নতুন প্রার্থী চায় স্থানীয় আ’লীগ স্বস্তিতে বিএনপি

  মো. হানিফ, নোয়াখালী ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার হাতিয়া উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনে ভোটের প্রচার শুরু হয়ে গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নানা অসিলায় প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। নেতাদের কাছে দলীয় কর্মীদেরও কদর বেড়েছে। প্রার্থীদের তৎপরতা দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ভোটাররাও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে এলাকা। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও একক প্রার্থী নিয়ে স্বস্তিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩৬ জন। এ আসনে একক কোনো দলের আধিপত্য নেই সেভাবে। বিশেষ করে নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক অলি উল্লাহ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির বিতর্কিত ভোট, ’৯৬ সালের ১২ জুন ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিজয়ী হন বিশিষ্ট শিল্পপতি বিএনপি নেতা প্রকৌশলী ফজলুল আজিম। ২০০১ সালের ভোটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে এ আসনে বিজয়ী হন মোহাম্মদ আলী (স্বতন্ত্র)। আগামী নির্বাচনেও তিনি বিএনপির একক প্রার্থী। সবশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন সাবেক এমপি (স্বতন্ত্র) মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আওয়ামী লীগের আয়েশা ফেরদাউস। আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও আয়েশার বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যান আওয়ামী লীগের আমিরুল ইসলাম আমির। তবে বর্তমান এমপি আয়েশার স্বামী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। তার অনুগত বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন মুখ চাচ্ছে। গত এক বছর ধরে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদ আলী রাতুল। আগামী নির্বাচনে রাতুল আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী। এ আসনে জাতীয় পার্টিও প্রার্থী নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে। এ আসনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নবী উল্লাহ আসিফ। স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত প্রায় ৫ বছর এলাকার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ বর্তমান এমপি ও তার স্বামী মোহাম্মদ আলীকে দায়ী করছেন। তার উপর মোহাম্মদ আলীর বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ। ফলে আগামী নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দলীয় প্রার্থী বদলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় এমপি আয়েশা ফেরদাউসের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, হাতিয়া উপজেলায় আমি দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছি। আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিজয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারা চালু রাখব। নির্বাচন নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদ আলী রাতুলের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আগামী নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আমাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কেন্দ্রের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ রয়েছে। ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। আমার প্রতি সবারই সহানুভূতি রয়েছে। গত ১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করছি। অসহায়দের পাশে আছি। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ।

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, মাহমুদ আলী রাতুলই দলের যোগ্য প্রার্থী। কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি, অধ্যাপক অলি উল্লাহর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদ আলী রাতুলই দলের একমাত্র প্রার্থী। তার নেতৃত্বে পৌরসভা, বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা চলছে। এ আসনে রাতুলের বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, গত ৪ বছরে হাতিয়ায় সরকারের টিআর-কাবিখা, এলজিএসপি, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান এমপির স্বামীর অনুগতরা গুলি চালিয়ে আমাদের দলের ৬ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া আমাদের দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী রাতুলের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা নিয়ে বর্তমান এমপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এলাকায় মারামারি-কাটাকাটি চলছেই। সন্ত্রাস দমনে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল হালিম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, এমপি আয়েশার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার স্বামীর অনুগত জলদস্যুরা মেঘনা নদীতে জেলেদের কাছ থেকে মাসে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। জায়গা দখল থেকে শুরু করে নানান বিতর্কিত কাজে তিনি জড়িত। প্রশাসনের রক্তচক্ষুও তাকে টলাতে পারেনি।

হাতিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, মাহমুদ আলী রাতুলের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। তার নেতৃত্বে আমরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি সব সময় অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, হাতিয়া হচ্ছে জাতীয়তাবাদী দলের শক্ত ঘাঁটি। এ আসন থেকে বিএনপির ফজলুল আজিম তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাই। এ লক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় সাবেক এমপি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এমপি থাকার সময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশেই ছিলাম। বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করেছি। এ উপজেলায় সরকারের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের দৃশ্যমান কাজ করায় অসহায় মানুষের কাছে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ইনশাআল্লাহ আমি বিপুল ভোটে আবারও বিজয়ী হব, এটা আমার বিশ্বাস। আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল হক খোকনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রকৌশলী ফজলুল আজিম এমপি থাকার সময় দলকে সংগঠিত করেছেন। ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এলাকায়। আগামী নির্বাচনে তার মাধ্যমেই আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি গণসংযোগ ও নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করছেন।

জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক নবী উল্লাহ আসিফ যুগন্তরকে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা করছি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.