কেসিসি নির্বাচন

আধুনিক নগরী গড়তে ভোট চান খালেক, গণতন্ত্রের বিজয়ে মঞ্জু

এ বছরই আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান হবে : ফারুক

  মোস্তফা কামাল আহমেদ, খুলনা ব্যুরো ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক তার প্রচারণার মূল সুর বেঁধেছেন সরকারের বাস্তবায়িত নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নগরীতে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে। শনিবার গণসংযোগকালে তিনি বলেন, খুলনাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক দলের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এদিন প্রচারে নেমে তিনি বলেন, জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এ সরকারের দুঃশাসন ও লুটপাটের জবাব দিতে চায়। ১৫ মে হবে একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার ও গণতন্ত্রের বিজয়ের দিন।

শনিবার সকালে মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পরও খুলনার অনেক এলাকা এখনও উন্নয়নবঞ্চিত। জলাবদ্ধতা, মাদক ও মশা খুলনা সিটির অন্যতম প্রধান সমস্যা। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর আমি এ সমস্যাগুলো দূরীকরণে ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু পরেরবার নির্বাচিত না হওয়ায় সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এবার মেয়র নির্বাচিত হলে ওই সমস্যার সমাধান করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের অন্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার উন্নয়ন হলেও নগর পিতার অভাবে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে খুলনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। বর্তমান মেয়র সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকায় বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বিদেশি সংস্থা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক। উন্নয়নের জন্য তিনি আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। সুতরাং খুলনাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। সকাল ৯টায় তিনি নগরীর ময়লাপোতাস্থ আমতলা মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এর আগে ভোরে তিনি সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা-২ এ কল্যাণ সমিতির সদস্যদের সঙ্গে এবং পরে ইয়াং বয়েজ ক্লাবে মতবিনিময় করেন।

গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থী খালেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ হায়দার আলী, জাসদ খুলনা মহানগর সভাপতি রফিকুল ইসলাম খোকন, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও বিসিবি পরিচালক শেখ সোহেল, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ আবদুল আজিজ প্রমুখ। বিকালে তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অবশিষ্ট অংশ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।

অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু শনিবার গণসংযোগকালে বলেন, সিটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে শাসক দলের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেপরোয়া আচরণ করছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য এসে খুলনার পুলিশ ও জনপ্রশাসনকে প্রভাবিত করেছেন। পুলিশ ও ডিবি লেলিয়ে দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে ধানের শীষের কর্মীদের। কিন্তু জনগণ এদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা পরিবর্তন চায়। তারা ভোটে ব্যালটের মাধ্যমে এই সরকারের দুঃশাসন ও লুটপাটের জবাব দিতে চায়। ১৫ মে হবে একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার ও গণতন্ত্রের বিজয়ের দিন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের রূপসা নদীর তীরে পাইকারি মাছবাজারে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে নগরীর বাজারঘাটের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সকালে তিনি পাইকারি মাছবাজারে গণসংযোগ শেষ করে রূপসা ফেরিঘাট, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, রূপসা শ্মশান রোড ও সংলগ্ন জনবসতি এলাকায় বসবাসকারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেন এবং নির্বাচনে ভোট চান।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট বজলার রহমান, মোল্লা আবুল কাশেম, সিরাজুল ইসলাম, বাগেরহাট জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন সেন্টু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, বিএনপি নেতা কাউন্সিলর প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান প্রমুখ।

ধানের শীষের প্রচারে ফারুক ও শাহজাহান : ২০১৮ সালকে গণতন্ত্র মুক্তির বছর উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক বলেন, এ বছরই আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান হবে, ইনশাআল্লাহ। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে এবং সেই ভোটে জনগণের নেত্রী খালেদা জিয়া পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর ১৫ মের নির্বাচনে খুলনাবাসীর একান্ত আপনজন নজরুল ইসলাম মঞ্জু মেয়র নির্বাচিত হবেন। শনিবার দিনভর নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডে কয়েক দফা গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, আজিজুল হাসান দুলু, একরামুল হক হেলাল, নাসির খান, কাউন্সিলর প্রার্থী সাব্বির আহমেদ, কামাল সিদ্দিকী, আকবর হোসেন, জামাল উদ্দিন মোড়ল, সৈয়দ বোরহান, শফিকুল ইসলাম শাহিন প্রমুখ।

এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম শনিবার নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডে দিনভর মঞ্জুর পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী নুরুজ্জামান বাবুল, খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, স ম আবদুর রহমান, শ্রমিক নেতা মুজিবর রহমান, হাবিব বিশ্বাস, কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রহমান ডিনো ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী মিসেস মনি প্রমুখ।

অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খোড়ার বস্তি হয়ে সার্জিক্যাল ক্লিনিক এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি নেতা এসএম শাহজাহান, শেখ ফারুক হোসেন, মেহেদী হাসান সোহাগ, হাসনা হেনা, আবু সাঈদ, গাজী আসলাম আজাদ, হুমায়ুন কবির বাবু, মো. বেল্লাল হোসেন, মো. আনিস, মামুন মোল্লা, বুলবুল আহমেদ, সেকেন্দার আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.