সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
jugantor
বিপৎসীমার উপরে সাত জেলায় আট নদী
সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
তিন অঞ্চলে চলছে বন্যা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দেশের উত্তর, মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা চলছে। ওই তিন অঞ্চলের পাঁচ নদী অন্তত ৮টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে বইছে। এতে অন্তত সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি একই সময়ে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের আরও দুটি জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। ফসলি জমিসহ বসতবাড়িতে পানি ওঠা শুরু করেছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বোরো চাষিরা। বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশের কারণে নিম্নাঞ্চলে লাগানো বোরো ধান, পাট ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি তলিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের সড়কে পানি ঢোকায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে বন্যার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন নদনদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। মূলত বন্যার পানি বঙ্গোপসাগরের দিকে যাওয়ার পথে নদীর তীরগুলো ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধান নদনদীগুলো সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত হচ্ছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, চীন, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির একটি অংশ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি আসে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা হয়ে। এছাড়া মেঘনা অববাহিকা ও গঙ্গা-পদ্মা হয়েও বেশ পানি আসে। এসব পানিই বাংলাদেশে বন্যার বড় কারণ।

এবার নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা হয়েছে। এই পানি গঙ্গা হয়ে পদ্মা এবং পরে তা মেঘনায় মিশছে। গঙ্গা ও পদ্মার কারণে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদনদীতে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গঙ্গা ও যমুনা মিলেছে। এই দুই নদীর কারণে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা চলছে। আর উল্লিখিত দুই অববাহিকার পাশাপাশি আপার মেঘনার (ভৈরব বাজারের উপরে যত নদী আছে) পানি চাঁদপুরে এসে মেঘনায় মিশছে।

বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর। ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলও বন্যাকবলিত হতে পারে। এসব জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, যমুনা, আত্রাই, পদ্মা ও গড়াই-আট স্থানে বিপৎসীমার উপরে আছে। সবচেয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। সেখানে পদ্মা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপরে আছে। কামারখালীতে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপরে আছে গড়াই। ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে এলাসিন পয়েন্টে ধলেশ্বরী বিপৎসীমা পার করতে পারে। তিস্তায় পানি প্রবাহ বেশি। তবে ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমা পার করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুড়িগ্রাম : ধরলা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও বেড়েছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। তিস্তা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৩১ সেমি, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারীতে ৩০ সেমি. এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি রয়েছেন। অধিকাংশ বাড়ির টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরের মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ৭ সেমি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ফরিদপুর সদরের তিনটি ইউনিয়নের পানিবন্দি গ্রাম ও পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। পানি বাড়ায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। বন্যার ঝুঁকিতে থাকা সদরের তিনটি ইউনিয়নের জন্য এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৪০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য ও ২০০ বস্তা (প্রতি গরুর জন্য এক বস্তা) গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিপৎসীমার উপরে সাত জেলায় আট নদী

সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

তিন অঞ্চলে চলছে বন্যা
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ফাইল ছবি

উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দেশের উত্তর, মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা চলছে। ওই তিন অঞ্চলের পাঁচ নদী অন্তত ৮টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে বইছে। এতে অন্তত সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি একই সময়ে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের আরও দুটি জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। ফসলি জমিসহ বসতবাড়িতে পানি ওঠা শুরু করেছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বোরো চাষিরা। বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশের কারণে নিম্নাঞ্চলে লাগানো বোরো ধান, পাট ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি তলিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের সড়কে পানি ঢোকায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে বন্যার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন নদনদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। মূলত বন্যার পানি বঙ্গোপসাগরের দিকে যাওয়ার পথে নদীর তীরগুলো ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধান নদনদীগুলো সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত হচ্ছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, চীন, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির একটি অংশ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি আসে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা হয়ে। এছাড়া মেঘনা অববাহিকা ও গঙ্গা-পদ্মা হয়েও বেশ পানি আসে। এসব পানিই বাংলাদেশে বন্যার বড় কারণ।

এবার নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা হয়েছে। এই পানি গঙ্গা হয়ে পদ্মা এবং পরে তা মেঘনায় মিশছে। গঙ্গা ও পদ্মার কারণে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদনদীতে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গঙ্গা ও যমুনা মিলেছে। এই দুই নদীর কারণে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা চলছে। আর উল্লিখিত দুই অববাহিকার পাশাপাশি আপার মেঘনার (ভৈরব বাজারের উপরে যত নদী আছে) পানি চাঁদপুরে এসে মেঘনায় মিশছে।

বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর। ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলও বন্যাকবলিত হতে পারে। এসব জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, যমুনা, আত্রাই, পদ্মা ও গড়াই-আট স্থানে বিপৎসীমার উপরে আছে। সবচেয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। সেখানে পদ্মা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপরে আছে। কামারখালীতে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপরে আছে গড়াই। ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে এলাসিন পয়েন্টে ধলেশ্বরী বিপৎসীমা পার করতে পারে। তিস্তায় পানি প্রবাহ বেশি। তবে ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমা পার করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুড়িগ্রাম : ধরলা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও বেড়েছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। তিস্তা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৩১ সেমি, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারীতে ৩০ সেমি. এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি রয়েছেন। অধিকাংশ বাড়ির টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরের মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ৭ সেমি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ফরিদপুর সদরের তিনটি ইউনিয়নের পানিবন্দি গ্রাম ও পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। পানি বাড়ায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। বন্যার ঝুঁকিতে থাকা সদরের তিনটি ইউনিয়নের জন্য এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৪০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য ও ২০০ বস্তা (প্রতি গরুর জন্য এক বস্তা) গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন