এমভি তুহিনা থেকে পাঁচ দিন পর চাল খালাস শুরু
jugantor
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ
এমভি তুহিনা থেকে পাঁচ দিন পর চাল খালাস শুরু
সাড়ে ২০ হাজার টন চাল নিয়ে অপেক্ষায় আরও এক জাহাজ

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচ দিন বসে থাকার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে আনা ৯ হাজার ৬৭৮ টন চাল খালাস শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে ‘এমভি তুহিনা’ নামের জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়। ভারত থেকে জি টু জি ভিত্তিতে এ চাল আমদানি করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ভারত থেকে আমদানি করা ‘এমভি তানভিন ৪৫’ নামে আরেকটি জাহাজও চাল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কখন চাল খালাস শুরু করতে পারবে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। ওই জাহাজে চাল রয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টন। বহির্নোঙরে অপেক্ষার ৫ দিন পরও এ জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু করা যায়নি।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ‘জি টু জি’ চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ৯ হাজার ৬৭৮ টন সেদ্ধ চাল নিয়ে এমভি তুহিনা নামের একটি জাহাজ ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। একদিন পরই জাহাজটি থেকে চাল খালাস শুরুর কথা। কিন্তু জাহাজটি বহির্নোঙরে অলস বসে থাকে। ৪ দিন পর ১৮ আগস্ট জাহাজটিকে বন্দরের গ্রিন সাইলো জেটিতে বার্থিং দেওয়া হয়। বার্থিং দেওয়া হলেও সময়মতো নমুনা সংগ্রহ ও প্রতিবেদন না দেওয়ায় জাহাজটি থেকে চাল খালাস শুরু করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ বুধবার জাহাজটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বুধবার খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি (একজন সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমদানি করা চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। তা ল্যাবে পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষা করে চালের গুণগতমান ভালো ও খাওয়ার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার ওই জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়। এসব সরবরাহ করেছে ‘সেভেন সীস শিপিং লাইন্স’ নামে একটি শিপিং এজেন্ট।

শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬২১ টন চাল খালাস হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। একইভাবে ১৫ আগস্ট বহির্নোঙরে পৌঁছে ভারত থেকে আমদানি করা চালভর্তি আরেকটি জাহাজ- ‘এমভি তানভিন ৪৫’। জাহাজটিতে চাল রয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টন। বৃহস্পতিবার জাহাজটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসাবে এ কমিটিতে বন্দর কর্মকর্তা কিংবা ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতিনিধি হিসাবে সিএমএস ও কেমিস্ট বিভাগের সহকারী কেমিস্ট বহির্নোঙরে জাহাজে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহের প্রতিবেদন না পাওয়ায় ওই জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়নি। ভারত থেকে এ চাল আমদানি করেছে ‘ম্যানগো শিপিং লাইন্স’।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি কারা চাল খালাসের আগে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খাদ্য বিভাগের কেমিস্ট বিভাগ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন ভালো পাওয়া গেলেই চাল খালাস করা হয়। এ জন্য একটি কমিটিও রয়েছে।

চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক (সার্বিক) ফরিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘এমভি তুহিনা’ থেকে চাল খালাস শুরু হয়েছে। শুক্রবার সাইলো জেটিতে ৬২১ টন চাল খালাস করা হয়। জাহাজটি এখন বন্দরের জেটিতে এসেছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে এখান থেকে খালাস শুরু হবে।

চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের উপনিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা ‘এমভি তানভিন ৪৫’ জাহাজ থেকে বৃহস্পতিবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের কেমিস্ট শাখা থেকে এখনও প্রতিবেদন না পওয়া ও কাগজপত্র তৈরি না হওয়ায় জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু করা যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর খালাস শুরু হবে।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ

এমভি তুহিনা থেকে পাঁচ দিন পর চাল খালাস শুরু

সাড়ে ২০ হাজার টন চাল নিয়ে অপেক্ষায় আরও এক জাহাজ
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচ দিন বসে থাকার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে আনা ৯ হাজার ৬৭৮ টন চাল খালাস শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে ‘এমভি তুহিনা’ নামের জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়। ভারত থেকে জি টু জি ভিত্তিতে এ চাল আমদানি করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ভারত থেকে আমদানি করা ‘এমভি তানভিন ৪৫’ নামে আরেকটি জাহাজও চাল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কখন চাল খালাস শুরু করতে পারবে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। ওই জাহাজে চাল রয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টন। বহির্নোঙরে অপেক্ষার ৫ দিন পরও এ জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু করা যায়নি।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ‘জি টু জি’ চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ৯ হাজার ৬৭৮ টন সেদ্ধ চাল নিয়ে এমভি তুহিনা নামের একটি জাহাজ ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। একদিন পরই জাহাজটি থেকে চাল খালাস শুরুর কথা। কিন্তু জাহাজটি বহির্নোঙরে অলস বসে থাকে। ৪ দিন পর ১৮ আগস্ট জাহাজটিকে বন্দরের গ্রিন সাইলো জেটিতে বার্থিং দেওয়া হয়। বার্থিং দেওয়া হলেও সময়মতো নমুনা সংগ্রহ ও প্রতিবেদন না দেওয়ায় জাহাজটি থেকে চাল খালাস শুরু করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ বুধবার জাহাজটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বুধবার খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি (একজন সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমদানি করা চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। তা ল্যাবে পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষা করে চালের গুণগতমান ভালো ও খাওয়ার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার ওই জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়। এসব সরবরাহ করেছে ‘সেভেন সীস শিপিং লাইন্স’ নামে একটি শিপিং এজেন্ট।

শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬২১ টন চাল খালাস হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। একইভাবে ১৫ আগস্ট বহির্নোঙরে পৌঁছে ভারত থেকে আমদানি করা চালভর্তি আরেকটি জাহাজ- ‘এমভি তানভিন ৪৫’। জাহাজটিতে চাল রয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টন। বৃহস্পতিবার জাহাজটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসাবে এ কমিটিতে বন্দর কর্মকর্তা কিংবা ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতিনিধি হিসাবে সিএমএস ও কেমিস্ট বিভাগের সহকারী কেমিস্ট বহির্নোঙরে জাহাজে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহের প্রতিবেদন না পাওয়ায় ওই জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়নি। ভারত থেকে এ চাল আমদানি করেছে ‘ম্যানগো শিপিং লাইন্স’।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি কারা চাল খালাসের আগে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খাদ্য বিভাগের কেমিস্ট বিভাগ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন ভালো পাওয়া গেলেই চাল খালাস করা হয়। এ জন্য একটি কমিটিও রয়েছে।

চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক (সার্বিক) ফরিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘এমভি তুহিনা’ থেকে চাল খালাস শুরু হয়েছে। শুক্রবার সাইলো জেটিতে ৬২১ টন চাল খালাস করা হয়। জাহাজটি এখন বন্দরের জেটিতে এসেছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে এখান থেকে খালাস শুরু হবে।

চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের উপনিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা ‘এমভি তানভিন ৪৫’ জাহাজ থেকে বৃহস্পতিবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের কেমিস্ট শাখা থেকে এখনও প্রতিবেদন না পওয়া ও কাগজপত্র তৈরি না হওয়ায় জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু করা যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর খালাস শুরু হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন