কেসিসি নির্বাচন

সকালে মঞ্জুর প্রচারণা বন্ধ, দুপুরে ফের শুরু

  খুলনা ব্যুরো ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নেতাকর্মীদের আটক, বাড়ি বাড়ি পুলিশি তল্লাশি এবং প্রচারকাজে আওয়ামী লীগের বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে দুপুরের পর ফের প্রচারণা শুরু করেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মঞ্জুর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে পরাজয়ের ভয়ে দিশেহারা হয়ে বিএনপির প্রার্থী মিথ্যাচার করছেন, আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে পালাতে চাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ প্রশাসন, কালো টাকা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দিয়ে জনগণের বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে চাইছে আওয়ামী লীগ। গত ৮ দিনের প্রচারণা ও মানুষের সমর্থন দেখে হঠাৎ করেই আমাদের আঘাত করা হচ্ছে। বুধবার রাত থেকে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ধানের শীষের প্রচারণা কাজে নিয়োজিত নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হয়রানি,তল্লাশি ও আটক করছে। এ পর্যন্ত ২১ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ কারণে আমরা সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি কোনো ভয়-ভীতিতেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না।

প্রয়োজনে মাথায় কাফনের কাপড় পরে মাঠে থাকবে।’

মঞ্জু বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খুলনায় আসার আগে গ্রেফতার, তল্লাশি বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতার সব নেতা-কর্মীর মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ৬ মে সিইসির অনুষ্ঠান বয়কট করব আমরা।’

নির্বাচনে মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে জাতীয় নির্বাচন হবে কি হবে না।’

বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরও বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ শহরের প্রান্তসীমা গল্লামারীতে এবং রূপসা ব্রিজ এলাকার একটি পেট্রল পাম্পে ষড়যন্ত্রমূলক সভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা খুলনায় এসে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান আলিম, ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনপিপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন ইসা, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাঈদ আহম্মেদসহ স্থানীয় ২০ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন বিকালে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন দলটির কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক এসএম কামাল হোসেন মঞ্জুর সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ তালুকদার আবদুল খালেকের পক্ষে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপির অনেক কর্মী-সমর্থক ও কাউন্সিলর প্রার্থী নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছে। এ গণজোয়ার দেখে বিএনপির মেয়র প্রার্থী দিশেহারা হয়ে মিথ্যাচার করছেন। ধানের শীষের পরাজয় নিশ্চিত জেনে কৌশলে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্বাচনী কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিশ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করছে। তারই ধারাবাহিকতায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় ফায়দা নিতেই মঞ্জু মিথ্যা অপকৌশল অবলম্বন করেছেন।’

গ্রেফতারকৃত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে নগরীর ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আবু তালেব মোল্লা। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। খুলনা সিএসডি গুমাদের চাল আত্মসাৎকারী জুলফিকার আলী ভুট্টো পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। সম্প্রতি সে জেল থেকে বের হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধেও নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শেখ হারুনুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার, আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ২১ নেতা-কর্মী আটকের অভিযোগ : গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত বিএনপির ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

বিএনপির সূত্র দাবি করেছে, ধানের শীষের পক্ষে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে কাজ করা কর্মীদের ওপর চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। এ পর্যন্ত তাদের ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচার কাজের সঙ্গে যুক্ত।

এ ব্যাপারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসন নেতা-কর্মীদের ধানের শীষে প্রচারণা করতে দিচ্ছে না। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও প্রচারণা কাজে বাধা দিচ্ছে। মাইকিং করতে কয়েকটি ওয়ার্ডে নিষেধের হুমকি দেয়া হচ্ছে।’

জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সোনালী সেন বলেন, কেসিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২০ এপ্রিল থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার রাত থেকে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন বিএনপির পদ পদবিধারী। এদের বিরুদ্ধে নগরীর সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর থানায় মামলা আছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter