বিএনপি পাহাড়ে ঢুকে অশান্তির চেষ্টা করছে : ওবায়দুল কাদের

ভারতের কাছে নালিশ নয়, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাদের জন্য বসে থাকা যাবে না। দলটি নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে আছে। বিএনপি সবখানে ব্যর্থ। তাই তারা এখন কোটা সংস্কারে ঢুকে গেছে। পাহাড়ে ঢুকে সেখানে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে- এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত তৃণমূলের বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, হাতে সময় বেশি নেই। দলের অভ্যন্তরে যেসব সমস্যা আছে, এক মাসের মধ্যে এসব সমস্যা দূর করতে হবে। দলে কোনো ভেদাভেদ থাকলে চলবে না। আগামী কোরবানি ঈদের আগে নির্বাচন কেন্দ্রগুলোর কমিটি গঠন করতে হবে। পোলিং এজেন্ট ঠিক করতে হবে। এদের ট্রেনিং দেয়া হবে। এরই মধ্যে ঢাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়ে গেছে। দূরত্ব ঘুচিয়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সকালে শুরু হয়ে এ প্রতিনিধি সভা শেষ হয় বিকাল ৪টায়। বর্ধিত সভায় নগর আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাই ছিলেন এক মঞ্চে। সভায় বন্দরসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান নেতারা। একই সঙ্গে হাটহাজারী ও চান্দগাঁও সংসদীয় আসনটি পুনর্গঠনের ওপরও জোর দেন। দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও ওঠে আসে অনেক নেতার বক্তব্যে।

সভায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আমাদের দিল্লি সফরও চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে হয়নি। নওফেল, আমীন, বিপ্লব চট্টগ্রামের এ তিন সন্তান আমাদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমসাময়িককালের জনপ্রিয় একজন বড় রাজনৈতিক নেতা। তার কাছ থেকে যেখানে ৫ মিনিট সময় পাওয়া কঠিন, সেখানে তিনি আমাদের ৩২ মিনিট সময় দিয়েছেন। প্রাণ খুলে কথা বলেছেন। আমাদের মধ্যে অনেক সমস্যা থাকতে পারে। সেটা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাই আমরা সেসব বিষয়ে কথা বলিনি। নালিশ করিনি কারও বিরুদ্ধে। দেশকে অন্য কোনো দেশের কাছে বা রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে ছোট করিনি। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য সুষ্ঠু বণ্টনের কথা বলেছি।

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক।

তৃণমূলের বর্ধিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীন, নগর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, বদিউল আলম প্রমুখ। সভায় সাংগঠনিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন অনেকে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে হঠানো যাবে না। তারা জানে, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। তারা নয় বছরে ৯ মিনিটও সফল আন্দোলন করতে পারেনি। নয় মাসে আর কী করবে? বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। তাতে কি গণতন্ত্রের সূচি, সম্ভ্রম নষ্ট হয়েছে? তাদের কি লজ্জা নেই? তাদের আসলে লজ্জা-শরমের বালাই নেই। বিএনপি এখন আবারও থ্রেট দিচ্ছে। তারা নাকি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। বিএনপি কিন্তু নির্বাচনে না এলে দেশের সংবিধান সংশোধন করা হবে না। তারা নির্বাচনে না এলে কর্ণফুলীর সে াত থেমে থাকবে না, সাগরে জোয়ার বন্ধ হবে না। নির্বাচন যথাসময়ে হবে। এখন বিএনপির টার্গেট আওয়ামী লীগ নয়, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে তারা হটাতে চায়। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, তারা পড়াশোনা না করেই রাজনীতি করে। মুখস্থ রাজনীতি করে। নিজেদের মধ্যে ওরিয়েন্টেশন নেই। শুধু বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করলে হবে না, যা করতে হয় অকাট্য যুক্তি দিয়ে করতে হবে। বিএনপি এখন সবখানে ব্যর্থ। চট্টগ্রাম নগরে পাঁচটি থানা কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক নেই, ছয় ওয়ার্ডে রয়েছে দুটি করে কমিটি। ১৫ ওয়ার্ডে কমিটি নেই। এক মাসের মধ্যে এসব সমস্য দূর করার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দলে কোনো ভেদাভেদ থাকলে চলবে না। দল ভারি করার নামে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ধর্ম ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজদের আওয়ামী লীগে আনা যাবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দেশে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন করেছেন। এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উন্নয়নে ঘাটতি নেই। কিন্তু আচার-আচরণে ঘাটতি থাকলে চলবে না। দলের মধ্যে সৌজন্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে চট্টগ্রামের অবস্থান অতি সম্মানের জায়গায় আছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রাজনীতিকদের কাছে চট্টগ্রামের নেতৃত্ব বেশ প্রশংসনীয়। সভায় উপস্থিত সবাই নিজ নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নেতা ও অভিভাবক। তাই সবাই যদি ২০টি করে পরিবারকে আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, তাহলে দল আরও শক্তিশালী হবে। যারা আওয়ামী লীগ করে না, তাদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। তাদের কাছে গিয়ে আওয়ামী লীগের ভালো দিকগুলো বললে তারা অবশ্যই তা গ্রহণ করবে। তবে তাদের বোঝানোর মধ্যে সক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়া নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ওপর আস্থা রেখে যে কোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.