প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ

প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

চলতি অর্থবছরের এপ্রিলে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স বেড়েছে। এপ্রিলে রেমিটেন্স এসেছে ১৩২ কোটি ৭১ লাখ ডলার। যা মার্চের চেয়ে ২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার বেশি। আর গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এপ্রিলে ১০৯ কোটি ২৬ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এক হাজার ২০৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই রেমিটেন্স প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা বিদ্যমান ছিল। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দীর্ঘ অস্থিরতা ও তেলের দাম পড়ায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়া। এতে তারা দেশে কম পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য কম থাকায় প্রবাসী আয় কমে গেছে। তাছাড়া ব্যাংকের তুলনায় খোলা বাজারে ডলারের মূল্য বেশি থাকায় ভিন্ন উপায়ে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ঢুকছে। তৃতীয়ত, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহারে হুন্ডিওয়ালারা অবৈধ উপায়ে টাকা দ্রুত প্রবাসীর আত্মীয়ের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আর এ তৃতীয় কারণকেই সবচেয়ে ভয়াবহ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনকারী বিকাশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পর থেকে আবার রেমিটেন্স বাড়তে শুরু করেছে। তাছাড়া ডলারের দামও এখন ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার ও আগস্টে ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স আসে। তবে সেপ্টেম্বরে আসে মাত্র ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আবার অক্টোবরে বেড়ে যায় রেমিটেন্স আসার পরিমাণ। সে মাসে আসে ১১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এরপর নভেম্বরে ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ১১৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ১৩৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্স আসে ১১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিলে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৩২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। এ মাসে বিশেষায়িত খাতের ব্যাংক দুটির মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ডলার। তথ্যে আরও দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এপ্রিলে ৯৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৪১ লাখ ডলার।