সামনে রমজান

কারণ ছাড়াই বাড়ছে পেঁয়াজ বেগুনের দাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারণ ছাড়াই বাড়ছে পেঁয়াজ বেগুনের দাম

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রমজান সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজ ও বেগুনের দাম। রাজধানীর প্রায় প্রত্যেকটি খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

আর ১৫ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা। এদিকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে দাম আকাশচুম্বী। বিক্রেতাদের দাবি, নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে না। যার কারণে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। তাই দাম একটু বেশি।

অন্যদিকে নতুন করে বেড়েছে রসুন ও আদার দাম। আর গত সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজিতে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা। এ ছাড়া চাল, ডাল ও তেলসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম ছিল স্থিতিশীল। শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে ১৪০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা।

অথচ কয়েকদিন আগে একই ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। শুক্রবার ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৭০০-৮০০ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হয়। এদিন ২৫০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হয়েছে ১৫০০-১৬০০ টাকা, যা বৈশাখ উপলক্ষে বিক্রি হয় ৮০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী রমজান আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশের দাম একটু বেশি। কারণ বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ নেই। বৈশাখ উপলক্ষে যা মজুদ করা ছিল তাও বিক্রি শেষ। তাই নদীতে মাছ ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত দাম এমনই থাকবে।’

এদিকে ভরা মৌসুমে বাজারে কোনো ঘাটতি না থাকলেও ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা শুক্রবার ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। এদিন চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, দেশি টমেটো ৬০ টাকা বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৫০ টাকা। বরবটি ৫৫-৬০ টাকা, করলা ৫৫ টাকা, শিম ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, পেঁপে ৩৫ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা বিক্রি হয়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা; যা সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা। এছাড়া রসুন কেজিপ্রতি ১০০-১১০ টাকা বিক্রি হয়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আদা বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

রাজধানীর রামপুরা বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছেই। বাজারে পর্যাপ্ত সবজি থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি সবজিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেড়ে গেছে। এছাড়া হঠাৎ করে রমজান আসার আগে বেগুনের দাম বেড়ে গেছে।

বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে এভাবে দাম বাড়াতে পারত না ব্যবসায়ীরা।’

এদিকে মাছের বাজারে ইলিশের দামে হেরফের হলেও অন্য মাছের দাম ছিল স্থিতিশীল। শুক্রবার চারটি এক কেজি ওজনের রূপচাঁদা মাছ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার টাকা এবং পাঁচটির এক কেজি বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা।

রুই ও কাতলা প্রতি কেজি ২৩০-৩০০ টাকা, চিংড়ি মাছ বড় আকারে প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ৭০০ টাকা এবং ছোট আকারের ৫০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা, কই মাছ ১৪০-১৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়।

সিলভার কার্প ১০০-১২০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১০০-১২০, নলা ১২০-১৩০ টাকা এবং সরপুঁটি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়।

শুক্রবার গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৭০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৮০ টাকা, ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ১৫০ টাকা এবং সাদা লেয়ার মুরগি ১৩০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter