমোদন দেয়া হতে পারে। তবে বরাদ্দ দেয়াটাই বড় কথা নয়। সঠিকভাবে, সময়মতো এবং মানসম্মত বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে. মুজেরি।

এ প্রসঙ্গে তিনি যুগান্তরকে বলেন, সব খাতেই প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তবে মূল কথা হল, কোন খাতটি আগে গুরুত্ব দেয়া হবে। আবার বরাদ্দ দেয়ার চেয়ে এর বাস্তবায়ন কতটুকু হবে, সেটা নিয়েও ভাবতে হবে। যদি মানসম্মত বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে বরাদ্দ যত বেশিই দেয়া হোক, তার সুফল মিলবে না।

সূত্র জানায়, কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে বর্ধিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রূপকল্প-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাস করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এরই মধ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) প্রণয়ন করা হয়েছে। তাতে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি- ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করে ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে উন্নয়ন নীতি-কৌশল ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মধ্যমেয়াদি কৌশল এবং লক্ষ্যগুলোর বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এডিপি। এ লক্ষ্যেই পরিকল্পনা কমিশন ৭ মার্চ এডিপি তৈরির নীতিমালা জারি করে। তার ভিত্তিতেই তৈরি হচ্ছে আগামী অর্থবছরের এডিপি। সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য ১৭টি খাতে যে বরাদ্দের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি খাতের বরাদ্দ হচ্ছে- সর্বোচ্চ পরিবহন খাতে ৪৫ হাজার ৪৪৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খাতে ২২ হাজার ৯৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৭ হাজার ৮৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা এবং অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চতুর্থ সর্বোচ্চ পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৬ হাজার ৬৯০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। শিক্ষার প্রসার ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৬ হাজার ৬২০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৪ হাজার ২১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ ১১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, যা ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি খাতে বরাদ্দ ৭ হাজার ৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। নদীভাঙন রোধ ও নদী ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পানিসম্পদ সেক্টরে বরাদ্দ ৪ হাজার ৫৯২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মানবসম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে গতিশীলতা আনতে জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ ৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক খসড়া বরাদ্দের মধ্যে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুকূলে ২৩ হাজার ৪৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে ২২ হাজার ৮৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনুকূলে ২০ হাজার ৮১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এরপর পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ৭২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ১৫৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ১১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৯ হাজার ৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ৩১২ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ৬ হাজার ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে ৫ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter