ভুল চিকিৎসা

কুমিল্লায় এক ঘণ্টায় ২ নবজাতকের মৃত্যু, ভুয়া গাইনি লাপাত্তা

ক্লিনিক ভাংচুর, এলাকায় উত্তেজনা

  কুমিল্লা ব্যুরো ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় এক ঘণ্টায় ২ নবজাতকের মৃত্যু, ভুয়া গাইনি লাপাত্তা

চান্দিনা উপজেলার নবাবপুর বাজারে একটি ক্লিনিকে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ‘নবাবপুর মেডিকেল সেন্টারে’ ভুল চিকিৎসায় দুই শিশুর মৃত্যুর পর ভুয়া গাইনি চিকিৎসক কামরুন্নাহার পালিয়ে গেছেন। কামরুন্নাহারের সহযোগী ইয়াসমিনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।

নবাবপুর মেডিকেল সেন্টারে জন্মগ্রহণের পরপরই উপজেলার বিচুন্দাইর-করইয়ারপাড়া গ্রামের প্রবাসী সফিকুল ইসলামের নবজাতক (ছেলে) এবং একই উপজেলার কংগাই গ্রামের ওমর ফারুকের নবজাতক (ছেলে) মারা যায়।

এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ক্লিনিকে ভাংচুর চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নবজাতক দুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কংগাই গ্রামের ওমর ফারুক জানান, কথিত গাইনি চিকিৎসক কামরুন্নাহার বুধবার বিকালে তার স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেন। বেলা ১১টার দিকে তাকে ওই ক্লিনিকে নেয়া হলে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ছেলে হয়েছে বলে জানানো হয়।

কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর জানানো হয়, তার স্ত্রীর সাইড সিজারে সন্তান ডেলিভারি হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং সন্তান মারা গেছে।

অপর শিশুর খালা কুলসুম জানান, ছোট বোনের প্রসব ব্যথা শুরু হলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নবাবপুর মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হয়। বেলা ২টার দিকে শিশুটির জন্ম হয়। কিন্তু তার শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল।

বিষয়টি কামরুন্নাহারকে জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তার না আপনারা ডাক্তার’? বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসক একটি কাগজে ইনজেকশনের নাম লিখে দিয়ে তা নিয়ে আসতে বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, শিশুটির অবস্থা ভাল নয়। ইনজেকশন আনলে তা শিশুটির শরীরে পুশ করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দুটি নবজাতকের মৃত্যুর পর কামরুন্নাহার ‘বাজার থেকে আসছি’ বলে পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। কথিত ডা. কামরুন্নাহার আত্মগোপন করায় তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাছিমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের কৈলাইন গ্রামের ডিপ্লোমা চিকিৎসক খলিলুর রহমান পলাশ প্রায় ১০ বছর আগে নবাবপুর বাজারে ক্লিনিকটি চালু করেন। এরপর তার স্ত্রী নার্স কামরুন্নাহারকে ওই ক্লিনিকে গাইনি চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ করেন।

চার বছর আগে খলিলুর রহমানের সঙ্গে কামরুন্নাহারের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে ওই ক্লিনিক কামরুন্নাহার চালিয়ে আসছেন। ‘নবাবপুর মেডিকেল সেন্টার’ নামে সাইনবোর্ডে ডা. খলিলুর রহমানের নাম থাকলেও বিবাহ বিচ্ছেদের পর কামরুন্নাহার নিজের নামে প্যাড তৈরি করেন। ‘নাহার কনসালটেশন সেন্টার’ এবং নিজের নাম ‘ডা. আর এ কামরুন্নাহার’ নামে প্যাড ব্যবহার করে আসছিলেন তিনি। প্যাডে নামের পাশে লেখেন ‘সনোলজিস্ট, মেডিসিন, মা ও শিশু, গাইনি, প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ’।

গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অকাল গর্ভপাত, নরমাল ডেলিভারি, সিজার ডেলিভারিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। কয়েক বছরে তার অপচিকিৎসায় অনেক নবজাতক ও মায়ের মৃত্যু হলেও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সব ম্যানেজ করে নেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.